প্রোস্পার, টেক্সাসে ১০ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে ২৩ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক লুসি হ্যারিসন তার পিতার গুলিতে নিহত হন। লুসি, চেশায়ার রাজ্যের ওয়ারিংটনের বাসিন্দা, ডালাসের নিকটস্থ বাড়িতে গৃহে গুলি হয়। করোনার আদালত লুসির মৃত্যুকে ‘অবৈধ হত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং তা ‘গুরুতর অবহেলার মাধ্যমে হত্যা’ হিসেবে রায় দিয়েছে।
লুসি হ্যারিসনের গুলির সময় তিনি বুকে গুলি হয়, যা তার পিতা ক্রিস হ্যারিসন গুলি চালানোর ফলে ঘটেছে। ঘটনাস্থলে গুলি চালানোর সময় লুসি দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং গুলি চালানো মানে পিতার বন্দুকটি সরাসরি তার দিকে নির্দেশ করা। গুলি চালানোর পর লুসি তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নেওয়া হয়, তবে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
স্থানীয় পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ‘সম্ভাব্য অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে তদন্ত করে, তবে কলিন কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরি ক্রিস হ্যারিসনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা থেকে বিরত থাকে। গ্র্যান্ড জুরির সিদ্ধান্তে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়নি, ফলে ফৌজদারি আদালতে মামলা দায়ের হয়নি।
লুসির মৃত্যুর পর চেশায়ার করোনার কোর্টে একটি ইনকোয়েস্ট অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে করোনার জ্যাকলিন ডেভোনিশ মামলাটি শোনেন। তিনি রায় দেন যে লুসির মৃত্যু ‘অবৈধ হত্যা’ এবং ‘গুরুতর অবহেলার মাধ্যমে হত্যা’ হিসেবে বিবেচিত। এই রায়ের ভিত্তি হল পিতার গুলি চালানোর সময় কোনো সতর্কতা না নেওয়া এবং সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে বন্দুক নির্দেশ করা।
করোনার জ্যাকলিন ডেভোনিশের মন্তব্যে তিনি বলেন, “বুকে গুলি চালাতে হলে বন্দুকটি সরাসরি তার দিকে নির্দেশ করতে হয়, গুলি চেক না করে ট্রিগার টানা হয়। এই কাজকে তিনি ‘অবিবেচক’ বলে বিবেচনা করেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এই ধরনের আচরণকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ‘অবিবেচক’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
ইনকোয়েস্টে লুসির মা জেন কোয়েটসের চোখে অশ্রু ভাসে। তিনি বলেন, “আজকের রায় লুসির জন্য শেষ পর্যন্ত তার কণ্ঠস্বর ফিরিয়ে এনেছে। এক বছরব্যাপী শোক ও কষ্টের পর আমরা অবশেষে তার সত্যকে স্বীকৃতি পেয়েছি।” জেন কোয়েটস আরও যোগ করেন, “যদিও রায় করোনার কোর্টে দেওয়া হয়েছে, ফৌজদারি আদালতে নয়, তবুও আমরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই এবং লুসির জন্য ন্যায়বিচারকে প্রশংসা করি।”
করোনার রিপোর্টে পিতাকে ‘কার্যকরী মদ্যপ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ক্রিস হ্যারিসন গুলিটি ‘অকস্মাৎ ঘটেছে’ বলে দাবি করেন, তবে ইনকোয়েস্টে তার এই ব্যাখ্যা যথেষ্ট প্রমাণে সমর্থিত না হওয়ায় রায়ে প্রভাব ফেলেনি।
লুসির বয়ফ্রেন্ড স্যাম লিটলার, যিনি লুসির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করছিলেন, ইনকোয়েস্টে জানান যে গুলির আগে লুসি ও তার পিতা ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী অনুষ্ঠানের বিষয়ে তর্কে লিপ্ত হন। লিটলার উল্লেখ করেন, “প্রায় অর্ধ ঘন্টার আগে পিতা লুসিকে হাতে নিয়ে রান্নাঘর থেকে নিচের তলায় নিয়ে গিয়েছিলেন।” এই বিবরণটি গুলির পূর্বে পারিবারিক উত্তেজনা নির্দেশ করে।
বর্তমানে করোনার রায়ের ভিত্তিতে ফৌজদারি তদন্ত পুনরায় খোলা হতে পারে। আইনগত বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, অবৈধ হত্যার রায়ের পর ফৌজদারি আদালতে অতিরিক্ত অভিযোগ আনা সম্ভব, বিশেষত যদি নতুন প্রমাণ উঠে আসে। পরিবার ও সমর্থকরা রায়কে ন্যায়বিচারের প্রথম ধাপ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তবে ভবিষ্যতে কীভাবে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে তা এখনও অনিশ্চিত।
এই ঘটনার পর টেক্সাসের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ গুলির নিরাপত্তা ও পারিবারিক সহিংসতা সম্পর্কে সতর্কতা বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে, যুক্তরাজ্যের দূতাবাস লুসির পরিবারকে সমর্থন জানিয়ে, তার মৃত্যুর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



