নিউ ইয়র্ক সিটি ২০২৫ সালের হত্যা সংখ্যা প্রকাশ করেছে, যা মোট ৩০৫টি ঘটেছে। এই সংখ্যা ১৯৯০ সালের সর্বোচ্চ রেকর্ডের তুলনায় ৮৬ শতাংশ কম, ফলে গত বছর শহরের নিরাপত্তা ইতিহাসের অন্যতম সেরা পর্যায়ে পৌঁছেছে।
শহরের অপরাধ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, হত্যার হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং শহরের বিভিন্ন পাড়া এখন তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ। তবে একই সময়ে টেলিভিশন স্ক্রিনে নিউ ইয়র্কের চিত্র ভিন্ন রকম উপস্থাপিত হয়েছে।
বিভিন্ন টিভি শোতে নিউ ইয়র্ককে পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে কল্পিত হত্যার সংখ্যা বাস্তবের চেয়ে বেশি হয়েছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে টিভি শোতে মোট ৩৪৭টি হত্যা ঘটেছে, যা বাস্তব রাস্তায় ঘটিত ৩০৫টির তুলনায় ৪২টি বেশি।
এই তথ্য সংগ্রহের জন্য শোয়ের এপিসোড গাইড এবং সংক্ষিপ্তসারগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে, যেখানে মৃতদেহ বা হত্যাকারীর উল্লেখ চিহ্নিত করা হয়েছে। মোট ৪০টি শো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং শুধুমাত্র নতুন এপিসোডের ডেটা ব্যবহার করা হয়েছে, পুনঃপ্রচারিত এপিসোড বাদ দেওয়া হয়েছে।
প্রধান শোগুলোর মধ্যে “ল’ অর্ডার”, “ডেয়ারডেভিল: বর্ন এগেইন” এবং “ওনলি মার্ডারস ইন দ্য বিল্ডিং” উল্লেখযোগ্যভাবে উচ্চ সংখ্যক হত্যার দৃশ্য দেখিয়েছে। এসব শোতে নিউ ইয়র্কের গলি, অফিস এবং রেস্তোরাঁর পটভূমিতে বিভিন্ন ধরণের হিংসা চিত্রিত হয়েছে।
বিশেষত “দ্য ওয়াকিং ডেড: ডেড সিটি” সিরিজের মৌসুমের প্রথম এপিসোডে জোম্বি আক্রমণের দৃশ্য রয়েছে, যেখানে অনুমানিকভাবে দশজন চরিত্রের মৃত্যু ঘটেছে। এই সংখ্যা সংযতভাবে গণনা করা হয়েছে, তবে বাস্তবিকভাবে আরও বেশি হতে পারে।
অন্যদিকে “এলসবেথ” শোতে প্রতিটি এপিসোডে একজন মৃতদেহ যুক্ত করা হয়েছে, সাধারণত নৃত্যশিল্পী বা কলেজের বাস্কেটবল তারকা হিসেবে চিত্রিত হয়েছে। এই পদ্ধতি শোয়ের নাটকীয়তা বাড়ানোর জন্য গ্রহণ করা হয়েছে।
“এফবিআই” সিরিজে মৃত্যুর সংখ্যা সপ্তাহভিত্তিক পরিবর্তিত হয়েছে; কখনো কোনো মৃত্যু না, কখনো ছোট সংখ্যক দেহের দৃশ্য দেখা যায়। শোয়ের কাহিনীর গতি এবং অপরাধের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে এই পার্থক্য দেখা যায়।
কিছু শোতে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম, তবে সামগ্রিকভাবে টেলিভিশন স্ক্রিনে নিউ ইয়র্কের কল্পিত হিংসা বাস্তবের চেয়ে বেশি। গবেষণায় স্বীকার করা হয়েছে যে কিছু শোতে মৃত্যুর সংখ্যা সঠিকভাবে নির্ণয় করা কঠিন, ফলে প্রকৃত সংখ্যা কিছুটা বেশি হতে পারে।
এই বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট হয় যে বিনোদন শিল্পে নিউ ইয়র্ককে রক্তাক্ত এবং হিংসাত্মক শহর হিসেবে উপস্থাপন করা একটি প্রচলিত প্রবণতা। যদিও বাস্তব পরিসংখ্যান নিরাপত্তার দিক থেকে আশাব্যঞ্জক, তবে টিভি শো দর্শকদের কাছে ভিন্ন চিত্র উপস্থাপন করে।
শহরের নিরাপত্তা উন্নয়নের সাফল্য সত্ত্বেও, টেলিভিশন নির্মাতারা নাটকীয় প্রভাব বাড়াতে শহরের অপরাধমূলক দিককে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করছেন। এই পার্থক্য দর্শকদের জন্য বাস্তব এবং কল্পনার মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
সুতরাং, নিউ ইয়র্কের বাস্তব হত্যা সংখ্যা এবং টেলিভিশন শোতে চিত্রিত হত্যার সংখ্যা তুলনা করে দেখা যায়, স্ক্রিনে শহরের চিত্র বাস্তবের চেয়ে বেশি রক্তাক্ত। এই তথ্য বিনোদন অনুরাগীদের জন্য একটি নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করে, যেখানে বাস্তব নিরাপত্তা ও কল্পিত হিংসার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।



