22 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজামাতের থাকুরগাঁও আমীরের ৭৪ লক্ষ টাকা সহ সাইদপুরে গ্রেফতারকে ‘মঞ্চস্থ নাটক’ বলে...

জামাতের থাকুরগাঁও আমীরের ৭৪ লক্ষ টাকা সহ সাইদপুরে গ্রেফতারকে ‘মঞ্চস্থ নাটক’ বলে অভিযোগ

থাকুরগাঁও জেলায় জামাত‑ই‑ইসলামির আমীর বেলাল উদ্দিন প্রবোধকে আজ দুপুর ১২টায় নিলফামারী জেলার সাইদপুর বিমানবন্দরে প্রায় ৭৪ লক্ষ টাকা নগদসহ গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত বেলালকে পরে তিনি অসুস্থ বোধ করার পর নিলফামারীর আপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, এ কথা নিলফামারী সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিশ শেখ জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন।

জামাতের সহকারী সচিব জেনারেল আহসানুল মাহবুব জুবায়ের, যিনি কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান, আজ ঢাকা মঘবাজারে পার্টির কেন্দ্রীয় অফিসে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পরিকল্পিত ‘মঞ্চস্থ নাটক’ বলে সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বেলালকে নগদসহ গ্রেফতার করা একটি কৌশলগত চাল, যা জামাত‑ই‑ইসলামি ও তার নেতাদের প্রতি সন্দেহের ছায়া ফেলতে চায়, বিশেষত আগামীকাল নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে।

সম্মেলনে জুবায়ের জানান, বেলালকে বিমানবন্দরে নগদ বহন করার সময় গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগিব সামাদ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক, থেকে কোনো আপত্তি না জানিয়ে অনুমোদন পত্র (নো‑অবজেকশন সার্টিফিকেট) পেয়েছিলেন। তিনি এ তথ্যকে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, গ্রেফতারটি পূর্বনির্ধারিত এবং অযৌক্তিক পদক্ষেপ, যা জামাতের সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

জুবায়ের আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে জামাতের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের ওপর বিভিন্ন আক্রমণ ও হেনস্থা ঘটেছে, যার মধ্যে নারী কর্মীদের উপর অনুপযুক্ত আচরণও অন্তর্ভুক্ত। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের একটি অংশ নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পক্ষে ঝুঁকে আছে এবং নির্বাচনী পরিবেশকে বিকৃত করতে একতরফা সুবিধা প্রদান করছে।

এদিকে, নিলফামারী এসপির মতে, বেলালকে গ্রেফতার করার পর তিনি অস্বস্তি বোধ করেন, তাই আপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। গ্রেফতার প্রক্রিয়া ও নগদ পরিমাণ সম্পর্কে অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য না করে তিনি বিষয়টি সংক্ষেপে উপস্থাপন করেন।

জামাতের পক্ষ থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি আহ্বান জানানো হয় যে, তারা তাদের দায়িত্ব পালনকালে নিরপেক্ষতা বজায় রাখুক। জুবায়ের জোর দিয়ে বলেন, কোনো সংস্থা যদি একতরফা ভূমিকা গ্রহণ করে, তবে তা জনমতকে বিরূপভাবে প্রভাবিত করবে এবং শেষ পর্যন্ত তাদের ন্যায়বিচারিক দায়িত্বের মুখোমুখি হতে হবে।

এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট। নির্বাচনের দিন নিকটে, জামাতের নেতাদের গ্রেফতার ও নগদ জব্দের ঘটনা পার্টির প্রচার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং ভোটারদের মধ্যে পার্টি সম্পর্কে সন্দেহ বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, সরকারী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর পক্ষপাতের অভিযোগ বাড়লে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী, সকল রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা বাধ্যতামূলক, এবং কোনো সংস্থা যদি একতরফা আচরণ করে, তবে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে। জামাতের এই অভিযোগের পর, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে গ্রেফতার প্রক্রিয়ার বৈধতা ও নগদ জব্দের কারণ স্পষ্ট হয়।

সামগ্রিকভাবে, আজকের ঘটনার মাধ্যমে জামাত‑ই‑ইসলামি তার নেতৃত্বের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে, এবং নির্বাচনের পূর্বে সকল পক্ষকে ন্যায়সঙ্গত ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়টি কীভাবে সমাধান হবে, তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের স্থিতিশীলতা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments