ঢাকা শহরে ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৪.৮ মিলিয়ন মোবাইল ফোন সাবস্ক্রাইবার শহর ত্যাগ করেছেন, যা আগামীকাল নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডামের প্রস্তুতি নির্দেশ করে। এই সংখ্যা দেশীয় মোবাইল অপারেটরদের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে এবং শহরের জনসংখ্যা গত সপ্তাহে তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
অপারেটরদের মতে, ফেব্রুয়ারি ৯ তারিখের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে সাবস্ক্রাইবারদের স্থানান্তর বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং আজ পর্যন্ত মোট সংখ্যা ৪৮ লক্ষের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যান নির্বাচনের আগে ভোটারদের গৃহভ্রমণকে সরাসরি প্রতিফলিত করে। তথ্যগুলো কোনো অনুমান নয়, সরাসরি নেটওয়ার্ক রেকর্ড থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করছেন, বহু ভোটার তাদের নিজস্ব গ্রাম বা শহরে ফিরে গিয়ে ভোট দিতে চান, ফলে শহরের জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। গৃহভ্রমণ সাধারণত নির্বাচনের আগে বাড়ে, এবং এই বছরেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে, শহরের ভিড় কমে যাওয়া এবং পরিবহন ব্যবস্থার ওপর চাপ কমে যাওয়া প্রত্যাশিত।
গাবতলী টোল কালেক্টরের মতে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত বাস টার্মিনাল থেকে সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ১,১০০ থেকে ১,২০০টি বাস রওনা হয়। তবে গত দুই দিনে এই সংখ্যা দ্বিগুণের কাছাকাছি বৃদ্ধি পেয়ে ২,০০০ থেকে ২,২০০টি বাস রওনা হয়েছে। এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি টার্মিনালের কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
বর্ধিত বাস চলাচল শহরের সড়ক ব্যবস্থায় সাময়িক জ্যাম সৃষ্টি করেছে, তবে একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে ভোটারদের দ্রুত পৌঁছানোর সুযোগ দিয়েছে। বাস কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত গাড়ি যুক্ত করে চাহিদা মেটাতে চেষ্টা করছে।
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও বিশাল ভিড় দেখা গেছে; নদীর পথে যাত্রা করা মানুষদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বহু পরিবার নদীর পথে গিয়ে তাদের গ্রামভূমিতে পৌঁছাচ্ছেন, যা ঐতিহ্যবাহী গমনপথের পুনর্জীবন ঘটাচ্ছে। লঞ্চে অপেক্ষার সময় দীর্ঘ হলেও, নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়েছে।
রেলওয়ে সেবাও ভিড়ের মুখে পড়েছে; ট্রেনগুলো সম্পূর্ণ ভর্তি এবং কিছু যাত্রী ছাদে চড়ে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, তবে তারা অতিরিক্ত ট্রেন চালু করে চাপ কমানোর চেষ্টা করছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে।
শহরের সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোও এই বিশাল গৃহভ্রমণকে লক্ষ্য করে সাময়িক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, বাস ও ট্রেনের সময়সূচি সমন্বয়, এবং জরুরি সেবার প্রস্তুতি বাড়ানো হয়েছে। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য ভোটারদের নিরাপদ ও সময়মত গন্তব্যে পৌঁছানো নিশ্চিত করা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই বৃহৎ পরিসরের গৃহভ্রমণ ভোটার উপস্থিতি ও ভোটের প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়। নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে এই চলাচল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, কারণ ভোটারদের স্থানান্তরিত হওয়া ভোটের গতি পরিবর্তন করতে পারে। তাই নির্বাচন কমিশন ও নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য এই সময়ে পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় কাজ বাড়বে।
অধিকাংশ কর্তৃপক্ষ গৃহভ্রমণকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে স্বীকার করে, তবে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, রেলওয়ে সিকিউরিটি, এবং নদী পরিবহন সংস্থার সমন্বয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়েছে। আগামীকাল নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডাম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ার জন্য এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



