সুইস ক্র্যান্স‑মন্টানা রিসোর্টে নতুন বছরের প্রথম দিনে ঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৪১ জনের মৃত্যু এবং ১১৫ জনের আঘাতের পর শিকারের মা লেইলা মিশেলৌদ জ্যাক ও জেসিকা মোরেটি, বারটির মালিক দম্পতির সঙ্গে একটি গোপনীয় সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎটি সিয়ন শহরে অনুষ্ঠিত শোনানির সময় ঘটেছে, যেখানে শিকারের পরিবারগুলো আইনগত প্রশ্নোত্তর করে চলেছে।
২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি ক্র্যান্স‑মন্টানায় জ্বলে ওঠা বারটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, ফলে বহু পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা আহত হয়। ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসা দল পৌঁছায়, তবে ৪১ জনের প্রাণহানি রোধ করা যায়নি এবং ১১৫ জনের শারীরিক ক্ষতি রেকর্ড করা হয়েছে।
শোনানির সময় লেইলা মিশেলৌদ বার মালিক দম্পতির সঙ্গে একান্তে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে শিকারের পরিবারকে কেবল নামের তালিকায় সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের মুখ দেখানো জরুরি। এই ব্যক্তিগত আলাপের বিষয়বস্তু প্রকাশ না করলেও উপস্থিতি নিজেই মানবিকতার এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
মিশেলৌদের দুই কন্যা, ফারাহ (২০) এবং আরেকজন, অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর পোড়া পায়। ফারাহের দেহের ৩৫% অংশে তীব্র পোড়া চিহ্ন রয়েছে এবং তিনি এখনও হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার মা শোনানির বাইরে জানিয়েছেন যে শিকারের জন্য লড়াই অব্যাহত থাকবে এবং প্রতিদিন নতুন শক্তি সংগ্রহ করতে হবে।
অন্য একটি পরিবার থেকে লাতিশিয়া ব্রোডার‑সিত্রে, যিনি ১৬ বছর বয়সী আর্থারকে হারিয়েছেন, তিনি সত্যের প্রকাশের দাবি করেন। তিনি বলেন, আর কোনো মিথ্যা না থাকুক এবং দায়িত্বশীল সবাইকে তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে; রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শ তার জন্য কোনো ভূমিকা রাখে না।
জ্যাক ও জেসিকা মোরেটি অপরাধমূলক তদন্তের অধীনে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ, শারীরিক ক্ষতি এবং অবহেলাজনিত অগ্নিকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও জ্যাক মোরেটি গত মাসে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন, তবু তারা কোনো সময়ের জন্য আটক হয়নি।
শিকারের পরিবারে নিযুক্ত আইনজীবী সেবাস্টিয়ান ফ্যান্টি এই সাক্ষাতকে “অত্যন্ত তীব্র এবং মানবিকতার বিরল মুহূর্ত” বলে উল্লেখ করেন। তিনি আলাপের বিশদে প্রবেশ না করে, এই ধরনের মানবিক সংলাপের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
শোনানির সময় জ্যাক মোরেটি পরিবারিক আইনজীবীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন, আর তার স্ত্রী জেসিকাকে বৃহস্পতিবার আরও প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। এই প্রশ্নোত্তর প্রক্রিয়ায় শিকারের পরিবারগুলো দায়িত্ব নির্ধারণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা চাওয়া চালিয়ে যাবে।
মোরেটি দম্পতির আইনজীবী ইয়ায়েল হায়াত শোনানিকে “সত্যের মুহূর্ত” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জোর দেন যে দম্পতি কোনোভাবে সত্যের অনুসন্ধানে বাধা দিচ্ছেন না এবং শোনানি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করছেন।
অধিক তদন্তের পর, আদালত শিকারের পরিবারকে দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য আরও সময় দেবে এবং একই সঙ্গে শিকারের শারীরিক ও মানসিক পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিতে পারে। শোনানির ফলাফল এবং পরবর্তী বিচারিক পদক্ষেপগুলো অগ্নিকাণ্ডের শিকারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচিত হবে।



