১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় জয়পুরহাট-২ আসনের কালাই উপজেলায় মাত্রাই বাজারে গৃহীত এক অভিযান শেষে ব্যালট পেপার ফটোকপি বিতরণে জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়। অভিযানে ফটোকপি দোকানের মালিক এবং দুই কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৫১ বছর বয়সী নির্মল চন্দ্র সরকার, যিনি মাত্রাই বাজারে ফটোকপি দোকান পরিচালনা করেন, এবং তার দুই সহকর্মী জহুরুল ইসলাম (২৬) ও মোস্তাফিজুর রহমান (৩০) অন্তর্ভুক্ত। সকলকে কালাই থানায় নিয়ে গিয়ে জড়িত অপরাধের অভিযোগে জড়িয়ে রাখা হয়।
কালাই থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে ব্যালট পেপার ফটোকপি করে তা জামাত ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিতরণ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের কাজ নির্বাচনকালীন সময়ে সংবেদনশীল অপরাধের শ্রেণীতে পড়ে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সংশ্লিষ্ট ফটোকপি দোকানে অভিযান চালায়। পরে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে কয়েকশো সংখ্যক ফটোকপি করা ব্যালট পেপার জব্দ করে। জব্দকৃত কাগজপত্রের মধ্যে ২৭২টি ফটোকপি পত্রের উল্লেখ রয়েছে।
দোকান মালিক নির্মল চন্দ্র সরকার জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন, তিনি মোট ২৭২টি ব্যালট পেপারের ফটোকপি তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, এই কপি গুলি কোনো অবৈধ উদ্দেশ্যে নয়, বরং নির্দিষ্ট কর্মীদের কাছে নমুনা হিসেবে প্রদান করা হয়েছিল।
কিছু প্রার্থীর কর্মী, যাদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, দাবি করেন, ভোটারদের ভুল ভোট বা ব্যালট নষ্ট হওয়া রোধে নমুনা কপি বিতরণ করা হয়েছিল। তাদের মতে, ফটোকপি তৈরিতে দোকান মালিকের সরাসরি দায়িত্ব নেই এবং এটি কেবল তথ্য সরবরাহের উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই ব্যাখ্যাকে স্বীকার করে না এবং বিষয়টিকে নির্বাচনকালীন স্পর্শকাতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তারা জোর দিয়ে বলছে, ভোটের স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা রক্ষার জন্য এমন কোনো কার্যক্রম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক শোনানির পর, রফিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার আদালতে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হবে এবং শাস্তি নির্ধারণের পর কারাগারে পাঠানো হবে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত তাদের জেলখানায় রাখা হবে।
অধিক তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো ফটোকপি করা ব্যালট পেপারের মূল উৎস ও বিতরণ চ্যানেল অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে। এছাড়া, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নজরদারি ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী নির্বাচনকালে অনুরূপ অপরাধ রোধে সতর্কতা বাড়িয়ে চলেছে। নির্বাচনের ন্যায্যতা ও গোপনীয়তা রক্ষার জন্য সকল প্রাসঙ্গিক সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, কালাই উপজেলায় ব্যালট পেপার ফটোকপি বিতরণে জড়িত তিনজনের গ্রেপ্তার নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোরতা ও আইনশৃঙ্খলার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থানকে প্রকাশ করে। বিষয়টি আদালতে শোনানির পর চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা করা হবে।



