17 C
Dhaka
Thursday, February 12, 2026
Google search engine
Homeবিনোদন‘F1: দ্য মুভি’র সাউন্ড টিম লুইস হ্যামিল্টন ও মের্সেডিসের সঙ্গে মাইক্রোফোন স্থাপন...

‘F1: দ্য মুভি’র সাউন্ড টিম লুইস হ্যামিল্টন ও মের্সেডিসের সঙ্গে মাইক্রোফোন স্থাপন করে রেসের শব্দ সংগ্রহ করেছে

ফর্মুলা ১‑এর রেসিং দৃশ্যকে আগে কখনো না দেখা ভাবে সিনেমায় তুলে ধরতে চাওয়া ‘F1: দ্য মুভি’র নির্মাতারা, সাউন্ড এডিটিং দিক থেকে বিশেষ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। এই চ্যালেঞ্জের সমাধান হিসেবে সুপারভাইজিং সাউন্ড এডিটর আল নেলসন, যিনি তার কাজের জন্য অস্কার নোমিনেশনও পেয়েছেন, রেসের গতি ও গর্জনকে সরাসরি রেসকারের কাছ থেকে রেকর্ড করার পরিকল্পনা করেন। নেলসন ২০২৩ সালে সিলভারস্টোন সার্কিটে শুটিং শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে现场ে উপস্থিত হন এবং রেসের তীব্রতা ও শব্দের প্রকৃত অনুভূতি বুঝতে পারেন। তিনি উল্লেখ করেন, রেসের সময় হাজারো দর্শকের চিৎকার, গাড়ির ইঞ্জিনের গর্জন এবং গতি একসাথে এমন এক পরিবেশ তৈরি করে যা কেবল শোনার চেয়ে বেশি, তা শারীরিকভাবে অনুভূত হয়।

এই অভিজ্ঞতাকে চলচ্চিত্রে পুনর্নির্মাণের জন্য নেলসন ও তার দলকে ট্র্যাকের ঠিক পাশে মাইক্রোফোন স্থাপন করতে হয়। গাড়িগুলো এক কোটি ডলারের বেশি মূল্যের, তাই সেগুলোকে সহজে ধার নেওয়া বা সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এজন্য নেলসন বাধা ও ফেন্সের নিচে গিয়ে, ট্র্যাকের প্রান্তে ছোট মাইক্রোফোন ও রেকর্ডার বসিয়ে রেকর্ডিং শুরু করেন।

লুইস হ্যামিল্টন, যিনি সাতবারের ফর্মুলা ১ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং এই ছবির প্রোডিউসার, নেলসনকে মের্সেডিস টিমের পিট লেন ও গ্যারেজে প্রবেশের অনুমতি দেন। হ্যামিল্টনের সহায়তায় সাউন্ড টিমকে গাড়ির ইঞ্জিন, গিয়ার শিফট, টায়ার স্ক্র্যাচ এবং পিট স্টপের সূক্ষ্ম শব্দগুলো সরাসরি ক্যাপচার করার সুযোগ মিলেছে। গাড়ির ওজন, ব্যালেন্স এবং এয়ারফ্লো সবই সুনির্দিষ্টভাবে মাপা হয়, তাই অতিরিক্ত যন্ত্রপাতি যুক্ত করা কঠিন ছিল।

মের্সেডিস টিমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করে নেলসন দলটি রেস না চলার সময় গাড়িগুলোতে ক্ষুদ্র মাইক্রোফোন ও রেকর্ডার বসায়। এই যন্ত্রগুলোকে গাড়ির বডি, সাসপেনশন এবং ড্যাশবোর্ডের এমন স্থানে স্থাপন করা হয় যেখানে গতি বা পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব না পড়ে। রেকর্ডিং সেশনের সময় টেকনিশিয়ানরা গাড়ির সিস্টেমে হস্তক্ষেপ না করে, শুধুমাত্র শব্দ সংগ্রহের জন্য নির্দিষ্ট পয়েন্টে সেন্সর সংযুক্ত করেন।

নেলসন জানান, মাইক্রোফোনগুলোকে গাড়ির বডির ভিতরে ছোট গর্তের মাধ্যমে ঢুকিয়ে, ইঞ্জিনের গর্জন ও এক্সহস্টের রেজোন্যান্স সরাসরি ক্যাপচার করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া পিট লেনে গাড়ি পার্ক করার সময় টায়ার স্ক্র্যাচ, গিয়ারবক্সের ক্লিক এবং মেকানিকদের কাজের শব্দগুলোও আলাদা করে রেকর্ড করা হয়। এই সব উপাদান একত্রে সিনেমায় রেসের বাস্তবিকতা ও তীব্রতা পুনরায় তৈরি করতে সাহায্য করে।

সাউন্ড টিমের কাজের মূল লক্ষ্য ছিল দর্শকের কানে এমন একটি অভিজ্ঞতা দেওয়া, যা রেসের সময় গাড়ির পাশে বসে শোনার মতো অনুভূত হয়। রেকর্ড করা অডিও ফাইলগুলোকে পোস্ট‑প্রোডাকশনে মিক্স ও মাস্টার করে, সিনেমার দৃশ্যের সঙ্গে সুনিপুণভাবে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে ‘F1: দ্য মুভি’তে রেসের গতি, গর্জন এবং পিট স্টপের প্রতিটি সূক্ষ্ম শব্দ স্পষ্টভাবে শোনা যায়, যা আগে কোনো চলচ্চিত্রে দেখা যায়নি।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে ফিল্মমেকাররা দেখিয়েছেন, ক্রীড়া ইভেন্টের সাউন্ড ডিজাইনকে কতটা গভীরভাবে অনুসন্ধান করা যায়, যদি সঠিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন থাকে। লুইস হ্যামিল্টনের সহায়তা এবং মের্সেডিস টিমের সমর্থন ছাড়া এই ধরনের সাউন্ড ক্যাপচার সম্ভব হতো না। শেষ পর্যন্ত, চলচ্চিত্রটি রেসের তীব্রতা ও গতি শুধু চাক্ষুষ নয়, শ্রাব্য দিক থেকেও দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Hollywood Reporter – Movies
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments