নির্বাচনের আগের দিন, নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সংক্ষিপ্ত বিচার ও নির্বাচন কমিশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত সাতজনকে শাস্তি প্রদান করেছে। শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে জামায়াত-এ-ইসলামির তিনজন স্থানীয় নেতাকর্মী অন্তর্ভুক্ত।
সকালের সময় সূত্রাপুরে নগদ টাকা বিতরণের প্রস্তুতি চলাকালে এক কর্মীকে হাতে ধরা পড়ে। সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে তাকে দুই দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলাটি লালবাগ বিভাগের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের অধীনে শোনা হয়। শাস্তিপ্রাপ্ত হাবিবুর রহমান, ৬৩ বছর বয়সী, তার কাছ থেকে ১২টি খাম জব্দ করা হয়, প্রত্যেকটি ৫০০ টাকার নোটে ভর্তি, মোট ৬,০০০ টাকা। জব্দকৃত অর্থ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
হাবিবুর রহমানকে সূত্রাপুর থানা কমিউনিটি সেন্টার ভোটকেন্দ্রের সামনে থেকে আটক করা হয়। থানা ওসির মতে, তিনি জামায়াত-এ-ইসলামির নায়েবের আমির হিসেবে কাজ করছিলেন।
একই দিনে ওয়ারি বিভাগের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সন্তোষজনক কারণ ছাড়া ঘোরাফেরা করার অপরাধে দুইজনকে শাস্তি দেন। এককে এক মাস এবং অন্যকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
মতিঝিল বিভাগে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুর রহমান মুগদা থানার মামলায় দুইজনকে দশ দিন করে কারাদণ্ড দেন। এই শাস্তি নির্বাচনী সময়ে অনিয়মের প্রতিক্রিয়া হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জনসাধারণের নজরে ধরা পড়া এবং পুলিশকে নেতিবাচক মন্তব্য করার জন্য শাস্তি ধার্য করা হয়েছে। শাস্তি প্রদান করা হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সের ৭৫ ধারার ভিত্তিতে।
নির্বাচনের আগের দিন, মিরপুরের শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুইজন ‘দাঁড়িপাল্লা মার্কার’কে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে ধরা পড়ে। নির্বাচন কমিশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে দুই বছর কারাদণ্ড দেয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক এই শাস্তি প্রদান করেন। শাস্তিপ্রাপ্তদের নাম মেহেদি হাসান খাদেম, ৩২, এবং রাইহান হোসেন, ২৩। তাদের কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।
সামগ্রিকভাবে, সাতজনের মধ্যে পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। শাস্তিগুলি সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলি নির্বাচন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অবৈধ নগদ বিতরণ ও প্রভাব বিস্তারের বিরুদ্ধে সতর্কতা জোরদার করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, সব জব্দকৃত নগদ এবং জব্দকৃত সামগ্রী রাষ্ট্রের স্বার্থে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। শাস্তিপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে আরোপিত জরিমানা ও কারাদণ্ডের পরিমাণ যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আদালতগুলো ভবিষ্যতে অনুরূপ লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।



