ঢাকার বিভিন্ন আসনের ভোটাররা বৃহস্পতিবারের জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের কথা জানিয়ে, দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। ভোটারদের মতে, কেবল এক ভোটের চিহ্নই নয়, নির্বাচনের পরের দায়িত্বশীলতা ও নীতি বাস্তবায়নই মূল লক্ষ্য।
রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে অভিজাত পাড়া পর্যন্ত নির্বাচনী আলোচনার তীব্রতা বাড়লেও, এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের সহিংসতা বা হুমকির রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। পুরান ঢাকা, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর এবং শাহবাগের মত এলাকায় ভোটাররা ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে উৎসাহিত এবং নিরাপদ বোধ করছেন।
ঢাকা-৭ আসনের ভোটার মোহাম্মদ ইয়াকুব বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত এবং আশেপাশের মানুষ ভোট দিতে আগ্রহী, কোনো হুমকি বা উত্তেজনা দেখা যায়নি। একইভাবে পুরান ঢাকার চাঁনখারপুলের ভোটার মোহাম্মদ আরিফ এবং চকবাজারের জসিম উদ্দিনও শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি উল্লেখ করেছেন।
শাহবাগের ফুল বিক্রেতা আসমা আক্তারও বলেন, এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত এবং সুন্দর দেখাচ্ছে। তবে ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা স্পষ্ট। ঢাকা-৮ আসনের ভোটার রুহুল আমিন বাবুল জোর দিয়ে বলছেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যদি প্রতিশ্রুতি পূরণ না করেন, তবে দায়িত্বে থাকা তাদের যুক্তি কী হবে। তিনি দেশের ব্যর্থতা সত্ত্বেও দায়িত্ব ত্যাগের সংস্কৃতি না থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগও কিছু ভোটার প্রকাশ করেছেন। ঢাকা-৮ আসনের ভোটার মেরেজা বেগম উল্লেখ করেন, এখন পর্যন্ত কোনো ঝামেলা না থাকলেও দুই দল মুখোমুখি হলে গণ্ডগোলের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনের পরিচালনা নিয়ে কিছু ভোটার সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ঢাকা-১০ আসনের ভোটার ফিরোজা বেগম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি ভোটের জন্য উপযুক্ত এবং তারা স্বচ্ছন্দে ভোট দিতে পারবেন বলে আশাবাদী।
প্রায় সতেরো বছর পর আবার সুস্থ পরিবেশে ভোট দিতে পারার আনন্দ প্রকাশ করেছেন মোহাম্মদ আরিফ, যিনি উল্লেখ করেন যে দীর্ঘ সময়ের পর এখন নিরাপদ পরিবেশে ভোটদান সম্ভব হয়েছে। একই সময়ে ঢাকা-৪ আসনের তরুণ ভোটার আরাফাত হোসেনও কোনো সহিংসতার আশঙ্কা না থাকায় ভোটের জন্য প্রস্তুত।
বড় রাজনৈতিক দলের অনুপস্থিতি নিয়ে কিছু ভোটার প্রশ্ন তুলেছেন, তবে অধিকাংশই বর্তমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে স্বাগত জানিয়ে, নির্বাচনের ফলাফলকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছেন। ভোটারদের মূল দাবি হল নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নীতি, দায়িত্বশীলতা এবং বাস্তবায়নযোগ্য প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করা, যাতে ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়ন ও শাসনব্যবস্থার প্রতি আস্থা পুনর্গঠন হয়।
সারসংক্ষেপে, ঢাকা শহরের ভোটাররা আগামী বৃহস্পতিবারের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে, পরিবর্তন ও জবাবদিহির প্রত্যাশা নিয়ে ভোটের দিনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা গঠন করবে, তা এখনো অনিশ্চিত, তবে ভোটারদের স্পষ্ট প্রত্যাশা ভবিষ্যতের শাসনব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলবে।



