পারমাণবিক যুদ্ধের সম্ভাবনা যখন আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পপ সংস্কৃতির ছাপ স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এই সংস্কৃতি কল্পনা, চিত্র ও ভাষার মাধ্যমে ধ্বংসের চিত্র গড়ে তুলেছে, যা অধিকাংশ সময়ে বিশ্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি গঠন করে।
১৯৪৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো “ডুমসডে ক্লক” ধারণা উপস্থাপন করেন। হিরোশিমা ও নাগাসাকির পরপরই এই ঘড়ি তৈরি হয়, যাতে মানবজাতি কতটুকু সময় বেঁচে আছে তা প্রকাশ করা যায়। প্রথমবার চালু হলে ঘড়ির কাঁটা রাত বারোটা থেকে মাত্র সাত মিনিট দূরে ছিল।
সেই সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র ছিল না, ফলে বিশ্বে একধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। তবে ১৯৪৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর, মার্কিন বিজ্ঞানীরা ঘড়ির কাঁটা আরও এগিয়ে নেন, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়।
এরপর কিউবান মিসাইল সংকট, ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং ভারত ও চীনের পারমাণবিক ক্ষমতা অর্জনের সময়ে ঘড়ির কাঁটা বারোটা সময়ের খুব কাছাকাছি ঘুরে দাঁড়ায়। প্রতিটি সংকটের পর ঘড়ি আবারও অগ্রসর হয়, যা বিশ্বকে ক্রমাগত সতর্ক করে রাখে।
১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে সাময়িক স্বস্তি দেখা গেল, তবে পরবর্তী বছরগুলোতে ঘড়ির কাঁটা আবারও সেকেন্ডের পার্থক্যে নিকটবর্তী হয়ে দাঁড়ায়। ২০১৮ সাল থেকে ঘড়ির কাঁটা রাত বারোটা থেকে মাত্র ১০০ থেকে ৯০ সেকেন্ডের দূরত্বে অবস্থান করছে, যা পূর্বের তুলনায় আরও তীব্র সংকেত দেয়।
আজকের প্রজন্ম তথ্যের বন্যায় বসবাস করছে; সংবাদ শিরোনামগুলো সরাসরি মানুষের অনুভূতিতে প্রভাব ফেলে। কোনো সপ্তাহে শান্তি চুক্তির খবর আশা জাগায়, আর পরের সপ্তাহে পারমাণবিক ধ্বংসের সম্ভাবনা নিয়ে ভয় বাড়ে। এই উত্থান-পতন মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা স্ট্যানলি কুবরিকের “ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ” চলচ্চিত্রটি এই বিষয়কে শিল্পের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছে। ছবিতে একটি জেনারেলের অন্ধবিশ্বাস ও যান্ত্রিক ত্রুটি কীভাবে বিশ্বকে ধ্বংসের প্রান্তে নিয়ে যায় তা চিত্রিত হয়েছে, যা দর্শকদের মধ্যে পারমাণবিক ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায়।
বিনোদন ও লাইফস্টাইলের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, এই ধরনের বিষয়বস্তু মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে। সংবাদে অতিরিক্ত ভয় দেখিয়ে না, বাস্তব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আলোচনা করা জরুরি। পাঠকরা যদি তথ্যের সত্যতা যাচাই করে, অতিরিক্ত সংবেদনশীল শিরোনাম থেকে দূরে থাকে, তবে মানসিক ভার কমে যাবে।
প্রতিদিনের জীবনে পারমাণবিক ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ না রাখার জন্য, নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে খবর সংগ্রহ করা এবং সামাজিক মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া অপ্রমাণিত তথ্য থেকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এছাড়া, শান্তি ও অস্ত্রনিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগে অংশগ্রহণ করা ব্যক্তিগতভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সর্বোপরি, ডুমসডে ক্লকের সূচক যদিও ক্রমশ নিকটবর্তী, তবে সচেতনতা ও সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে মানবজাতি এই ঝুঁকি মোকাবেলা করতে পারে। পাঠকদের জন্য পরামর্শ: নিয়মিত সংবাদ যাচাই করুন, অতিরিক্ত ভয়ভীতিকর শিরোনাম থেকে বিরত থাকুন, এবং শান্তি প্রচারের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিন।



