গত রবিবার থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর দল ভূমজাইথাই পার্টি বিশাল জয় অর্জন করেছে, তবে ভোট গণনা প্রক্রিয়ায় অসংগতি ও পুনর্গণনা দাবির অভিযোগ বাড়ছে। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর দেশব্যাপী রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্রতর হয়েছে, কারণ বহু আসনে ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, ৫০০ আসনের সংসদে ভূমজাইথাই পার্টি ১৯৩টি আসনে অগ্রগতি করেছে, যা প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি। তবে কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেনি, ফলে পার্টিগুলো চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে।
দ্বিতীয় স্থানে থাকা পিপলস পার্টি ফলাফল মেনে নিলেও, ১৮টি আসনে পুনর্গণনা করার দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে পুনরায় গণনা চেয়েছে। পার্টি দাবি করে যে এই আসনগুলোতে ভোটের গুনতি সঠিকভাবে না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তৃতীয় স্থানে থাকা ফেউ থাই পার্টি জনসাধারণের সন্দেহের এলাকায় পুনঃপর্যালোচনা করার পক্ষে মত প্রকাশ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
সামরিকপন্থী ইউনাইটেড থাই নেশন পার্টি পুরো দেশ জুড়ে পুনর্গণনা করার দাবি তুলে ধরেছে, যুক্তি দিয়ে যে ভোটের ফলাফলকে সকলের কাছে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে এই পদক্ষেপ অপরিহার্য। পার্টি উল্লেখ করেছে যে পুনর্গণনা না করা হলে নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
পিপলস পার্টির বিজয়ী প্রার্থী রুকচানক শ্রীনর্গ বলেন, যদি নির্বাচন কমিশন কোনো ভুল না করে থাকে, তবে পুনর্গণনা ফলাফল পরিবর্তন করবে না, তাই স্বচ্ছতা দেখাতে পুনর্গণনা করা উচিত। তিনি আরও যোগ করেন, পুনর্গণনা না করা হলে জনগণের কাছে ফলাফলকে অযৌক্তিক বলে ধারণা তৈরি হতে পারে।
থাইল্যান্ডের আইন অনুসারে, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ৬০ দিনের মধ্যে অনুমোদন ও প্রকাশ করতে হবে, তবে এখনো কমিশন আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য প্রস্তুত হয়নি। এই বিলম্বের ফলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে এবং বিভিন্ন দল পুনর্গণনা বা আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ডেমোক্র্যাট পার্টির নেতা অভিসিত ভেজ্জাজিভা সতর্ক করে বলেন, দ্রুত স্বচ্ছতা না দিলে জনগণের নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা ক্ষয়প্রাপ্ত হবে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়বে। তিনি উল্লেখ করেন, অন্য দেশে অনুরূপ পরিস্থিতিতে ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হলে সরকারী কাঠামোতে বড় ধাক্কা লেগেছে।
নির্বাচন কমিশন বুধবার পর্যন্ত ১১৩টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেয়েছে, যার মধ্যে ভোটের গুনতি, ভোটার তালিকা এবং ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত। কমিশন জানিয়েছে যে সব অভিযোগ বর্তমানে তদন্তাধীন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কমিশনের উপ-মহাসচিব ফাসাকর্ন সিরিফাকায়াপর্ন জানান, কোনো কেন্দ্রের সমস্যার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষ অভিযোগ দাখিল করতে পারবে এবং কমিশন ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি যোগ করেন, ফলাফলকে সঠিকভাবে যাচাই করা না হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষক সংস্থা ভোট৬২ দেশজুড়ে ৫,০০০টির বেশি অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে, যার মধ্যে এক হাজারের বেশি ক্ষেত্রে সরকারী ফলাফল ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের হিসাবের মধ্যে পার্থক্য পাওয়া গেছে। সংস্থা দাবি করে যে এই পার্থক্যগুলো ভোটের গুনতি পদ্ধতি, ফলাফল সংকলন এবং কেন্দ্রীয় রিপোর্টিং সিস্টেমে ত্রুটির ইঙ্গিত দেয়।
এই সব অভিযোগ ও পুনর্গণনা দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। যদি কমিশন দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পুনর্গণনা বা সংশোধনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে, তবে নির্বাচনের বৈধতা বজায় থাকবে; অন্যথায়, রাজনৈতিক বিরোধ ও আইনি চ্যালেঞ্জ বাড়তে পারে।



