20 C
Dhaka
Thursday, February 12, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যইউকে-তে প্রথমবার ভোল্ট পালসড ফিল্ড এব্লেশন সিস্টেম দিয়ে এফিব্রিলেশন চিকিৎসা

ইউকে-তে প্রথমবার ভোল্ট পালসড ফিল্ড এব্লেশন সিস্টেম দিয়ে এফিব্রিলেশন চিকিৎসা

বেলফাস্টের রয়্যাল ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল ইউকে-তে প্রথমবার ভোল্ট পালসড ফিল্ড এব্লেশন (VPA) সিস্টেম ব্যবহার করে এট্রিয়াল ফিব্রিলেশন (AF) রোগীর চিকিৎসা শুরু করেছে। ৬৭ বছর বয়সী মাইকেল রবার্টসন, যিনি পাঁচ বছর আগে এই হৃদযন্ত্রের অনিয়মিত রিদমে আক্রান্ত হয়েছিলেন, নতুন পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনের গুণগত মান উন্নত করার আশা প্রকাশ করেছেন।

এট্রিয়াল ফিব্রিলেশন হল হৃদয়ের রিদমে ব্যাঘাত ঘটিয়ে হৃদস্পন্দন দ্রুত ও অনিয়মিত করে তোলার একটি সাধারণ রোগ, যা যুক্তরাজ্যে প্রায় ১.৪ মিলিয়ন মানুষকে প্রভাবিত করে। রোগীর হৃদস্পন্দন ১০০ বিটের উপরে উঠতে পারে, ফলে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট এবং বুকে অস্বস্তি দেখা দেয়। দীর্ঘমেয়াদে স্ট্রোক ও হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতার ঝুঁকি বাড়ে।

মাইকেল রবার্টসন পাঁচ বছর আগে, ছোট ভাইয়ের হঠাৎ হৃদরোগে মৃত্যুর পর সম্পূর্ণ পরীক্ষা করিয়ে AF রোগ নির্ণয় পান। তিনি বলেন, “সর্বোচ্চ দুই‑তিন মাইল হাঁটতে পারি, আর একশো গজে থেমে গেলেই শ্বাসকষ্ট হয়। সবচেয়ে খারাপ দিনে আমি খুব ক্লান্তি অনুভব করি, হৃদস্পন্দন দ্রুত বাড়ে।” রোগের অস্বস্তি তাকে ছুটিতে যাওয়া এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া থেকে বাধা দিয়েছে।

নতুন VPA পদ্ধতি ঐতিহ্যবাহী রেডিওফ্রিকোয়েন্সি এব্লেশনের তুলনায় দ্রুত কাজ করে এবং রোগীর দেহে কম তাপ উৎপন্ন করে। এই প্রযুক্তি উচ্চ ভোল্টেজের পালস ব্যবহার করে অনিয়মিত ইলেকট্রিক সিগন্যালের উৎসকে নিরাপদে বন্ধ করে, ফলে হৃদয়ের স্বাভাবিক রিদম পুনরুদ্ধার হয়।

রয়্যাল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের চিকিৎসক দল উল্লেখ করেন, VPA সিস্টেমের মাধ্যমে একদিনে তিনজন রোগী পর্যন্ত চিকিৎসা করা সম্ভব, যেখানে পুরনো পদ্ধতিতে সাধারণত একজনই করা যায়। এছাড়া রোগীকে কনশিয়াস সেডেশন (হালকা নিদ্রা) দিয়ে কাজ করা হয়, ফলে অ্যানেস্থেসিয়োলজিস্টের উপস্থিতি প্রয়োজন হয় না। রোগী একই দিনে ভর্তি ও ছাড়াই বাড়ি ফিরতে পারেন, যা হাসপাতালের বিছানার চাপ কমায়।

মাইকেল এই নতুন পদ্ধতি নিয়ে আশাবাদী, যদিও তিনি স্বীকার করেন “কিছুটা ভয় আছে, তবে স্টাফের দক্ষতায় আমার সম্পূর্ণ বিশ্বাস আছে।” তিনি আশা করেন, এব্লেশন সফল হলে তার হৃদয়ের রিদম স্বাভাবিক হয়ে যাবে এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে আর বাধা পাবেন না।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানান, AF রোগে হৃদয়ের স্বাভাবিক গতি ৬০ থেকে ১০০ বিট প্রতি মিনিটের মধ্যে থাকে; রোগে আক্রান্ত হলে এই সংখ্যা প্রায়ই ১০০‑এর উপরে উঠে যায়। অনিয়মিত রিদম রক্তের জমাট বাঁধার সম্ভাবনা বাড়ায়, যা মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে স্ট্রোকের কারণ হতে পারে। তাই সময়মতো সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি।

AF রোগের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে দ্রুত ও অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট এবং বুকে অস্বস্তি অন্তর্ভুক্ত। রোগীর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই উপসর্গগুলো তীব্র হতে পারে, ফলে জীবনযাত্রার মান হ্রাস পায়।

ভোল্ট পালসড ফিল্ড এব্লেশন সিস্টেমের সফল প্রয়োগ যুক্তরাজ্যের অন্যান্য হাসপাতালকে এই প্রযুক্তি গ্রহণের পথে উৎসাহিত করতে পারে। রোগীরা যদি দ্রুত পুনরুদ্ধার পেয়ে দৈনন্দিন কাজকর্মে ফিরে আসতে পারেন, তবে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আপনার মতামত কী? এই নতুন পদ্ধতি আপনার বা আপনার পরিচিতদের জন্য উপকারী হতে পারে কি?

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments