গণঅধিকার পরিষদ (গো.অ.প) কর্তৃক ঢাকা‑৮ আসনের প্রার্থী মেঘনা আলম বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রমনা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দাখিল করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি থেকে তার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার কথা ছিল, তবে হুমকি-ধমকি এবং নারী সমর্থকদের ওপর স্ট্রিট হ্যারাসমেন্টের কারণে স্বাভাবিকভাবে ক্যাম্পেইন চালানো সম্ভব হয়নি।
মেঘনা আলম উল্লেখ করেন, ঢাকা‑৮ আসন দেশের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা এবং এখন পর্যন্ত এই আসন থেকে কোনো নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়নি। এই বাস্তবতা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে সাধারণত নারীরা এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী হতে আগ্রহী হন না, ফলে তিনি এই নির্বাচনে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছেন।
প্রার্থীর মতে, সরকারী প্রতিশ্রুতি অনুসারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে গনম্যানসহ ব্যক্তিগত নিরাপত্তা প্রদান করার কথা ছিল। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাকে এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চকে অবহিত করার পরেও এখন পর্যন্ত কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন। নিরাপত্তা না দেওয়া নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা এবং বৈষম্যের ইঙ্গিত দেন।
মেঘনা আলম উদ্বেগ প্রকাশ করেন, ভোটের দিন ঢাকা‑৮ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় তার নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নির্বাচনী পরিবেশকে বিবেচনা করে তিনি নিরাপত্তা না দেওয়া একটি গুরুতর ত্রুটি হিসেবে দেখেন, যা ভবিষ্যতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
রমনা থানার ওসি মোহাম্মদ রাহাৎ খান জিডি দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে কোনো অতিরিক্ত মন্তব্য করেননি। মেঘনা আলমের এই পদক্ষেপের ফলে নির্বাচনী কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই ঘটনা নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগকে আবারও উন্মোচিত করেছে, বিশেষ করে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ আসনে নারী প্রার্থীদের জন্য। যদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায়সঙ্গততা এবং অংশগ্রহণের স্বেচ্ছাসেবী স্বভাবকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ এবং স্পষ্ট নীতি প্রণয়ন এই ধরনের সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
মেঘনা আলমের জিডি দাখিলের পরবর্তী ধাপ হিসেবে তিনি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য আইনি পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন এবং নির্বাচনী কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে, তিনি তার ক্যাম্পেইন চালিয়ে যান এবং নারী ভোটারদের সমর্থন বাড়াতে বিভিন্ন সামাজিক মিডিয়া ও জনসাধারণের সমাবেশের মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই প্রেক্ষাপটে, ঢাকা‑৮ আসনের অন্যান্য প্রার্থীরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে তা এখনও অনিশ্চিত। তবে মেঘনা আলমের দাবি এবং রমনা থানার ওসি’র স্বীকৃতি নির্বাচনী নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনাকে তীব্র করে তুলেছে, যা পরবর্তী দিনগুলোতে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়ে যাবে।



