ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তৃতীয় দিন, ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি সরেজমিনের তত্ত্বাবধানে বেশিরভাগ কেন্দ্রেই সম্পন্ন হয়েছে। ভোটপত্র, অমোচনীয় কালি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সন্ধ্যার আগেই সকল কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে এবং শেষ মুহূর্তের কাজগুলো রাতের দিকে চালু হয়েছে।
দুপুরের পর থেকে কেন্দ্রীয় অফিসার ও পোলিং কর্মীরা ব্যালট পেপার ও সরঞ্জামাদি গোপন ভোটকক্ষের মধ্যে সঠিকভাবে সাজিয়ে রেখেছেন। গোপন কক্ষের পাশাপাশি ভোটারদের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বাঁশের ব্যারিকেডও স্থাপন করা হচ্ছে, যাতে ভোটদান প্রক্রিয়া নিরাপদে সম্পন্ন হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে সমানভাবে অবস্থান করছেন। ফটকের পাশাপাশি বহু পুলিশ কর্মকর্তা পায়ে পায়ে ঘুরে যাচ্ছেন, এবং রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের সংখ্যা বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
সেগুনবাগিচা হাইস্কুলে অবস্থিত ৯৩ নম্বর কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মোহাম্মদ বাদশা মিয়া জানান, “দুপুর আড়াইটায় নির্বাচনী সরঞ্জাম হাতে পেয়ে আমরা বিকেল পাঁচটার মধ্যে সব কক্ষের কাজ সম্পন্ন করেছি। কিছু ছোটখাটো কাজ বাকি থাকলেও মোট পাঁচটি কক্ষ ও সাতটি বুথ সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। গোপন কক্ষসহ প্রতিটি বুথ ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এখন পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি, নিরাপত্তা পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় বাইরের কাজ রাতের মধ্যে শেষ হবে এবং আমরা ভোটগ্রহণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”
প্রায় সব ভোটকেন্দ্রের বাইরের নির্দিষ্ট দূরত্বে প্রার্থীদের এজেন্টদের বুথ স্থাপিত দেখা গেছে। তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে এবং ভোটগ্রহণের সুষ্ঠু পরিচালনা প্রত্যাশা করছেন।
খিলগাঁও মডেল স্কুলে ৭৪ নম্বর কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, “নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ কেন্দ্রে ভিড়ের কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল, তবে বিকেল পাঁচটার মধ্যে ব্যালট বাক্সসহ সব প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেন্দ্রে পৌঁছেছে। এখন আমরা বুথ তৈরি, কক্ষের বিন্যাস এবং কক্ষ নম্বর অনুযায়ী সরঞ্জাম স্থাপন কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।” তিনি উল্লেখ করেন, “সুরক্ষার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি দৃঢ়, এখন পর্যন্ত কোনো বিরোধ বা অশান্তি ঘটেনি।”
সরেজমিনের সমন্বয়কর্তা ও কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রের গোপন ভোটকক্ষ, বুথ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইতিমধ্যে স্থাপিত। অবশিষ্ট কাজগুলো মূলত বাহ্যিক ব্যারিকেড ও শেষ মুহূর্তের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে কেন্দ্রীভূত।
বাংলাদেশ সরকার শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য সকল রাজনৈতিক দলকে আইন মেনে চলতে আহ্বান জানিয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলি রাত জুড়ে তদারকি করবে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।
ভোটগ্রহণের সময়সূচি অনুযায়ী আগামীকাল সকাল থেকে ভোটদান শুরু হবে। প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বর্তমান স্তর বজায় থাকলে, নির্বাচন প্রক্রিয়া মসৃণভাবে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে অনুমান করা হচ্ছে।



