সৈয়দপুরের ঠাকুরগাঁও জেলায় জামায়াত-এ-ইসলামি’র আমিরকে আটক করেছে যে কর্তৃপক্ষ, তাদেরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ বুধবার সন্ধ্যায় মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় জানান।
বিকাল ৬টায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে জামায়াত-এ-ইসলামি’র প্রতিনিধি দল ইসিতে উপস্থিত হয়ে তাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। বৈঠকের পর মিডিয়ার প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব এ বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা দেন।
ইসি সচিবের মতে, প্রতিনিধি দল স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করার পরামর্শ চেয়েছিল এবং তারা তা অনুসরণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। দলটি ইসির হস্তক্ষেপের অনুরোধও জানায়, যার জন্য সচিব যথাসাধ্য তাগিদ দেবেন বলে জানান।
মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ৫ কোটি টাকা নিয়ে যাওয়ার গুজবের প্রতিক্রিয়ায় ইসি সচিব স্পষ্ট করে বলেন, তিনি এমন কোনো মন্তব্য করেননি এবং তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই এবং তিনি ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।
এছাড়া, আটক করা ব্যক্তির বিষয়ে মন্তব্যের অধিকার তার নেই বলে তিনি জোর দিয়ে বলেন। তিনি যুক্তি দেন, যারা আটক করেছে তাদেরই আইনি ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে।
অধিক তথ্য জানানো হয় যে, আটক জামায়াত-এ-ইসলামি’র আমিরের কাছ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী ৭৪ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রথমে ৫০ লাখ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল, তবে পরবর্তী গণনায় মোট পরিমাণ বাড়িয়ে ৭৪ লাখ টাকা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা জানান, বড় পরিমাণ নগদ অর্থ বহন করে জামায়াত-এ-ইসলামি’র আমিরকে আটক করা হয় এবং পর্যালোচনার পর মোট ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া গেছে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগিব সামাদ উল্লেখ করেন, অভ্যন্তরীণ রুটে যেকোনো পরিমাণ নগদ বহন করা যায় এবং এর ওপর কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। তিনি বলেন, এ ধরনের অর্থের পরিবহন নিয়ে কোনো আইনগত বাধা নেই।
বিমানবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে, তারা এই বিষয়টি পর্যালোচনা করে কোনো আপত্তি জানায়নি। ফলে, আটক জামায়াত-এ-ইসলামি’র আমিরের সঙ্গে থাকা নগদ অর্থের বিষয়ে কোনো বাধা সৃষ্টি হয়নি।
এখন পর্যন্ত আটককারী কর্তৃপক্ষের আইনি ব্যাখ্যা এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।



