ঢাকার সুত্রাপুর থানা ইউনিটের জামায়াত-এ-ইসলামি নিযোব-এ-আমীর মো. হাবিবুর রহমানকে ভোট কেনাকাটার অভিযোগে মোবাইল কোর্ট দুই দিনের জেল শাস্তি প্রদান করেছে। শাস্তি আরোপের সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ পূর্বে তাকে ভোটারকে অর্থ প্রদান করার সন্দেহে গ্রেফতার করেছিল। তার বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের পর মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দ্রুত বিচার সম্পন্ন হয়।
মোবাইল কোর্টের এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে সতর্কতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দুই দিনের কারাবাসকে ছোট শাস্তি হলেও, তা ভোট কেনাকাটার অপরাধকে দমন করার উদ্দেশ্য বহন করে।
জাতীয় নির্বাচনের এক দিন আগে এই ধরনের আইনগত পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের তীব্র নজরদারি বাড়ছে।
একই দিনে ঢাকার করাইল শ্লামে জামায়াত-এ-ইসলামি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি (বিএনপি) নারীদের মধ্যে সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুই দলের নারী কর্মীরা পারস্পরিক বিরোধে লিপ্ত হয়।
বানানী থানা অফিসার ইন চার্জ খালিদ মন্সুরের মতে, জামায়াত-এ-ইসলামি কর্মীরা তাদের ভোট সংগ্রহকারী এজেন্টদের সঙ্গে আলোচনা করতে একত্রিত হয়েছিল। এ সময় কিছু বিএনপি সমর্থক সেখানে এসে আলোচনা বাধা দিতে চায়।
বিরোধের ফলে শারীরিক ঝগড়া হয় এবং জামায়াত-এ-ইসলামি পক্ষের একজন নারী কর্মী আহত হয়। আহত কর্মীকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে যে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়নি, তবে অভিযোগ পাওয়া মাত্র যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
নির্বাচনের নিকটবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ডে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোট কেনাকাটা ও দলীয় সংঘর্ষের মতো অপরাধে কঠোর শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনও ভোটারকে প্রভাবিত করার কোনো প্রচেষ্টা নিষিদ্ধ করে এবং লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কতা দিয়েছে। এই নির্দেশনা সকল রাজনৈতিক সংগঠনের জন্য বাধ্যতামূলক।
হাবিবুর রহমানের সংক্ষিপ্ত কারাবাসের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের ইচ্ছা স্পষ্ট হয়েছে যে, নির্বাচনী সময়ে কোনো ধরনের লালসা বা অনৈতিক আচরণ সহ্য করা হবে না। এই পদক্ষেপ অন্যান্য দলীয় কর্মীদের জন্য উদাহরণস্বরূপ কাজ করবে।
দলীয় বিরোধ ও জনসমাগমের সময়ে সংঘর্ষের ঘটনা ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে শান্তিপূর্ণ প্রচারণা বজায় রাখতে বলা হচ্ছে।
এ পর্যন্ত জামায়াত-এ-ইসলামি ও বিএনপি উভয়ই ঘটনার বিষয়ে কোনো সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করেনি। অধিক তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
১৫ ডিসেম্বর নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন দেশের ১১তম জাতীয় সংসদ গঠন করবে, এবং এই ধরনের বিরোধের বৃদ্ধি নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে। নিরাপদ ও ন্যায়সঙ্গত ভোটদান নিশ্চিত করার জন্য সকল পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।



