বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বুধবার সকাল ১১টায় জামায়াত-এ-ইসলামি সদর দফতরে ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে চীনা নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের একটি প্রতিনিধিমণ্ডলীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সাক্ষাৎকারের মূল উদ্দেশ্য ছিল আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর্যবেক্ষণ পরিকল্পনা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন আলোচনা করা।
চীনের কূটনৈতিক মন্ডলীর একজন বিশিষ্ট সদস্য চেন ওয়েই নেতৃত্বাধীন চারজনের দলটি ঢাকায় উপস্থিত হয়। দলটির মধ্যে উচ্চপদস্থ কূটনীতিক ও নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত, যারা সরাসরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন এবং ফলাফলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করবেন।
দলটি বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সংযোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই সফরটি পরিকল্পনা করেছে। বৈঠকে তারা উল্লেখ করেন যে, উভয় দেশের সরকার ও জনগণ সমন্বয়ে একটি স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং এ ধরনের সহযোগিতা দু’দেশের পারস্পরিক আস্থা বাড়াবে।
চীনা প্রতিনিধিদল ভবিষ্যতে দু’দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা প্রকাশ করে। তারা উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের ফলাফল উভয় দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং তা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশকে সমৃদ্ধ করবে।
বৈঠকে জামায়াত-এ-ইসলামির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। তিনি দলটির সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন এবং পার্টির দৃষ্টিকোণ থেকে নির্বাচনের গুরুত্ব ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার সাইফ উদ্দিন খালেদও বৈঠকে অংশ নেন। তিনি নির্বাচনের আইনি কাঠামো, ভোটার তালিকা যাচাই প্রক্রিয়া এবং ফলাফল ঘোষণার স্বচ্ছতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন, যা চীনা পর্যবেক্ষক দলের কাজকে সহজতর করবে।
জামায়াত-এ-ইসলামির পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. মাহমুদুল হাসানও উপস্থিত ছিলেন। তিনি চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা, বাণিজ্যিক বিনিময় ও কূটনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মতামত শেয়ার করেন।
চীনা পর্যবেক্ষক দল আগামীকাল নির্বাচনের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানায়। তাদের মিশনের লক্ষ্য হল নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা, পাশাপাশি ভোটারদের অংশগ্রহণের হার বাড়াতে সহায়তা করা।
বৈঠকের সময় উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভোটার তালিকা যাচাই এবং ফলাফল ঘোষণার স্বচ্ছতা সম্পর্কে মতবিনিময় করেন। এই আলোচনায় উভয় দেশের অভিজ্ঞতা ও সর্বোত্তম চর্চা শেয়ার করা হয়, যা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনায় সহায়ক হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ৩১০টি আসন নির্ধারিত এবং প্রায় ১.১ কোটি ভোটার অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি ফলাফলের বৈধতা বাড়াবে।
এই বৈঠকটি বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চীনের পর্যবেক্ষক দলের অংশগ্রহণ নির্বাচনের বৈধতা ও ফলাফলের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করতে পারে এবং ভবিষ্যতে আরও বহুপাক্ষিক পর্যবেক্ষণ মিশনের দরজা খুলে দিতে পারে।
দুই দেশের কূটনৈতিক মন্ত্রণালয়গুলো ভবিষ্যতে আরও উচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতা ও বিনিময় প্রোগ্রাম চালু করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং বাণিজ্যিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা উভয় দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
বৈঠকের সমাপ্তিতে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা আগামী সপ্তাহে ফলাফল বিশ্লেষণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য একটি সমন্বয় সভা করার প্রস্তাব রাখে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত, এবং চীনা পর্যবেক্ষক দল তাদের মিশন সমাপ্তির পর একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেবে।



