এলন মাস্কের স্পেসএক্স কোম্পানি মহাকাশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ডেটা সেন্টার স্থাপনের জন্য নিয়ন্ত্রক অনুমোদন চেয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সোলার‑পাওয়ার্ড স্যাটেলাইটগুলোকে এক মিলিয়ন পর্যন্ত বাড়িয়ে মোট ১০০ গিগাওয়াট কম্পিউট ক্ষমতা গ্রহের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হবে।
এলন মাস্কের এই ধারণা দীর্ঘদিনের বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর প্রভাবের ফল, যেখানে ইয়ান ব্যাংকসের সিরিজে স্বচালিত স্পেসশিপ গ্যালাক্সি শাসন করে। এখন তিনি এই কল্পনাকে বাস্তবে রূপান্তর করার লক্ষ্যে কাজ করছেন।
স্পেসএক্সের প্রস্তাবিত স্যাটেলাইটগুলো সূর্যালোক থেকে শক্তি সংগ্রহ করে ডেটা প্রক্রিয়াকরণ করবে এবং সেগুলোকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে দূরে স্থাপন করা হবে। এক মিলিয়ন স্যাটেলাইটের নেটওয়ার্ক গড়ে তুললে, বর্তমান গ্রাউন্ড‑বেসড ডেটা সেন্টারের তুলনায় শক্তি ব্যবহার ও শীতলীকরণে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় হতে পারে।
এছাড়া, কিছু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্যাটেলাইট চাঁদে নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। চাঁদের পৃষ্ঠে স্থাপিত সিস্টেমগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ ও আপডেট করা সহজ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
এলন মাস্ক সম্প্রতি একটি পডকাস্টে উল্লেখ করেন যে, আগামী ৩৬ মাসের মধ্যে স্পেসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্থাপন করা সবচেয়ে সস্তা বিকল্প হবে। এই বক্তব্যটি স্ট্রাইপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জন কলিসনের সঙ্গে আলোচনার সময় প্রকাশিত হয়।
এক্সআইএআইয়ের কম্পিউট হেড অ্যানথ্রপিকের প্রতিনিধির সঙ্গে বাজি ধরেছেন যে, ২০২৮ সালের মধ্যে বৈশ্বিক কম্পিউট ক্ষমতার ১% মহাকাশে থাকবে। এই অনুমানটি শিল্পের মধ্যে উচ্চ দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গুগলও মহাকাশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করছে। গুগল ‘প্রজেক্ট সানক্যাচার’ নামে একটি উদ্যোগ ঘোষণা করেছে, যার লক্ষ্য ২০২৭ সালে প্রোটোটাইপ ভেহিকল উৎক্ষেপণ করা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল স্পেস‑বেসড AI সেবা প্রদানের ভিত্তি গড়ে তুলবে।
স্টারক্লাউড নামের স্টার্ট‑আপও গুগল ও অ্যান্ড্রেসেন হোরোভিটজের সমর্থনে $৩৪ মিলিয়ন তহবিল সংগ্রহ করেছে। তারা ৮০,০০০ স্যাটেলাইটের একটি নেটওয়ার্কের পরিকল্পনা ফাইল করেছে, যা ভবিষ্যতে বৃহৎ স্কেলে ডেটা প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহার হবে।
অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসও মহাকাশে AI ডেটা সেন্টারকে ভবিষ্যতের মূল প্রযুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার এই মন্তব্য শিল্পে আরও বেশি বিনিয়োগ ও গবেষণার উদ্দীপনা যোগায়।
স্পেস এক্সের ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড্রু ম্যাকক্যালিপ একটি তুলনামূলক হিসাব তৈরি করে দেখিয়েছেন যে, ১ GW ক্ষমতার একটি কক্ষপথীয় ডেটা সেন্টারের মোট খরচ প্রায় $৪২.৪ বিলিয়ন, যা একই ক্ষমতার গ্রাউন্ড‑বেসড সেন্টারের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। এই পার্থক্যের মূল কারণ স্যাটেলাইট নির্মাণ ও উৎক্ষেপণের প্রাথমিক ব্যয়।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই উচ্চ খরচ কমাতে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, বৃহৎ মূলধন বিনিয়োগ এবং মহাকাশ‑গ্রেড উপাদানের সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নয়ন প্রয়োজন। একই সঙ্গে, পৃথিবীর উপর ভিত্তিক ডেটা সেন্টারের ব্যয় বাড়ার প্রবণতা থাকলে মহাকাশে স্থানান্তরের আকর্ষণ বাড়তে পারে।
সারসংক্ষেপে, স্পেসএক্স, গুগল, এক্সআইএআই এবং অন্যান্য সংস্থার উদ্যোগে মহাকাশে AI ডেটা সেন্টার গড়ার পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। তবে তা অর্জনের জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে, যা ভবিষ্যতে ডেটা অবকাঠামোর দিক পরিবর্তন করতে পারে।



