18 C
Dhaka
Thursday, February 12, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বিশ্বকাপ না‑খেলা সম্পর্কিত ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ

ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বিশ্বকাপ না‑খেলা সম্পর্কিত ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ

গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আয়োজনে অনুষ্ঠিত একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন। তিনি টি‑২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না‑খেলার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে কোনো অনুতাপ নেই বলে উত্তর দেন, যা পরবর্তীতে কিছু ভুল‑বোঝাবুঝি সৃষ্টি করে। একই দিন তিনি প্রথম আলোকে পাঠানো বার্তায় তার বক্তব্যের পূর্ণ ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ক্রিকেট মাঠের উন্নয়নের জন্য দুই কোটি টাকা চেক প্রদান করার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়। উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত থাকা আসিফ নজরুল, এই দানকে দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে যান এবং তার স্বভাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিছু মন্তব্য করেন। সেই মুহূর্তে সাংবাদিকরা বিশ্বকাপ না‑খেলা নিয়ে তার কোনো দুঃখ আছে কি না জিজ্ঞাসা করেন, যার উত্তরে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “অনুতাপের প্রশ্নই ওঠে না।”

প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি যে কথা বলেছিলেন, তা প্রেক্ষাপট ছাড়া প্রকাশিত হওয়ায় কিছু পাঠক ও বিশ্লেষককে বিভ্রান্ত করেছে। আসিফ নজরুলের মতে, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারী নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্তের গুরুত্ব তুলে ধরা, না যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো অনুতাপ প্রকাশ করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে তিনি বহুবার স্পষ্টভাবে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না‑খেলার সিদ্ধান্ত সরকারী ছিল বলে জানিয়েছেন।

আসিফ নজরুলের স্পষ্টীকরণে তিনি বলেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি বিবেচনা করে সরকারই বিশ্বকাপ না‑খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের কোনো আপত্তি প্রকাশ করা হয়নি; তারা সম্পূর্ণভাবে সরকারের সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই সিদ্ধান্তে কোনো বিতর্কের জায়গা নেই, প্রশ্নও ওঠেনি।”

বিবরণে তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে সরকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং খেলোয়াড়রা কোনো প্রতিবাদ না করে তা মেনে নেয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তিনি বলেন, “বিনা প্রতিবাদে এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া আমাদের দায়িত্বের অংশ।” এভাবে বোর্ড ও খেলোয়াড়দের আত্মত্যাগকে তিনি প্রশংসা করেন এবং উল্লেখ করেন, আর্থিক ক্ষতি, না‑খেলার বঞ্চনা এবং সম্ভাব্য শাস্তির ভয় সত্ত্বেও তারা এই সিদ্ধান্তে অটল থেকেছেন।

অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্বীকার করেন, অপ্রস্তুত আলাপের ফলে তার বক্তব্য সঠিকভাবে প্রকাশ পায়নি। তিনি বলেন, “আমি যে বিষয়টি বলতে চেয়েছি তা সঠিকভাবে প্রকাশ না পেয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।” এই স্বীকারোক্তি তার পূর্বের মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দূর করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

আসিফ নজরুল আবারও জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বকাপ না‑খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারী ছিল, এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়রা তা সম্পূর্ণভাবে মেনে নিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যদি না এই সম্মতি থাকত, তবে সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন কঠিন হতো। তাই তিনি পুনরায় নিশ্চিত করেন, “সিদ্ধান্তে অটুট থাকা এবং তা মেনে চলা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।”

এই ব্যাখ্যা প্রকাশের মাধ্যমে তিনি মিডিয়ার ভুল ধারণা দূর করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে স্পষ্টতা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি শেষ করেন, নিরাপত্তা ও দেশের মর্যাদা রক্ষার জন্য নেওয়া এই কঠিন সিদ্ধান্তে সকল সংশ্লিষ্টের সহযোগিতা অপরিহার্য, এবং তা বজায় রাখার জন্য তিনি সর্বদা প্রস্তুত থাকবেন।

সারসংক্ষেপে, আসিফ নজরুলের স্পষ্টীকরণে দেখা যায়, বাংলাদেশ না‑খেলার সিদ্ধান্তের পেছনে নিরাপত্তা উদ্বেগ, সরকারী নির্দেশনা এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের সম্মিলিত স্বীকৃতি রয়েছে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, কোনো অনুতাপ নেই এবং সিদ্ধান্তে অটুট থাকা দেশের স্বার্থের জন্য অপরিহার্য। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো পরিবর্তন হলে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি পুনরায় মূল্যায়ন করতে পারে, তবে বর্তমান অবস্থায় সিদ্ধান্তের পেছনে থাকা যুক্তি ও সম্মতি স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments