20 C
Dhaka
Thursday, February 12, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকবর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও বিএসএফের সমন্বয়ে সীমান্তে মৃত মায়ের দেহ দেখা

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও বিএসএফের সমন্বয়ে সীমান্তে মৃত মায়ের দেহ দেখা

সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যেখানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) একত্রে কাজ করে। ৯৮ বছর বয়সী জরিনা খাতুনের দেহ তার দুই কন্যা, শিরিনা ও আলেয়া, শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পায়।

জরিনা খাতুন, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার ঘোজাডাঙ্গা গ্রাম গফুর মন্ডলের বাসিন্দা, মঙ্গলবার রাতেই বয়সজনিত অসুস্থতার কারণে মারা যান। তার মৃত্যুর খবর তার কন্যাদের কাছে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে তারা বাংলাদেশে বসবাসরত অবস্থায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে সাহায্য চায়।

শিরিনা খাতুন ও আলেয়া খাতুন, দুজনেই বৈবাহিকভাবে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হাড়্দ্ধা (ভাড়ুখালী) গ্রামে বসবাস করেন। মায়ের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে তারা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে অনুরোধ জানায়, একই সঙ্গে ভারতের পারিবারিক পক্ষ থেকেও বিএসএফকে আবেদন করা হয়।

উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটি সংস্থার সমন্বয়ে মানবিক বিবেচনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ৩৩ ব্যাটালিয়নের ভোমরা বিওপি এবং ভারতের ঘোজাডাঙ্গা বিএসএফ ক্যাম্পের সহযোগিতায় জিরো পয়েন্টে দেহ আনার ব্যবস্থা করে। এই সমন্বয়টি সীমান্তে পারস্পরিক সহানুভূতি ও সেবা প্রদানের ঐতিহাসিক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

সীমান্তের জিরো পয়েন্টে দেহ পৌঁছানোর পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও বিএসএফের তত্ত্বাবধানে কন্যারা সীমিত সময়ের জন্য দেহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং শেষ বিদায়ের কথাবার্তা বলেন। সাক্ষাতের পর দেহটি ভারতের দায়িত্বে হস্তান্তর করা হয়, যাতে তা যথাযথ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা যায়।

এই ধরনের মানবিক সহযোগিতা দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সীমান্তে নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি মানবিক বিষয়েও সমন্বয় করা উভয় পক্ষের পারস্পরিক বিশ্বাসকে দৃঢ় করে।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও বিএসএফের এই সমন্বয় পূর্বের বহু সমঝোতার ধারাবাহিকতা, যেখানে সীমান্ত পারাপার রোগী, মৃতদেহ বা দুর্যোগে আক্রান্ত জনগণের জন্য দ্রুত সেবা প্রদান করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি দুই দেশের সীমান্ত নীতি ও মানবিক নীতির সমন্বয়কে প্রতিফলিত করে।

একজন কূটনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সীমান্তে নিরাপত্তা ও সহানুভূতির ভারসাম্য রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ। এটি কেবল দু’দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা বাড়ায় না, বরং ভবিষ্যতে আরও কাঠামোগত প্রোটোকল গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত করে।”

গত বছরও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও বিএসএফের সমন্বয়ে মৃতদেহের বিনিময় এবং রোগী রপ্তানির ক্ষেত্রে সমন্বয় করা হয়েছিল, যা উভয় দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা মডেলকে সমৃদ্ধ করেছে। এই ধারাবাহিকতা দুই দেশের কূটনৈতিক মিথস্ক্রিয়ার একটি মসৃণ রূপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আসন্ন মাসে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও বিএসএফের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি যৌথ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে মানবিক সহায়তা প্রোটোকল ও সীমান্তে জরুরি সেবার মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা হবে। এই উদ্যোগটি ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সুশৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

সামগ্রিকভাবে, ভোমরা সীমান্তে এই মানবিক সমন্বয় দুই দেশের সীমান্ত নীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, যা ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত ও মানবিক সেবার পথ প্রশস্ত করবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments