মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর টেক্সাসের এল পাসো শহরের সীমান্তে ড্রোনের অনুপ্রবেশ থামাতে ব্যবস্থা গ্রহণের পর, ১০ দিনের জন্য বন্ধ করা আকাশীয় সীমা এখন পুনরায় উন্মুক্ত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উড়ান সংস্থার কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে এবং বাণিজ্যিক ভ্রমণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
ড্রোনের অনুপ্রবেশের পর, ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন মঙ্গলবার রাতেই এল পাসো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সকল উড়ানকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করার নির্দেশ দেয়। এই অপ্রত্যাশিত আদেশ স্থানীয় বাসিন্দা ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে বিশাল বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
পরের দিন, বুধবার সকালে ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন জানায় যে সীমাবদ্ধতা বাতিল করা হয়েছে এবং উড়ানগুলো পুনরায় চালু করা যাবে। শহরের কাউন্সিলের সদস্য ক্রিস কানালেস উল্লেখ করেন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে কোনো পূর্বসতর্কতা বা বন্ধের কারণ সম্পর্কে জানানো হয়নি। তিনি বলেন, এই ধরনের হঠাৎ পদক্ষেপের ফলে কিছু মানুষ আতঙ্কিত হয়েছে, বিশেষ করে এল পাসোর অনন্য ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করলে।
ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে দীর্ঘমেয়াদী আকাশ বন্ধের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে; গড়ে চার ঘণ্টার বেশি সময়ের বন্ধ থেকে এখন দুই ঘণ্টার বেশি সময়ে সীমাবদ্ধতা কমে গেছে। তবে এইবারের বন্ধটি ১০ মাইল ব্যাসার্ধে বিস্তৃত ছিল, যার মধ্যে দক্ষিণ নিউ মেক্সিকোর কিছু অংশ এবং সান টেরেসা শহরের পশ্চিমাংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর ড্রোনগুলোকে নিষ্ক্রিয় করার পর, পরিবহন সচিব শিন ডাফি টুইটারে জানিয়েছেন যে হুমকি সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয়েছে এবং অঞ্চলে বাণিজ্যিক ভ্রমণের কোনো ঝুঁকি নেই। তার এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন উড়ানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত নজরদারি চালু করেছে।
এল পাসোর দক্ষিণ-পশ্চিমে মেক্সিকোর সিয়ুদাদ জুয়ারেজ অবস্থিত, আর উত্তরে ফোর্ট ব্লিস ও হোয়াইট স্যান্ডস মিসাইল রেঞ্জের সীমা রয়েছে। ফোর্ট ব্লিস একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, আর হোয়াইট স্যান্ডস মিসাইল রেঞ্জ দেশের বৃহত্তম ভূমি-ভিত্তিক অস্ত্র পরীক্ষা ক্ষেত্র। এই কৌশলগত অবস্থান ড্রোনের অনুপ্রবেশকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
শহরের ফেসবুক পেজে পোস্ট করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে এল পাসো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব উড়ান—বাণিজ্যিক, কার্গো এবং সাধারণ উড়ান—স্থগিত করা হয়েছে। তবে সীমাবদ্ধতা বাতিলের সঙ্গে সঙ্গে এই উড়ানগুলো পুনরায় চালু হয়েছে এবং যাত্রী ও মালামালের চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় সরকার ও ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন উভয়ই ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতি এড়াতে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। বিশেষত, আকাশীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত জরুরি বিজ্ঞপ্তি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলারদের সঙ্গে পূর্বে ভাগ করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এল পাসোর বাসিন্দারা এখন পুনরায় স্বাভাবিক উড়ান সময়সূচি পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করছেন, তবে ড্রোনের অনুপ্রবেশের পেছনের কারণ ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই ধরনের ঘটনা কীভাবে সীমান্তের নিরাপত্তা নীতিতে প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে বিশ্লেষণ করছেন।
সারসংক্ষেপে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের দ্রুত পদক্ষেপ ও ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসনের সীমাবদ্ধতা বাতিলের ফলে এল পাসোর আকাশীয় কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে, এবং বাণিজ্যিক ভ্রমণ পুনরায় নিরাপদ বলে ঘোষিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের হঠাৎ বন্ধের পূর্বে স্থানীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর জন্য নতুন প্রোটোকল তৈরি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।



