ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র ও পানামার উপকূলের প্রবালপ্রাচীরে বসবাসকারী মাছের খাদ্যশৃঙ্খল আজ প্রাচীন সময়ের তুলনায় প্রায় ছয় দশক থেকে সাত দশক কম। গবেষকরা ৭,০০০ বছর আগে এবং বর্তমানের মাছের কানের পাথর (ওটোলিথ) বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল প্রকাশ করেছেন। ফলাফলটি ফেব্রুয়ারি ১১ তারিখে বৈজ্ঞানিক জার্নাল নেচারে প্রকাশিত হয়েছে।
অধিকাংশ গবেষণায় ব্যবহৃত পদ্ধতি হল ওটোলিথের আকার ও রূপের পার্থক্য এবং নাইট্রোজেনের ভারী ও হালকা রূপের অনুপাত মাপা। ভারী নাইট্রোজেনের অনুপাত বেশি হলে তা শীর্ষ শিকারের সূচক, আর কম অনুপাত নির্দেশ করে শিকারি স্তরে নিম্নে থাকা প্রাণীকে। এই পদ্ধতি দিয়ে বিজ্ঞানীরা প্রাচীন ও আধুনিক মাছের অবস্থান তুলনা করতে সক্ষম হয়েছেন।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, আধুনিক সময়ে শিকারের সংখ্যা ও প্রজাতি কমে গিয়ে অধিকাংশ মাছ একই ধরনের খাবার নিয়ে প্রতিযোগিতা করছে। বিপরীতে, প্রাচীন প্রবালপ্রাচীরে শিকারের খাদ্যাভ্যাস বেশি বৈচিত্র্যময় ও বিশেষায়িত ছিল; উদাহরণস্বরূপ, গোবি মাছের নির্দিষ্ট প্রকারের অ্যামফিপডের ওপর নির্ভরশীলতা দেখা গিয়েছিল। এই পার্থক্য নির্দেশ করে যে অতীতের প্রবালপ্রাচীরের ইকোসিস্টেমে খাবার সরবরাহের কাঠামো বেশি জটিল ও স্তরবিন্যাসযুক্ত ছিল।
প্রতিবেশের পরিবর্তন, বিশেষত বাসস্থান হ্রাস ও অতিমাছ ধরা, আধুনিক সময়ে মাছের জন্য খাবার পাওয়া কঠিন করে তুলেছে। ফলে, একই সম্পদের জন্য প্রতিযোগিতা বাড়ে এবং কিছু প্রজাতি তাদের ঐতিহাসিক অবস্থান থেকে নিচের স্তরে নামতে বাধ্য হয়। এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে খাবার সংকটের সময় মাছের অভিযোজন ক্ষমতাকে সীমিত করতে পারে, যা প্রবালপ্রাচীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষণার প্রধান বিজ্ঞানী জেসিকা লুডার্স‑ডুমন্টের মতে, খাদ্যশৃঙ্খলের গঠন বুঝতে পারা প্রবালপ্রাচীরের স্বাস্থ্য নির্ণয়ের মূল চাবিকাঠি। তিনি উল্লেখ করেন, যদি আমরা কয়েক হাজার বছর আগে একই প্রবালপ্রাচীরে ডাইভ করতাম, তবে দেখতাম যে খাবার সরবরাহের নেটওয়ার্ক এখন তুলনামূলকভাবে সরল। এই সরলতা ইকোসিস্টেমের স্থিতিস্থাপকতা হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়।
প্রবালপ্রাচীরের উপর নির্ভরশীল স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য এই ফলাফল বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। মাছের প্রজাতি ও তাদের খাবার সরবরাহের জটিলতা হ্রাস পেলে মৎস্য উৎপাদন ও পর্যটন শিল্পে প্রভাব পড়তে পারে। তাই, বাসস্থান সংরক্ষণ ও অতিমাছ ধরা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইকোসিস্টেমকে পুনরুদ্ধার করা জরুরি।
বৈজ্ঞানিক তথ্য নির্দেশ করে যে বর্তমান প্রবালপ্রাচীরের রক্ষণাবেক্ষণ কেবল মাছের সংখ্যা নয়, বরং তাদের খাদ্যশৃঙ্খলের গঠনকেও লক্ষ্য করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে গবেষণা যদি আরও বিশদে দেখায় যে নির্দিষ্ট প্রজাতি কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, তবে নীতি নির্ধারকরা আরও কার্যকর সংরক্ষণ পরিকল্পনা তৈরি করতে পারবেন।
আপনারা কি মনে করেন, স্থানীয় মৎস্যজীবী ও নীতিনির্ধারকদের জন্য এই ধরনের বৈজ্ঞানিক অন্তর্দৃষ্টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এবং কীভাবে তা বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তরিত করা যায়?



