ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদর আংশিক) নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামি পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষরিত ফাঁকা রেজাল্ট শিট উদ্ধার করা হয়েছে। রাত্রি আটটার দিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ২৩টি শিট পাওয়া যায়। এই ঘটনা নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা রিকর্ডে জানান, শিটগুলো ফাঁকা অবস্থায় স্বাক্ষরিত ছিল এবং তাৎক্ষণিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। শিটগুলোকে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে এবং নতুন শিট তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, এই প্রক্রিয়ার ফলে নির্বাচনী ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে না।
প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছিলেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী জেসমিন আরা। শিটগুলো পাওয়ার পর তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নতুন কাউকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেসমিন আরা এই পদত্যাগের কারণ হিসেবে স্বাক্ষর গ্রহণে ভুল বোঝাবুঝি উল্লেখ করেছেন।
জেসমিন আরা স্বীকার করেন, তিনি ধানের শীষের এজেন্ট জিল্লুর রহমান এবং দাঁড়িপাল্লার ওমর ফারুকের স্বাক্ষর নেন এবং ভুল বুঝে তা ছিঁড়ে ফেলেন। তিনি বলেন, শিটগুলো পুনরায় তৈরি করা হবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না। এই ব্যাখ্যা অনুসারে শিটের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর সেলিম রেজা এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রিজওয়ানা নাহিদ现场 পরিদর্শন করেন। দুজনেই কেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে শিটের পুনরায় প্রিন্টের কাজ ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেন। পরিদর্শনের সময় উপস্থিত জনসাধারণের ভিড়ের মধ্যে শিটগুলো পুনরুদ্ধার করা হয়।
ইউএনও রিজওয়ানা নাহিদ জানান, তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন এবং মানুষের জটলা দেখে স্বাক্ষরিত শিটের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানেন। যদিও তিনি শিটগুলো সরাসরি দেখেননি, তবু তিনি প্রিসাইডিং কর্মকর্তার পদত্যাগের প্রক্রিয়া চালু রয়েছে বলে জানিয়েছেন। এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।
প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জেসমিন আরার পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জেল্লাল হোসেন নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তের নাম প্রকাশের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন কর্মকর্তা দ্রুত নিয়োগের মাধ্যমে নির্বাচনী কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কেন্দ্রে আর কোনো অনিয়মের আশঙ্কা কমে যাবে।
ঝিনাইদহে নির্বাচনী কাজের সময়সূচি অনুসারে ভোটদান শীঘ্রই শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, ফাঁকা শিটের পুনরায় প্রিন্ট এবং নতুন প্রিসাইডিং কর্মকর্তার নিয়োগের ফলে নির্বাচনের সময়সূচি কোনো পরিবর্তন না করে চলবে। সকল প্রার্থী ও দলকে এই বিষয়টি নিয়ে কোনো আপত্তি না জানাতে বলা হয়েছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দলই শিটের পুনরায় ব্যবহার বা ফলাফলে প্রভাবের অভিযোগ তুলেনি। নির্বাচনী কমিশনও এই বিষয়টি নথিভুক্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
সারসংক্ষেপে, ঝিনাইদহের এক কেন্দ্র থেকে ২৩টি স্বাক্ষরিত ফাঁকা রেজাল্ট শিট উদ্ধার, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার পদত্যাগ এবং নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তের নিয়োগের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা চলছে। এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচনের সময়সূচি ও ফলাফলে কোনো পরিবর্তন না আনার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।



