বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জারি করে ভোটারদের গুজবের প্রতি অমনোযোগী হয়ে নির্ভয়ে ভোট দিতে আহ্বান জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গুজব ও অপপ্রচার ভোটারদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাই ভোটারদেরকে নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করার জন্য সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমিশন জানিয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন চ্যানেলের মাধ্যমে একটি গোষ্ঠী গুজব ছড়িয়ে ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এই গোষ্ঠীর কার্যক্রমে ভুয়া তথ্য, ভয়ভীতি সৃষ্টিকারী পোস্ট এবং ভোটের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভুল ধারণা অন্তর্ভুক্ত। গুজবের মূল উদ্দেশ্যকে ভোটের স্বচ্ছতা ও ফলাফলের বৈধতা ক্ষুন্ন করা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই গুজবের মধ্যে ভোটের তারিখ পরিবর্তন, ভোটার তালিকায় হেরফের এবং ফলাফল গোপন করার দাবি অন্তর্ভুক্ত।
গুজবের প্রভাব কমাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে তৎপর করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাপিড রেসপন্স টিম এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী নির্বাচনের দিন পুরো দেশে পর্যবেক্ষণ ও সহায়তা প্রদান করবে। এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো অশান্তি প্রতিরোধ করা লক্ষ্য। বিশেষ করে নির্বাচনের পূর্ববর্তী দিনগুলোতে তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য হুমকি চিহ্নিত করা হবে।
কমিশন ভোটারদেরকে অনুরোধ করেছে যে, গুজবের কোনো স্রোতে আটকে না থেকে নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার ব্যবহার করুন। ভোটদান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা বজায় রাখতে সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভোটারদেরকে জানানো হয়েছে যে, ভোটের সময় কোনো ধরনের হুমকি বা চাপের মুখে না পড়তে হবে। ভোটারদেরকে অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমেই সঠিক তথ্যের জন্য কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও হটলাইন ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের তৃতীয় পর্যায়ের ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল ৭:৩০ থেকে বিকাল ৪:৩০ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এই দিন দেশে মোট ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোট নেওয়া হবে, তবে শেরপুর-৩ আসনটি এইবারের গণভোট থেকে বাদ রাখা হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনটি পূর্ববর্তী নির্বাচনে বিশেষ পরিস্থিতির কারণে পুনরায় নির্ধারণের জন্য বাদ রাখা হয়েছে। ভোটারদেরকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ভোটদান সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।
নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হবে। ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ভোটের ফলাফল দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে ঘোষণা করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রস্তুত রয়েছে। ভোটকেন্দ্রের ভিতরে ও বাইরে পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে যাতে কোনো অনিয়ম দ্রুত ধরা যায়।
রাজনৈতিক দলগুলিও গুজবের প্রভাব কমাতে ভোটারদেরকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে উৎসাহিত করেছে। বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা ভোটের দিন কোনো ধরণের হিংসা বা ভয়ভীতি ছড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কিছু দল বিশেষভাবে যুবক ভোটারদের গুজবের প্রতি সতর্ক থাকতে এবং সঠিক তথ্য যাচাই করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। এ ধরনের সমন্বিত প্রচেষ্টা গুজবের বিস্তার রোধে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গুজবমুক্ত ও নিরাপদ ভোটদান নিশ্চিত করা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদি ভোটাররা গুজবের প্রতি অমনোযোগী হয়ে নির্ভয়ে ভোট দেন, তবে ফলাফলকে বৈধতা ও স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। কমিশন ভবিষ্যতে গুজবের উত্স সনাক্ত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গুজবের প্রভাব কমাতে মিডিয়া সংস্থা ও সিভিল সোসাইটি গ্রুপের সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য প্রচার করা হবে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন গুজবের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে এবং ভোটারদের সঠিক তথ্য প্রদান করতে চলমান প্রচারণা চালিয়ে যাবে। ভোটের দিন নাগাদ গুজবের কোনো নতুন ধারা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধন ও বিরোধী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গুজবের বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে, সামাজিক প্ল্যাটফর্মগুলোকে অবৈধ কন্টেন্ট সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এভাবে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাখার লক্ষ্য অর্জিত হবে।



