ঘানা সরকার বুধবারকে ‘ফুগু দিবস’ করে নির্ধারণ করেছে, যাতে দেশের ঐতিহ্যবাহী ফুগু পোশাকটি সাপ্তাহিকভাবে পরিধান করা হয়। এই সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়েছে যখন সাম্প্রতিক সময়ে জাম্বিয়ার সঙ্গে অনলাইন বিতর্কের পর ফুগু নিয়ে আলোচনা তীব্রতা পেয়েছিল। সরকার এই উদ্যোগের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়কে আন্তর্জাতিক মঞ্চে গর্বের সঙ্গে উপস্থাপন করতে চায়।
ফুগু পোশাকটি প্রথম নজরে আসে যখন রাষ্ট্রপতি জন দ্রামানি মাহামা জাম্বিয়ার রাষ্ট্রভ্রমণের সময় এটি পরিধান করেন। জাম্বিয়ান ব্যবহারকারীরা তা নিয়ে মজার ছলে “ব্লাউজ” বলে মন্তব্য করে, যা ঘানার নাগরিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। সামাজিক মাধ্যমে ঘানার নাগরিক, বিশেষ করে সংসদ সদস্যরা দ্রুতই তাদের ফুগু প্রদর্শন করে গর্ব প্রকাশ করেন।
এই অনলাইন বিতর্কের ফলে ঘানার পর্যটন মন্ত্রী আবলা দজিফা গোমাশি বুধবারের সিদ্ধান্তের পক্ষে মত প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সাপ্তাহিকভাবে ফুগু পরিধান করা দেশের সংস্কৃতিকে গর্বের সঙ্গে বিশ্বে উপস্থাপন করবে এবং বিভিন্ন নকশা ও অলংকারের মাধ্যমে এর বৈচিত্র্যকে তুলে ধরবে। গোমাশি আরও বলেন, এই প্রচার স্থানীয় বুননকার, ডিজাইনার, শিল্পী এবং বিক্রেতাদের জন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা আনবে।
ফুগু, যা বাটাকারি নামেও পরিচিত, উত্তর ঘানার ঐতিহ্যবাহী একটি টপ। এটি মোটা সুতির সূঁচের ফ্যাব্রিকের সরু স্ট্রিপগুলোকে হাতে বুনে, পরে সেলাই করে পনচো-ধরনের গঠন তৈরি করা হয়। গঠনগতভাবে এটি একটি কাঠামোবদ্ধ পোশাক, যা ঐতিহ্যবাহী নকশা ও আধুনিক ফ্যাশনের সংমিশ্রণ ঘটায়।
মন্ত্রীর মতে, ফুগু সপ্তাহে একবার পরিধান করা জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করবে, সৃজনশীল অর্থনীতিকে ত্বরান্বিত করবে এবং ঘানার সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সমষ্টিগত গ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পের চাহিদা বাড়বে এবং রপ্তানি সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।
জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হাকাইন্দে হিচিলেমা এই বিতর্কের দিকে মনোযোগ দিয়ে জানান, তার দেশ ঘানার ফুগু অর্ডার করতে ইচ্ছুক। একই সময়ে রাষ্ট্রপতি মাহামা ফুগুকে বৃহৎ পরিমাণে জাম্বিয়ায় রপ্তানির প্রস্তাব দেন, যা দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।
ইতিহাসে ফুগু বিশেষ গুরুত্ব বহন করে; ঘানার প্রতিষ্ঠাতা ও প্যান-আফ্রিকান নেতা ক্বামা নক্রুমা ১৯৫৭ সালের স্বাধীনতা দিবসে এই পোশাকটি পরিধান করেছিলেন। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বর্তমান উদ্যোগকে অতীতের গৌরবের সঙ্গে সংযুক্ত করে, যা জাতীয় গর্বের নতুন স্তর গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
সপ্তাহিক ফুগু দিবসের কার্যকরী পরিকল্পনা শীঘ্রই প্রকাশিত হবে, যেখানে সরকারি সংস্থা, বেসরকারি শিল্পী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ঘানা তার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আধুনিক সমাজে সংযুক্ত করে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজস্ব পরিচয়কে দৃঢ় করার লক্ষ্য রাখছে।



