20 C
Dhaka
Thursday, February 12, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবরিশাল‑৩-এ এবি প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে বিএনপি কর্মীদের হামলা

বরিশাল‑৩-এ এবি প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে বিএনপি কর্মীদের হামলা

বারোই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের পূর্বদিন, বুধবার সকাল ১১টার দিকে বরিশাল‑৩ (বাবুগঞ্জ‑মুলাদী) নির্বাচনী এলাকা মাধবপাশা ইউনিয়নের এবি পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ভুইয়ার (ফুয়াদ) এর প্রধান কার্যালয়ে দলীয় কর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। একই সময়ে, বিএনপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত ২৫‑৩০ জনের একটি দল মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ঐ কার্যালয়ে প্রবেশ করে এবং হিংসাত্মকভাবে ভাঙচুর শুরু করে।

আক্রমণকারী দলটি কয়েকটি মোটরসাইকেল করে আসা সত্ত্বেও, তারা দ্রুত কার্যালয়ের আসবাবপত্র, চেয়ার, টেবিল ও অন্যান্য সামগ্রী ভেঙে ফেলতে থাকে। কাগজপত্র ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং কর্মীদের ওপর হুমকি জানিয়ে বলা হয় যে ভোটের পর তাদের অবস্থান স্পষ্ট করা হবে। এই ঘটনার ফলে এলাকার বাসিন্দা ও ভোটারদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।

এবিএ পার্টির জেলা ও মহানগর সমন্বয়ক জি.এম. রাব্বি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জানিয়েছেন, বিএনপি কর্মীরা মাধবপাশা ইউনিয়নের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে হিংসা ব্যবহার করে ভোটারদের ভয় দেখাতে চেয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের আক্রমণ ভোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করে এবং দেশের শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যের বিপরীত। রাব্বি আরও বলেন, ঘটনাটি নির্বাচন কমিশনের কাছে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।

বরিশাল বিমানবন্দর থানা মিজানুর রহমানের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সাথেই পুলিশ দল উপস্থিত হয় এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। তিনি উল্লেখ করেন, কার্যালয়ের কিছু চেয়ার ভেঙে ফেলা এবং কাগজপত্রের বিশৃঙ্খলা লক্ষ্য করা গেছে, তবে কোনো গুরুতর শারীরিক ক্ষতি রিপোর্ট করা হয়নি। পুলিশ এখনো আক্রমণকারীদের সনাক্তকরণ ও গ্রেফতার করার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বাবুগঞ্জ উপজেলার বিএনপি আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান ঘটনাটির প্রতি গম্ভীর দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে, তিনি বলেন যে তাদের কোনো কর্মী কার্যালয় ভাঙার কাজের সঙ্গে যুক্ত নয় এবং এই ধরনের অভিযোগের ভিত্তি স্পষ্ট নয়। তিনি দাবি করেন, বিএনপি দলের সদস্যরা শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং কোনো হিংসা বা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়।

বরিশাল‑৩ আসনে এবি পার্টির প্রার্থী আসাদুজ্জামানের পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদিন (বিএনপি) এবং তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য গলাম কিবরিয়া (জাতীয় পার্টি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গলাম কিবরিয়া বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, তবে তার পরিবার নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত। এই প্রেক্ষাপটে দুই প্রধান দলই ভোটের আগে শক্তিশালী উপস্থিতি বজায় রাখতে চায়।

ভোটের আগের দিন এ ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ঘটনাটি নথিভুক্ত করেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। উভয় দলই ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আইনগত পদক্ষেপের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।

অবশিষ্ট সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা অব্যাহত থাকবে এবং নির্বাচনী অফিসগুলোতে অতিরিক্ত রক্ষাকবচ স্থাপন করা হবে। ভোটের দিন নাগাদ পরিস্থিতি শীতল না হলে, নির্বাচন কমিশন অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘটনার পরবর্তী দিকনির্দেশনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, তাই সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছ থেকে শান্তিপূর্ণ ও আইনগত আচরণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments