ঢাকার বনানী এলাকায় আজ বিকেলে একটি নতুন প্রাণী চিকিৎসা কেন্দ্রের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বাওয়া) পরিচালিত এই ক্লিনিকটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেবা প্রদান করবে এবং উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান ও বাওয়ার প্রধান পৃষ্ঠপোষক তরিক রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বাওয়া সংস্থা প্রাণী ও প্রকৃতির সুরক্ষায় কাজ করে এবং দেশের সব প্রাণীর জন্য নিরাপদ বাসস্থান গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখে। এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সংস্থা সম্প্রতি প্রাণী চিকিৎসা, জরুরি সেবা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেছে।
নতুন ক্লিনিকটি বনানীর কে ব্লক, ২৪ নম্বর (লেকপাড়) সড়কের ১৮ নম্বর ভবনে অবস্থিত। ভবনের প্রথম তলায় অপেক্ষাকৃত বড় একটি রিসেপশন এলাকা, পরের তলায় রোগী পরীক্ষা, শল্যচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য পৃথক কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রাণীপ্রেমীরা ইতিমধ্যে এই সুবিধা সম্পর্কে জানিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
ক্লিনিকের মূল উদ্দেশ্য হল পথচলা প্রাণী, গৃহপালিত প্রাণী এবং আহত বা অসুস্থ প্রাণীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা। বাওয়া উল্লেখ করেছে, এ ধরনের সেবা প্রাণীর মৃত্যুর হার কমাতে এবং রোগের দ্রুত সনাক্তকরণে সহায়তা করবে।
বাওয়া এছাড়াও একটি ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করেছে, যা শহরের বিভিন্ন স্থানে আহত প্রাণীদের দ্রুত পৌঁছে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। এই সেবাটি বিশেষত রাতের বেলা বা ট্র্যাফিক জ্যামযুক্ত এলাকায় জরুরি সাহায্য প্রদান করতে সক্ষম।
নতুন ক্লিনিকের মাধ্যমে বাওয়া আশা করে যে, প্রাণী সুরক্ষার প্রতি মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং সমাজে দায়িত্বশীল পোষণ সংস্কৃতি গড়ে উঠবে। বিনামূল্যে সেবা প্রদান করে সংস্থা বিশ্বাস করে যে, অধিক মানুষ প্রাণী চিকিৎসা ও রক্ষণাবেক্ষণে আগ্রহী হবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তরিক রহমান ক্লিনিকের বিভিন্ন কক্ষ পর্যবেক্ষণ করেন এবং উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রাণীর স্বাস্থ্য রক্ষা করা মানে মানব সমাজের স্বাস্থ্যের সুরক্ষার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
পর্যবেক্ষণের সময় তিনি ক্লিনিকের আধুনিক সরঞ্জাম, স্টেরাইল পরিবেশ এবং প্রশিক্ষিত কর্মীদের প্রশংসা করেন। তরিকের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শহরের প্রাণী কল্যাণে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে।
বাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ক্লিনিকটি সম্পূর্ণভাবে দান ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমর্থনে পরিচালিত হবে। ভবিষ্যতে সংস্থা আরও বেশি অঞ্চলে একই রকম ফ্রি ক্লিনিক স্থাপন করার পরিকল্পনা করছে, যাতে দেশের সব কোণে প্রাণী চিকিৎসা সেবা পৌঁছায়।
প্রাণী সুরক্ষার ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বাড়াতে বাওয়া নিয়মিত কর্মশালা, সেমিনার এবং স্কুলে শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম চালু করে। এই ক্লিনিকের উদ্বোধন সেই প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে নাগরিকদেরও এই সেবার ব্যবহার ও প্রচার করা গুরুত্বপূর্ণ। যারা প্রাণী রক্ষা ও চিকিৎসা সেবা সম্পর্কে আরও জানতে চান, তারা বাওয়ার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অথবা সরাসরি ক্লিনিকের যোগাযোগ নম্বরে তথ্য নিতে পারেন।
প্রাণী স্বাস্থ্য সেবা বিনামূল্যে পাওয়া সম্ভব হওয়ায়, আপনার পোষা প্রাণী বা পথে দেখা প্রাণীর কোনো জরুরি সমস্যায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। আপনি কি আপনার এলাকায় এমন কোনো সেবা প্রত্যাশা করেন? আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং প্রাণী কল্যাণে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত হন।



