বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ঘোষণা করেছে যে দেশের প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক নারী টি২০ লিগ, নারী বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (WBPL), ৩ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য নারী ক্রিকেটের পেশাদারী কাঠামোকে শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি বাড়ানো।
লিগের উদ্বোধনী সংস্করণে তিনটি দল অংশগ্রহণ করবে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করবে। প্রতিটি দল নিজস্ব মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে গঠন করা হবে এবং টুর্নামেন্টের সময়সূচি একাধিক শহরে ভাগ করা হবে। এই কাঠামো নারী ক্রিকেটারদের জন্য নিয়মিত ম্যাচের সুযোগ তৈরি করবে এবং স্থানীয় দর্শকদের নতুন ক্রীড়া অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই পদক্ষেপকে দেশের নারী ক্রিকেটাররা দীর্ঘদিনের স্বপ্ন হিসেবে দেখছিলেন। এখন প্রথমবারের মতো একটি স্বতন্ত্র টুর্নামেন্টের মাধ্যমে তারা পেশাদারী পরিবেশে প্রতিযোগিতা করতে পারবে। লিগের আয়োজকরা উল্লেখ করেছেন যে, টুর্নামেন্টের আয়োজনে স্থানীয় ব্যবসা ও স্পনসরদের অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাতীয় দলের অধিনায়িকা নিগার সুলতানা এই ঘোষণার পর প্রকাশ্যে তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই লিগের সূচনা নারী ক্রিকেটের উন্নয়নে একটি বড় পদক্ষেপ এবং এটি দলকে ২০২৫ সালের জুনে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি নারী টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে। তার কথায় স্পষ্ট হয়েছে যে, ধারাবাহিক ম্যাচের মাধ্যমে খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।
নিগার সুলতানা আরও উল্লেখ করেছেন যে, বহু বছর ধরে এই লিগের কথা শোনা যাচ্ছিল, এবং এখন বাস্তবে রূপ নেয়া দেখে তিনি গর্বিত। তিনি টুর্নামেন্টের সময়সূচি ও প্রতিযোগিতার গুণগত মানকে গুরুত্ব দিয়ে বলছেন যে, এটি দেশের নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
লিগের প্রথম ম্যাচ ৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে এবং শেষ ম্যাচ ১৫ এপ্রিল নির্ধারিত হয়েছে। প্রতিটি দলের মধ্যে একাধিক টি২০ ম্যাচ হবে, যার মাধ্যমে মোট ৯টি ম্যাচের একটি সংক্ষিপ্ত সিরিজ গঠন করা হবে। ম্যাচগুলো টেলিভিশন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে, যাতে ভক্তরা ঘরে বসে খেলাটির রোমাঞ্চ উপভোগ করতে পারেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী, লিগের আয়োজনে স্থানীয় স্টেডিয়ামগুলো ব্যবহার করা হবে এবং প্রতিটি গেমের পরে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, টুর্নামেন্টের সময় নারী ক্রিকেটারদের জন্য প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন সুবিধা প্রদান করা হবে, যাতে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দিতে পারে।
এই লিগের মাধ্যমে নারী ক্রিকেটারদের পেশাদারী চুক্তি, স্পনসরশিপ ও মিডিয়া এক্সপোজার বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তদুপরি, তরুণী খেলোয়াড়দের জন্য একটি স্পষ্ট ক্যারিয়ার পথ তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে দেশের আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতার ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
আইসিসি নারী টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে এই লিগের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আগে ধারাবাহিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা দলকে কৌশলগত ও মানসিক দিক থেকে শক্তিশালী করবে। তাই, নারী বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগকে দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লিগের সূচি ও টিকিট সংক্রান্ত তথ্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। ভক্তদের উৎসাহে টুর্নামেন্টের টিকিট দ্রুত বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নারী ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়ক হবে। সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বয়ে এই লিগটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে, ভবিষ্যতে লিগের দল সংখ্যা বাড়িয়ে আরও বিস্তৃত প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।



