অস্কার নোমিনেটেড সম্পাদক অলিভিয়ের বুগে কুটে, জোয়াকিম ত্রিয়ের পরিচালিত বহুমুখী ট্র্যাজিকমেডি ‘Sentimental Value’‑এর পোস্ট‑প্রোডাকশন কাজের সময় মূল তিন ঘণ্টা ত্রিশ মিনিটের রানের সময়কে দুই ঘণ্টার কাছাকাছি কমাতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। চলচ্চিত্রে এল ফ্যানিং অভিনীত র্যাচেল কেম্প, গ্যাস্টাভ বর্গের (স্টেলান স্কার্সগার্ড) ফরাসি চলচ্চিত্র উৎসবে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে গল্পের কেন্দ্রে আসে, আর রেনাতে রেইনসভে অভিনীত নোরা, বর্গের মেয়ে এবং মূল নায়িকা, তার গল্পকে কেন্দ্রীয় করে তোলার জন্য সম্পাদনা দলকে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
ত্রিয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কাজের সম্পর্ক থাকা কুটে, সাধারণত শুটিং শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে স্ক্রিপ্ট হাতে নেন। তিনি স্বীকার করেন যে, যদি আগে থেকেই স্ক্রিপ্ট বিশ্লেষণ করা হতো, তবে প্রোডাকশন খরচে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় সম্ভব হতো। এই অভিজ্ঞতা তাকে ভবিষ্যতে স্ক্রিপ্টের প্রাথমিক পর্যালোচনার গুরুত্বের দিকে মনোযোগী করেছে।
‘Sentimental Value’‑এর সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিল ফ্রান্সের একটি চলচ্চিত্র উৎসবের দৃশ্যটি সংক্ষিপ্ত করা। মূল রূপে এই অংশটি ২৬ মিনিটের বেশি সময় নেয়, যা পুরো চলচ্চিত্রের গতি ও টোনকে ভারী করে তুলছিল। কুটে এবং তার দল এই দৃশ্যটি কমপক্ষে দশ মিনিটের বেশি কাটতে হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে গল্পের মূল প্রবাহ বজায় থাকে।
প্রথম পূর্ণ কাটের সময়কাল প্রায় আট থেকে নয় ঘণ্টা ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত চলচ্চিত্রের মোট দৈর্ঘ্য দুই ঘণ্টা থেকে কিছুটা বেশি, ক্রেডিট বাদে, হয়ে দাঁড়ায়। এই সংকোচনের ফলে কাহিনীর গতি ত্বরান্বিত হয় এবং দর্শকের মনোযোগ বজায় থাকে। কুটে উল্লেখ করেন, “একই দৃশ্য ২৬ মিনিট ধরে রাখলে নোরার গল্পের সঙ্গে দর্শকের সংযোগ হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।”
সম্পাদনার সময় কুটে নিজেকে একধরনের এক্রোব্যাটের সঙ্গে তুলনা করেন, যিনি একসঙ্গে একাধিক থালা ঘোরাতে চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি কাট, প্রতিটি ট্রানজিশন যেন থালার ভারসাম্য রক্ষা করা। একটিও ভুল হলে পুরো কাঠামো নষ্ট হয়ে যায়।” এই রূপকটি তার কাজের জটিলতা ও সূক্ষ্মতা প্রকাশ করে।
চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত এক বিশেষ মন্টাজে প্রধান চরিত্রগুলোর মুখ একে অপরের ওপর স্তূপিত করা হয়েছে, যা মূল স্ক্রিপ্টে ছিল না। এই দৃশ্যটি ক্যামেরা-ইন-সিন টেকনিকের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। সিনেমাটোগ্রাফার ক্যাসপার টুক্সেন প্রথমে ক্লোজ‑আপ শট নেন, তারপর ফিল্মটি রিভাইন্ড করে আবার এক্সপোজার দেন, ফলে পূর্বের ছবির ওপর নতুন ছবি যুক্ত হয়।
এই “শিল্পী কমা” নামে পরিচিত মন্টাজটি ছবির চূড়ান্ত লকিংয়ের দুই সপ্তাহ আগে যুক্ত করা হয়। কুটে ব্যাখ্যা করেন, “চিত্রের মোড়ের ঠিক আগে এই দৃশ্যটি বসানো হয়েছে, যেন দর্শককে জাগিয়ে তোলা হয় এবং পরবর্তী ঘটনাগুলোর জন্য প্রস্তুত করা হয়।” যদিও এর সুনির্দিষ্ট অর্থ সম্পূর্ণ স্পষ্ট নয়, তবে এটি গল্পের উত্তেজনা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সম্পাদনা প্রক্রিয়ায় কুটে এবং ত্রিয়ের দলকে দৃশ্যের ধারাবাহিকতা, চরিত্রের বিকাশ এবং মোট সময়সীমার মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে বহুবার পুনরায় মূল্যায়ন করতে হয়। শেষ পর্যন্ত, মূল তিন ঘণ্টা ত্রিশ মিনিটের রানের সময়কে প্রায় অর্ধেক করে কমিয়ে, চলচ্চিত্রের মূল থিম ও আবেগকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।
‘Sentimental Value’ এখন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা অর্জন করছে এবং দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাচ্ছে। চলচ্চিত্রের সংক্ষিপ্ত রূপটি চরিত্রগুলোর আন্তঃক্রিয়া ও গল্পের মোড়কে তীক্ষ্ণভাবে তুলে ধরেছে, যা সম্পাদকের সূক্ষ্ম কাজের ফলাফল।
এই চলচ্চিত্রের সফলতা কুটের মতো সম্পাদকদের কাজের গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে, যেখানে সময়ের সীমাবদ্ধতা ও গল্পের গুণগত মানের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করা অপরিহার্য। ভবিষ্যতে তিনি আরও দ্রুত স্ক্রিপ্ট বিশ্লেষণ ও পরিকল্পনা করে প্রোডাকশন খরচ কমাতে এবং সৃজনশীল দিককে সমৃদ্ধ করতে চান।
‘Sentimental Value’ এর এই সংস্করণটি এখন বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শিত হচ্ছে এবং চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন সম্পাদনা পদ্ধতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখিত হচ্ছে।



