বেরলিন চলচ্চিত্র উৎসবে সম্প্রতি প্রিমিয়ার হওয়া ‘What Will I Become?’ ডকুমেন্টারিটি ট্রান্স‑মাসকুইন যুবকদের জীবনের গভীর দিকগুলোকে আলোকপাত করে। লেক্সি বিন এবং লগান রোজোসের যৌথ পরিচালনায় তৈরি এই কাজটি দুইজন তরুণ ট্রান্স পুরুষের আত্মহত্যা ও তাদের সৃষ্টিশীল যাত্রা নিয়ে আলোচনা করে।
ব্লেক ব্রকিংটন এবং কাইলার প্রেসকট, উভয়ই ট্রান্স পুরুষ, কবি, সঙ্গীতশিল্পী এবং লিঙ্গ পরিচয় সংক্রান্ত অধিকার আন্দোলনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। ইন্টারনেটের উন্মুক্ত মঞ্চে তাদের কণ্ঠস্বর শোনা যেত, তবে দুজনই অল্পবয়সে আত্মহত্যার মাধ্যমে জীবন শেষ করেন, যা সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোকের সঞ্চার করে।
ডকুমেন্টারিটি নির্মাতাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিগুলোকে ব্রকিংটন ও প্রেসকটের গল্পের সঙ্গে বুনে এক সংবেদনশীল বর্ণনা তৈরি করে। এতে ট্রান্স‑মাসকুইন পরিচয়ের আনন্দময় দিকের পাশাপাশি বিচ্ছিন্নতা, মানসিক চাপ এবং সামাজিক অবহেলার বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে।
এই প্রকল্পটি ITVS এবং ডিপ ডাইভ ফিল্মসের যৌথ উৎপাদন, স্টোরিলেন্স পিকচার্সের সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং স্থানীয় দৃষ্টিভঙ্গির মিশ্রণে চলচ্চিত্রটি একটি সূক্ষ্ম, তবে শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দেয়।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্সের অফিসিয়াল জার্নালে উল্লেখ আছে যে ট্রান্স পুরুষদের অর্ধেকের বেশি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। এই চমকপ্রদ পরিসংখ্যান চলচ্চিত্রের মূল থিমকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
এমি বিজয়ী লেখক‑প্রযোজক হার্পার স্টিলের দৃষ্টি এই কাজের দিকে আকৃষ্ট হয়। তিনি ট্রান্স বিষয়ক প্রকল্পে অংশ নেন, তবে শুধুমাত্র সেই কাজগুলোতে যা তার হৃদয়কে স্পর্শ করে। এই ডকুমেন্টারিটি তার জন্য বিশেষভাবে প্রভাবশালী হয়েছে।
স্টিলের ক্যারিয়ার স্যাটারডে নাইট লাইভের প্রধান লেখকের পদ থেকে শুরু করে সম্প্রতি নেটফ্লিক্সে প্রকাশিত ‘Will & Harper’ ডকুমেন্টারিতে তার ট্রান্সজেন্ডার যাত্রা পর্যন্ত বিস্তৃত। ‘Will & Harper’ এ তিনি ওয়িল ফারেল সহকারে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ভ্রমণ করে নিজের রূপান্তরের গল্প শেয়ার করেছেন।
প্রায় দুই বছর আগে নিউ ইয়র্কে স্টিলের এবং ফারেলের প্রকল্পের একটি স্ক্রিনিং অনুষ্ঠিত হয়, যা ডকুমেন্টারির নির্মাতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। সেই সময় থেকেই বিন এবং রোজোসের কাজকে তারা ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করে আসছেন।
‘What Will I Become?’ শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়, এটি ট্রান্স‑মাসকুইন সম্প্রদায়ের জন্য একটি সামাজিক আহ্বান। আত্মহত্যা ও মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যাগুলোকে সামনে নিয়ে আলোচনা করার মাধ্যমে এটি সহানুভূতি ও সমর্থনের দরজা খুলে দেয়।
চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশিত বাস্তবতা দেখিয়ে দেয় যে ট্রান্স পরিচয়ের পরিবর্তন প্রায়শই আনন্দের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি বহন করে। এই দ্বৈততা বোঝা এবং যথাযথ মানসিক সহায়তা প্রদান করা জরুরি।
পাঠকদের জন্য পরামর্শ: যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় নিয়ে সংগ্রাম করেন, তবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং সমর্থন গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হন। স্থানীয় LGBTQ+ সংগঠনগুলো প্রায়শই পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করে।
এই ডকুমেন্টারিটি ট্রান্স‑মাসকুইন যুবকদের কণ্ঠস্বরকে দৃঢ় করে এবং সমাজকে তাদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত নীতি ও সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য এই ধরনের কাজের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট।



