কুমিল্লা-২ নির্বাচনী এলাকায় তিতাস ও হোমনা উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে গঠিত আসনে ভোটের পূর্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ মতিনের পক্ষে প্রকাশ্য প্রচার চালানোর অভিযোগের ভিত্তিতে পোলিং কর্মকর্তা হাসিবুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি কুমিল্লা জেলার জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশে কার্যকর করা হয়েছে। অভিযোগটি মূলত বিএনপি প্রার্থী সেলিম ভূইয়ার কাছ থেকে এসেছে, যিনি ভোটের স্বচ্ছতা রক্ষার দাবি জানিয়েছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তৎক্ষণাৎ নতুন কোনো কর্মীকে ঐ কেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োগ করে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
শেখ মো. হাবিবুর রহমানের মতে, পোলিং কর্মকর্তার এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভোটের আগের রাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যাতে কোনো অনিয়মের সুযোগ না থাকে। এছাড়া তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সকল কর্মীকে আইন ও নিয়ম মেনে চলতে হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে তিতাস উপজেলায় ভোটের প্রস্তুতি কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে, তবে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে প্রক্রিয়া চালু থাকবে।
বিএনপি প্রার্থী সেলিম ভূইয়া অভিযোগের মূল বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, পোলিং কর্মকর্তা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারমূলক কাজ করেছেন, যা নির্বাচন আইনের লঙ্ঘন। তিনি বলেন, এমন আচরণ ভোটারদের মতামতকে প্রভাবিত করতে পারে এবং নির্বাচনের ন্যায্যতা হ্রাস পায়। ভূইয়া আরও দাবি করেন যে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এখন আর কোনো নির্বাচনী কাজ করতে পারবে না, এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পোলিং কর্মকর্তা হাসিবুল ইসলামকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সুমাই মমিনের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, ওই পোলিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা হয়েছে। তিনি জানান, এই অভিযোগগুলো তদন্তের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মমিন আরও যোগ করেন, প্রত্যাহারিত কর্মকর্তা আর কোনো নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে না এবং তার দায়িত্ব নতুন কর্মীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ভোটারদের আস্থা বজায় রাখতে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ।
কুমিল্লা-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ মতিনের পটভূমি নিয়ে কিছু বিশদ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ইঞ্জিনিয়ার এম এম মতিন, যিনি পূর্বে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়ে এখন স্বাধীনভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম ভূইয়া, যিনি বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রার্থী, এই দুইয়ের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা দিচ্ছে। উভয় প্রার্থীরই স্থানীয় স্তরে শক্তিশালী সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে, যা আসনের ফলাফলকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারমূলক কাজের অভিযোগে পোলিং কর্মকর্তা প্রত্যাহার হওয়ায় এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হতে পারে।
হাসিবুল ইসলামকে প্রত্যাহার করার পর, তৎক্ষণাৎ একটি নতুন পোলিং কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়েছে। নতুন কর্মকর্তার নাম প্রকাশ না করলেও, তিনি তিতাস উপজেলার কেন্দ্রে ভোটের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করার দায়িত্বে আছেন। এই দ্রুত পদক্ষেপটি নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়েছে, যাতে ভোটের দিন কোনো ধীরগতি না ঘটে। নতুন কর্মকর্তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সকল ধাপ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেয়েছেন। তার দায়িত্বে ভোটার তালিকা যাচাই, ভোটারদের পরিচয় যাচাই এবং ভোটের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্ত।
এই ঘটনার ফলে কুমিল্লা-২ আসনের রাজনৈতিক গতিবিধিতে নতুন মোড় এসেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচার করার অভিযোগে পোলিং কর্মকর্তা প্রত্যাহার হওয়ায়, উভয় প্রধান প্রার্থীরই সমর্থক গোষ্ঠী এই সিদ্ধান্তকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। বিএনপি প্রার্থী সেলিম ভূইয়া এই পদক্ষেপকে তার পক্ষে একটি সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন, যেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী তার প্রচার কার্যক্রমে বাধা পেয়েছে। অন্যদিকে, এম এ মতিনের দল এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারে এবং আইনি পথে প্রতিকার চাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভবিষ্যতে কুমিল্লা-২ আসনের ভোটের ফলাফল নির্ধারিত হবে কীভাবে এই ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। তবে নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করেছে যে, নতুন পোলিং কর্মকর্তা সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করবেন। এছাড়া, উভয় প্রার্থীর দলকে আহ্বান জানানো হয়েছে যে, তারা আইন মেনে চলবে এবং কোনো অবৈধ প্রচার বা হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে। ভোটের দিন নিকটবর্তী হওয়ায়, সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলকভাবে অংশগ্রহণ করতে বলা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত, কুমিল্লা-২ আসনের ফলাফল দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক দৃশ্যপটে প্রভাব ফেলবে, এবং এই ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।



