টটেনহ্যাম গত গ্রীষ্মে ড্যানিশ কোচ থমাস ফ্র্যাঙ্ক এবং তার সহায়ক দলকে নিয়োগের জন্য ব্রেন্টফোর্ডকে ৬.৭ মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতিপূরণ প্রদান করেছে বলে ক্লাবের ২০২৪-২৫ আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে জানা যায়। ফ্র্যাঙ্ককে তিন বছরের চুক্তি দিয়ে টটেনহ্যাম তার পূর্ব কোচ অ্যানজে পোস্টেকোগ্লোর পরিবর্তে নিয়োগ করেছিল। তবে মাত্র আট মাস পর, বুধবার সকালে কোচকে পদত্যাগের আদেশ দেওয়া হয়।
ব্রেন্টফোর্ডের আর্থিক বিবরণীতে উল্লেখ আছে যে, ক্লাবকে “অন-ফিল্ড স্টাফের প্রস্থান সংক্রান্ত গ্যারান্টি কম্পেনসেশন” হিসেবে ৬.৭ মিলিয়ন পাউন্ড প্রাপ্তি হয়েছে। যদিও ফ্র্যাঙ্কের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, বিশ্লেষকরা এই পরিমাণকে টটেনহ্যামের কোচ এবং তার সহায়ক স্টাফদের জন্য প্রদত্ত ক্ষতিপূরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে।
ফ্র্যাঙ্কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সহকারী কোচ জাস্টিন কোক্রেন, ক্রিস হ্যাসলাম এবং জো নিউটন, যারা একই সময়ে টটেনহ্যাম চলে গেছেন। তাদের চুক্তি ফ্র্যাঙ্কের চুক্তির সঙ্গে যুক্ত ছিল, ফলে ক্লাবকে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে।
টটেনহ্যাম বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগে ১৬তম স্থানে রয়েছে এবং ড্রপ জোনের থেকে পাঁচ পয়েন্ট উপরে আছে। দলটি ১৭টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুইটি জিতেছে, যা বর্তমান পারফরম্যান্সের সংকটজনক অবস্থা নির্দেশ করে। মঙ্গলবার রাতে নিউক্যাসলকে ঘরে ২-১ হারের পর ফ্র্যাঙ্কের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ব্রেন্টফোর্ডের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ক্লাবের মোট টার্নওভার ১৭৩ মিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছেছে, যা রেকর্ড উচ্চতা। তবে খেলোয়াড়দের বেতন ও অন্যান্য খরচ বাড়ার ফলে অপারেটিং ক্ষতি ৪০ মিলিয়ন পাউন্ডে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ক্লাবের খেলোয়াড় বিক্রয় থেকে ২৭ মিলিয়ন পাউন্ড লাভ হয়েছে, তবে এই পরিমাণে সাম্প্রতিক মৌসুমে বিক্রি হওয়া ব্রায়ান এমবেও, ইয়োয়ান উইসা এবং ক্রিশ্চিয়ান নর্গার্ডের ফি অন্তর্ভুক্ত নয়, যেগুলো আর্থিক বছরের পরেই সম্পন্ন হয়েছে। এই তিনজনের বিক্রয় টটেনহ্যাম ও ব্রেন্টফোর্ড উভয়েরই আর্থিক অবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্রেন্টফোর্ডের মালিক মেথিউ বেনহাম ক্লাবের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরেছেন, যেখানে দলটি প্রথমবারের মতো ডেলয়েট মানি লিগে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই তালিকায় স্থান পাওয়া ক্লাবের আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নির্দেশ করে।
টটেনহ্যাম যে ৬.৭ মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতিপূরণ প্রদান করেছে, তা ক্লাবের আর্থিক পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলেছে। ফ্র্যাঙ্কের চুক্তি তিন বছর ছিল, তবে তার অকাল পদত্যাগের ফলে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে, যা ক্লাবের ব্যালেন্স শিটে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, টটেনহ্যামের বর্তমান পারফরম্যান্স ও আর্থিক চাপের মধ্যে কোচের পরিবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্লাবের ব্যবস্থাপনা এখন নতুন কোচের সন্ধানে রয়েছে, যাতে দলকে রিলিগেশন ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা যায়।
ব্রেন্টফোর্ডের আর্থিক প্রতিবেদনের প্রকাশের ফলে টটেনহ্যামের এই বড় ক্ষতিপূরণ পরিমাণ জনসাধারণের নজরে এসেছে, যা ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বাজেটিংয়ে প্রভাব ফেলবে। আর্থিক দিক থেকে ক্লাবকে এখনো সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, বিশেষ করে খেলোয়াড়দের বেতন ও ট্রান্সফার ব্যয়ের ক্ষেত্রে।
প্রিমিয়ার লিগের পরবর্তী রাউন্ডে টটেনহ্যামকে কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে, যাতে তারা রিলিগেশন জোন থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পারে। নতুন কোচের নিয়োগ ও কৌশলগত পরিবর্তন দলকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে, তবে তা আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে সম্ভব হবে কিনা তা এখনো অনিশ্চিত।



