22 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ভোটার ভয়ভীতি মামলায় থানায় এজাহার

মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ভোটার ভয়ভীতি মামলায় থানায় এজাহার

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের প্রাক্তন সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী এবং ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ভোটারকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে পুলিশে এজাহার করা হয়েছে। এ অভিযোগটি মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতের দিকে রাইসুল ইসলাম আখন্দ নামের এক ভুক্তভোগী বাদী দাখিল করেন।

দেবিদ্বার থানা থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন ওসিটি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, যিনি এ মামলায় সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। এজাহার প্রক্রিয়ায় উভয়কে থানার রেজিস্টারে নাম রেকর্ড করা হয়েছে এবং তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই মামলার পটভূমি হল ৯ ফেব্রুয়ারি রাতের ঘটনা, যখন দেবিদ্বার উপজেলার বাকসার বাজারে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ভোটারদের সামনে ভয় দেখিয়ে কিছু বক্তব্য রাখেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। তার ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

ভিডিওতে দেখা যায়, মুন্সী নির্বাচনী সময়ে ভোটারদেরকে নির্দিষ্টভাবে আচরণ করতে বলার পাশাপাশি তাদেরকে হুমকি দেওয়ার ইঙ্গিত দেন। এই ধরনের আচরণকে নির্বাচন আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর, বিএনপি পার্টির শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা অনুসরণ করে মুন্সীকে সব পদ থেকে বহিষ্কার করে দেয়। পার্টি কর্তৃপক্ষের মতে, তার কাজ পার্টির শৃঙ্খলা ও নৈতিক মানদণ্ডের বিরোধী এবং তাই কঠোর শাস্তি প্রয়োজনীয় ছিল।

অতিরিক্তভাবে, কুমিল্লা-৪ আসনের জন্য তার মনোনয়নও বাতিল করা হয়েছে। পার্টি জানিয়েছে, মুন্সী পূর্বে ঋণখেলাপির অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন, যা তার নির্বাচনী যোগ্যতাকে প্রভাবিত করেছে এবং তাই তার নাম তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিএনপি এই পদক্ষেপকে পার্টির শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছে, তবে কিছু পার্টি কর্মীর মতে এটি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি অংশও হতে পারে। তারা দাবি করে, আইনগত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় কোনো পক্ষপাতদুষ্টতা না রেখে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা উচিত।

পুলিশের দৃষ্টিকোণ থেকে, ভোটার ভয়ভীতি একটি গুরুতর অপরাধ এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এজাহার করা হলে তদন্তের পর প্রয়োজনীয় শাস্তি আরোপ করা হবে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে।

এই মামলার ফলাফল কুমিল্লা-৪ আসনের রাজনৈতিক পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। যদি মুন্সী ও জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে পার্টির প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন আসবে এবং ভোটারদের আস্থা পুনর্গঠনে পার্টিকে নতুন কৌশল গ্রহণ করতে হবে।

অন্যদিকে, বিএনপি যদি এই মামলাকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করে, তবে পার্টির মধ্যে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও জনমত গঠনেও প্রভাব পড়তে পারে। তাই উভয় পক্ষই আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য নজর রাখবে।

সামগ্রিকভাবে, ভোটার ভয়ভীতি মামলায় এজাহার করা একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ, যা নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে তদন্তের ফলাফল এবং আদালতের রায় কুমিল্লা-৪ আসনের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments