হলিউডের প্রাক্তন একাডেমি প্রেসিডেন্ট ও প্রযোজক জ্যানেট ইয়াং, শিল্পের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা মোকাবেলায় একটি ভিত্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি স্বেচ্ছাসেবী আন্দোলনের অংশ হিসেবে কাজ করছেন। তিনি এবং গ্যাব্রিয়েল কুয়ান, জোডি গর্ডন-লেভিট, প্রযোজক জোনাথন ওয়াং, ‘CODA’ ছবির পরিচালক সিয়ান হেডার এবং অভিনেত্রী নাতাশা লায়োনে একত্রে ‘ক্রিয়েটরস কোয়ালিশন অন AI’ (CCAI) গঠন করেন। এই গোষ্ঠীটি হলিউডের ভিতরে AI ব্যবহারের জন্য সুনির্দিষ্ট সীমা ও নির্দেশিকা তৈরি করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে শিল্পের সৃজনশীলতা ও নৈতিকতা দুটোই রক্ষা পায়।
CCAI-তে ইতিমধ্যে শতাধিক হলিউডের বিশিষ্ট ব্যক্তির স্বাক্ষর রয়েছে; রিয়ান জনসন, বেন অ্যাফ্লেক এবং ক্রিস্টেন স্টুয়ার্টের মতো নামগুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত। গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য হল শিল্পের সকল স্তরে AI প্রযুক্তির প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা, যাতে সৃষ্টিকর্তা ও দর্শক উভয়ই সঠিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
ইয়াংের মতে, AI প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি সমাজের মধ্যে বিশ্বাসের ক্ষয় ঘটাতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, “যদি আমরা বাস্তব ও কল্পনার মধ্যে পার্থক্য চিহ্নিত করতে না পারি, তবে সমাজের মৌলিক কাঠামোই নষ্ট হয়ে যাবে।” এই উদ্বেগের ভিত্তিতে তিনি শিল্পকে ধীরগতিতে অগ্রসর হতে এবং AI মডেলগুলো কীভাবে তথ্য সংগ্রহ করে তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করার আহ্বান জানান। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী, তা স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা এবং সর্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য নীতি নির্ধারণ করা জরুরি।”
এই দৃষ্টিকোণ থেকে CCAI-র উচ্চাকাঙ্ক্ষা হল এমন কিছু মৌলিক নীতি গঠন করা, যেগুলোতে শিল্পের বিভিন্ন অংশীদার একমত হতে পারে। এই নীতিগুলোতে ডেটা সংগ্রহের স্বচ্ছতা, কপিরাইটের সুরক্ষা, এবং AI-উৎপাদিত কন্টেন্টের লেবেলিং অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। গোষ্ঠীটি বিশ্বাস করে, এই ধরনের কাঠামো না থাকলে শিল্পের সৃজনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং দর্শকের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়বে।
স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা সেগান, যিনি সাম্প্রতিক সান্ডান্স চলচ্চিত্র উৎসবে তার নতুন কাজ উপস্থাপন করেছেন, তার দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা ভিন্ন। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত তিনি কোনো স্বাধীন পরিচালককে AI ব্যবহার করে চলচ্চিত্র তৈরির কথা বলতে শুনেছেন না। অধিকাংশ স্বতন্ত্র নির্মাতা এখনও নিজ হাতে সব কাজ সম্পন্ন করতে পছন্দ করেন এবং অন্য কেউ তাদের চেয়ে ভাল কাজ করবে বলে বিশ্বাস করেন না। তবে তিনি স্বীকার করেন, ভবিষ্যতে নবীন চলচ্চিত্রশিল্পী ও শিল্পীরা AI-কে সহজে ব্যবহার করার প্রলোভনে পড়তে পারেন।
সেগান জোর দিয়ে বলেন, “যদিও প্রযুক্তি সহজে চমৎকার দৃশ্য তৈরি করতে পারে, তবু তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুণগত মানের সমতুল্য নয়।” তিনি উল্লেখ করেন, নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্রশিল্পী ও শিল্পীদের জন্য উচ্চ মান বজায় রাখা অপরিহার্য, যাতে শিল্পের সামগ্রিক মানদণ্ড অবনত না হয়। তার মতে, AI-কে সহায়ক সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে তা সৃজনশীল প্রক্রিয়ার মূল অংশ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।
সান্ডান্সে তার নতুন চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার শেষে, সেগান AI নিয়ে চলমান আলোচনার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন এবং শিল্পের সকল স্তরে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি CCAI-র উদ্যোগকে সমর্থন করেন, কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, যৌথভাবে গৃহীত নীতি শিল্পকে ভবিষ্যতে সঠিক পথে পরিচালিত করবে।
হলিউডের এই নতুন আন্দোলন, যা শিল্পের স্বার্থ রক্ষা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখার লক্ষ্য রাখে, এখনো তার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে জ্যানেট ইয়াং ও তার সহকর্মীদের দৃঢ়প্রতিজ্ঞা, শিল্পের বিভিন্ন স্তরে AI ব্যবহারের জন্য স্পষ্ট ও ন্যায়সঙ্গত কাঠামো তৈরি করতে সহায়তা করবে বলে আশা করা যায়। ভবিষ্যতে AI-চালিত কন্টেন্টের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, এই ধরনের নীতি ও নির্দেশিকা শিল্পের সৃজনশীলতা ও নৈতিকতার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



