ডিউক অফ ইয়র্ক অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসর, যিনি ২০১০ সালে যুক্তরাজ্যের ট্রেড এনভয় হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তিনি ডেসেম্বরে জেফ্রি এফস্টিনকে একটি গোপনীয় ব্রিফিং পাঠিয়েছিলেন। এই নথিতে হেলম্যান্ড প্রদেশে স্বর্ণ ও ইউরেনিয়ামসহ উচ্চমূল্যের বাণিজ্যিক সুযোগের বিশদ বিবরণ ছিল। নথিটি যুক্তরাজ্যের সরকারি কর্মকর্তাদের দ্বারা প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং অ্যান্ড্রুকে বিশেষভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
ব্রিফিংটি এফস্টিনের ফাইলের সর্বশেষ ইমেল সংগ্রহে পাওয়া যায়, যেখানে অ্যান্ড্রু নথিটিকে “confidential” বলে উল্লেখ করেছেন। ইমেলটি দেখায় যে তিনি এই তথ্যটি এফস্টিনের সঙ্গে শেয়ার করার সময় গোপনীয়তা বজায় রাখার কথা উল্লেখ করেছেন। নথির বিষয়বস্তু হেলম্যান্ডের খনি সম্ভাবনা, বিনিয়োগের রিটার্ন এবং অঞ্চলীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত করে।
অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসর পূর্বে এফস্টিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে কোনো অবৈধ কাজের অস্বীকার করেছেন এবং ট্রেড এনভয় হিসেবে তার দায়িত্বকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করার কোনো ইঙ্গিত প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেন যে তিনি কোনো নীতি লঙ্ঘন করেননি এবং শেয়ার করা নথিগুলি সরকারি কাজের অংশ ছিল।
সেই সময়ের ব্যবসা সচিব স্যার ভিন্স ক্যাবল এই নথি শেয়ারকে “অসহনীয় আচরণ” বলে সমালোচনা করেন। ক্যাবল উল্লেখ করেন যে সরকারি তথ্যকে ব্যক্তিগত ব্যক্তির সঙ্গে ভাগ করা নৈতিক ও আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে অনুচিত। তার মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি জনমত ও মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
থেমস ভ্যালি পুলিশ ইতিমধ্যে এই নথি শেয়ারিংয়ের সম্ভাব্য লঙ্ঘন নিয়ে তদন্তের সম্ভাবনা মূল্যায়ন করছে। পুলিশ সংস্থা জানিয়েছে যে তারা অ্যান্ড্রুর ট্রেড এনভয় সময়কালের নথি শেয়ারিংয়ের প্রাসঙ্গিকতা ও আইনগত দিক বিশ্লেষণ করবে। তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যতে প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
এফস্টিনের ফাইল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্ড্রু এফস্টিনকে শুধুমাত্র আফগানিস্তানের ব্রিফই না দিয়ে সিঙ্গাপুর, হংকং এবং ভিয়েতনাম সফরের সরকারি রিপোর্টও পাঠিয়েছিলেন। এই রিপোর্টগুলোতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যিক সুযোগ, বিনিয়োগ নীতি এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিবরণ ছিল।
একই ইমেল চেইনে দেখা যায়, সিঙ্গাপুর ও হংকং সফরের রিপোর্ট পাঠানোর কয়েক সেকেন্ড পর অ্যান্ড্রু আরেকটি ফাইলের ব্যাচ “Overseas bids” শিরোনামে এফস্টিনকে পাঠিয়েছিলেন। এই ফাইলগুলো জিপ ফরম্যাটে সংরক্ষিত ছিল এবং সম্ভবত বহু ডকুমেন্ট ও ডেটা অন্তর্ভুক্ত করত।
হেলম্যান্ডের ব্রিফটি বিশেষভাবে যুক্তরাজ্যের সরকারী কর্মকর্তাদের দ্বারা অ্যান্ড্রুর জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এতে অঞ্চলটির ভূগোল, সম্পদ, নিরাপত্তা অবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাব্য রিটার্নের বিশদ বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। নথিটি তখনকার যুক্তরাজ্যের আফগানিস্তান পুনর্নির্মাণে রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
অ্যান্ড্রু এই নথির সঙ্গে একটি নোট সংযুক্ত করে এফস্টিনকে জানিয়েছিলেন যে এটি “গোপনীয় ব্রিফ” এবং শুধুমাত্র নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত। নোটে তিনি উল্লেখ করেন যে এই তথ্যটি সরকারী সূত্র থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং যথাযথ গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে।
এই প্রকাশের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অ্যান্ড্রুর ভবিষ্যৎ ভূমিকা ও রাজার পরিবারের সুনাম নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। যদি তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায় যে তিনি সরকারি তথ্যকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছেন, তবে তা রাজার পরিবারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
অবশিষ্ট প্রশ্নগুলো হল, থেমস ভ্যালি পুলিশের তদন্তের ফলাফল কী হবে এবং যুক্তরাজ্যের সরকার কীভাবে এই ধরনের তথ্য শেয়ারিংকে নিয়ন্ত্রণ করবে। পাশাপাশি, অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসর এই বিষয়ের ওপর কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা অতিরিক্ত মন্তব্য প্রদান করবেন কিনা তা নজরে থাকবে। ভবিষ্যতে এই ঘটনা রাজার পরিবারের জনমত ও রাজনৈতিক অবস্থানে কী প্রভাব ফেলবে তা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।



