নির্বাচন সংক্রান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ রাজধানীর ২,১৩১টি ভোটকেন্দ্রকে দুই ভাগে ভাগ করে মোট ৫৫,০০০ কর্মী মোতায়েন করেছে। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ও সাধারণ ভোটকেন্দ্রের পার্থক্য নির্ধারণের মাধ্যমে প্রতিটি স্থানে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গঠন করা হয়েছে।
মহানগরের ১,৮২৮টি ভোটকেন্দ্রকে “গুরুত্বপূর্ণ” এবং বাকি ৩০৩টি ভোটকেন্দ্রকে “সাধারণ” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে চারজন পুলিশ সদস্য এবং সাধারণ কেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ কর্মী উপস্থিত থাকবে। একই স্থানে একাধিক কেন্দ্র থাকলে সেখানে পাঁচজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের সঙ্গে সঙ্গে ১০ জন আনসার সদস্য এবং একজন সহকারী সেকশন কমান্ডারও থাকবে, যাদের হাতে অস্ত্র থাকবে। এছাড়া কেন্দ্রীয় কর্মকর্তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একজন সশস্ত্র আনসার সদস্য অতিরিক্তভাবে নিয়োজিত থাকবে।
সকল দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের শরীরে বডি-ওর্ন ক্যামেরা সংযুক্ত থাকবে, যাতে কোনো গোলযোগ বা সহিংসতা ঘটলে তা রিয়েল-টাইমে নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও সংশ্লিষ্ট থানা থেকে পর্যবেক্ষণ করা যায় এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকবে, যা আইনগত প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে। বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও সরাসরি নজরদারির মাধ্যমে ভোটার ও প্রার্থীর নিরাপত্তা বজায় রাখা হবে।
নির্বাচনের সময় ঢাকা শহরে মোট ৫৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এই আদালতে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিযুক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মরত ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত থাকবেন।
সামগ্রিক সমন্বয় কাজের দায়িত্বে আছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের আইন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতাউল হক, যিনি জেলা জজ পদমর্যাদার অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, ভোটকেন্দ্রের আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। রাস্তাঘাটে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা অন্যান্য মামলায় ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হস্তক্ষেপ করবেন।
র্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমানের নির্দেশে র্যাব সদস্যরা নির্বাচনী টহলে অংশ নেবেন। ভোটকেন্দ্রে কোনো গোলযোগ বা সহিংসতা ঘটলে র্যাবের অ্যাপ-সক্ষম সদস্যরা তা জানিয়ে দ্রুত现场ে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্বাচন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর ভোটকেন্দ্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিদেশি পর্যবেক্ষক ও দেশীয়-বিদেশীয় গণমাধ্যমের উপস্থিতি বেশি হওয়ায় ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার মূল সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা রক্ষায় সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভোটদাতা, প্রার্থী ও পর্যবেক্ষকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফলকে বৈধতা প্রদান করা হবে।



