17 C
Dhaka
Thursday, February 12, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসিলেট‑৩-এ ভোট গাঁথা অভিযোগে জামায়াত‑এ‑ইসলামি ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে ধাক্কা-ধাক্কি

সিলেট‑৩-এ ভোট গাঁথা অভিযোগে জামায়াত‑এ‑ইসলামি ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে ধাক্কা-ধাক্কি

সিলেট‑৩ নির্বাচনী এলাকার পুর্বা গৌরিপুর ইউনিয়নের মোয়াশি সরকারি প্রাইমারি স্কুল ভোটকেন্দ্রে বুধবার রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে ভোট গাঁথা নিয়ে জামায়াত‑এ‑ইসলামি ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে শারীরিক সংঘর্ষে রক্তপাত হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোটের শেষ সময়ে জামায়াত‑এ‑ইসলামি ইউনিয়ন আমীর তারিকুল ইসলামসহ কয়েকজন কর্মী কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ করেন। তৎক্ষণাৎ পার্শ্ববর্তী বিএনপি নেতারা তাদের ঘিরে ফেলে এবং ভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারকে নিয়ে তর্ক শুরু হয়।

বিরোধের মূল বিষয় ছিল ভোটের পাতা গাঁথা করা, যা উভয় দলই একে অপরের উপর অভিযোগ তুলেছে। বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আবদুল মালিকের মতে, ভোটের পাতা গাঁথা কাজটি রাত ১১টায় কেন্দ্রের দায়িত্বশীল অফিসারের সহায়তায় শুরু হয়।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুসলে উদ্দিন রাজু দাবি করেন, এই ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত ছিল এবং জামায়াত‑এ‑ইসলামি নেতাদেরকে এজেন্ট কার্ড গ্রহণের নামে কেন্দ্রের ভিতরে ডাকা হয়, পরে তারা অপ্রয়োজনীয় অভিযোগে ঘিরে ফেলা হয়।

বিরোধের সময়ে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, মোবাইল কোর্ট, সেনাবাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেহেদি হাসান জানান, দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার বিশদ পর্যালোচনা করা হবে।

সেই সময়ে ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কাজও সম্পন্ন হয়। মেহেদি হাসান উল্লেখ করেন, সেনা ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি পরিস্থিতি শীতল করতে সহায়ক হয়েছে এবং রেকর্ডেড ফুটেজের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে।

বিএনপি ও জামায়াত‑এ‑ইসলামি উভয় পক্ষই নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমকে সন্দেহের চোখে দেখেছে। মুসলে উদ্দিন রাজু বলেন, পুলিশ কার্যক্রমে অস্বচ্ছতা রয়েছে, তবে সেনা ও ম্যাজিস্ট্রেটের হস্তক্ষেপে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।

এই ঘটনার পর নির্বাচনী পরিবেশে উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিলেট‑৩ আসন্ন নির্বাচনে ১১টি পার্টির জোটের প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছে, এবং ভোট গাঁথা অভিযোগের ফলে জোটের অভ্যন্তরে সমন্বয় বজায় রাখতে চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে।

বিএনপি প্রার্থী মালিকের মন্তব্যে তিনি জোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন, আর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রতিনিধিরা দাবি করছেন, ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করার কোনো প্রচেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে শাস্তি দেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশনের দিক থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে পরবর্তী দিনগুলোতে ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত সিসিটিভি রেকর্ডের ভিত্তিতে একটি সমগ্র প্রতিবেদন প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।

এই ধরনের সংঘর্ষের ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে দেশের বিভিন্ন অংশে আলোচনা তীব্র হতে পারে, এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।

অবশেষে, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বিত কাজের মাধ্যমে পরিস্থিতি শীতল করা হয়েছে, তবে ভোট গাঁথা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে আইনগত প্রক্রিয়া ও প্রমাণের বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments