18 C
Dhaka
Thursday, February 12, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইসি সচিব আখতার আহমেদ মিসকোটের প্রতিবাদ, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা দাবি

ইসি সচিব আখতার আহমেদ মিসকোটের প্রতিবাদ, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা দাবি

ঢাকা, আগারগাঁও – নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বুধবার সন্ধ্যায় নির্বাচনী ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সামনে এক ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট করে জানালেন, তাকে “পাঁচ কোটি টাকা নিয়ে গেলেও কোনো অসুবিধা নেই” বলে মিসকোট করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বললেন, এ ধরনের মন্তব্য করার কোনো অধিকার ও ক্ষমতা তার নেই এবং তিনি কখনো এ কথা বলেননি।

ব্রিফিংটি বিকাল ৬:৩০ টার দিকে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি মিডিয়াকে অনুরোধ করেন যে কোনো তথ্য প্রকাশের আগে তা যাচাই করে নেয়া উচিত, যাতে অপতথ্য ছড়িয়ে না পড়ে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত রাখতে মিডিয়ার দায়িত্ববোধ গুরুত্বপূর্ণ।

আখতার আহমেদ ব্যাখ্যা করেন, তাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল অর্থ জব্দের বিষয়ে তার মন্তব্য কী, তখন তিনি শুধুমাত্র এ কথা বলেন যে, যাঁরা অর্থ আটক করেছে, তারা নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে। তার এই মন্তব্যের বাইরে তিনি আর কোনো কথা বলেননি। তিনি মিডিয়াকে আহ্বান জানান, মিসকোটের আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়া মিসকোটের মূল সূত্র ছিল থাকুরগাঁওয়ের জামায়াত-এ-ইসলামি নেতার সঙ্গে সংযুক্ত একটি ঘটনা। জানুয়ারি মাসে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে জামায়াত-এ-ইসলামি নেতাকে টাকাসহ আটক করা হয়, এবং সেখানে বলা হয়েছিল যে ইসি সচিব ভোটের সময় নগদ অর্থের কোনো সীমা নেই, ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত বহন করা কোনো সমস্যা নয়।

এই দাবি পরবর্তীতে ইসি সচিবের অফিস থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। আখতার আহমেদ স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কখনো এমন কোনো মন্তব্য করেননি এবং মিডিয়ার দ্বারা প্রকাশিত উক্তি তার কথার বিকৃতি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের মিসকোটের ফলে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে ক্ষুণ্ণ করে।

বিকেলে নির্বাচন কমিশনে জামায়াত-এ-ইসলামি নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হন, যেখানে তারা বিভিন্ন কেন্দ্রে তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। আখতার আহমেদ তাদের জানিয়ে দেন, অভিযোগের সমাধানের জন্য ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি, রিটার্নিং অফিসার এবং স্থানীয় পুলিশকে যথাযথভাবে অবহিত করা উচিত।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা এজেন্ট সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে করা হবে, এবং মিডিয়াকে এ বিষয়ে সঠিক তথ্য প্রদান করতে হবে। এভাবে সকল পক্ষের সহযোগিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ইসি সচিবের এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের গুরুত্ব। তিনি উল্লেখ করেন, দেশটি এখন একটি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে, এবং মিসকোটের মাধ্যমে সৃষ্ট গুজব নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতি করতে পারে।

আখতার আহমেদ মিডিয়াকে আহ্বান জানান, মিসকোটের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে তথ্যের সত্যতা যাচাই করে রিপোর্ট করতে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সকলের দায়িত্ব হল নির্বাচনের সময় জনগণকে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহ করা, যাতে ভোটাররা অবগত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এই ঘটনার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, মিসকোটের ফলে জামায়াত-এ-ইসলামি ও অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস বাড়তে পারে, যা নির্বাচনী জোটের ঐক্যকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে আখতার আহমেদের স্পষ্ট বিবৃতি এবং মিডিয়ার সঠিক রিপোর্টিং এই ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

সারসংক্ষেপে, ইসি সচিব আখতার আহমেদ মিসকোটের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেন এবং মিডিয়াকে তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্বের প্রতি দায়িত্বশীল হতে আহ্বান জানান। তিনি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়ার জন্য সকল স্টেকহোল্ডারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে ব্রিফিং শেষ করেন।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments