27 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজাতিসংঘ ১৩তম সংসদ নির্বাচনে নারীর নিরাপদ অংশগ্রহণের আহ্বান জানালেন

জাতিসংঘ ১৩তম সংসদ নির্বাচনে নারীর নিরাপদ অংশগ্রহণের আহ্বান জানালেন

জাতিসংঘ ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পূর্বে নারীর নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থবহ অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। এই আহ্বান ১১ ফেব্রুয়ারি এক সরকারি বার্তায় প্রকাশিত হয়। দেশীয় নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নারীর মৌলিক অধিকার রক্ষার লক্ষ্য স্পষ্ট করা হয়েছে।

বাংলাদেশে জাতিসংঘের কার্যালয় জোর দিয়ে বলেছে যে নিরাপদ ও সমান অংশগ্রহণ সব নাগরিকের মৌলিক অধিকার, বিশেষ করে নারী ও মেয়েদের জন্য অপরিহার্য। এতে প্রতিবন্ধী নারী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারী, লিঙ্গভিন্ন পরিচয়ের ব্যক্তিরা এবং যাঁরা লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার উচ্চ ঝুঁকিতে আছেন, তাদের অধিকারও অন্তর্ভুক্ত। এই গোষ্ঠীগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সমগ্র গণতন্ত্রের বৈধতা ক্ষুণ্ন হবে।

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন নারী সংগঠন ও নাগরিক সমাজ নারী প্রার্থী ও ভোটারদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হয়রানির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গৃহীত হয়রানি ও হুমকি সম্পর্কে তারা সতর্কতা জানিয়েছে। জাতিসংঘ এই উদ্বেগগুলোকে স্বীকার করে যথাযথ মনোযোগের আহ্বান জানিয়েছে।

জাতিসংঘ দীর্ঘদিন ধরে নারী প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্ব বাড়াতে কাজ করে আসছে এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে। তদুপরি, কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করে প্রার্থী ও ভোটারদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। এই সহযোগিতা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ সব রাজনৈতিক দল, নেতা ও তাদের সমর্থকদের আহ্বান জানিয়েছে যে নির্বাচনী প্রচারণা ও ভোটদান সময়ে নারীর প্রতি কোনো ধরনের হয়রানি, সহিংসতা বা ভয়ভীতি প্রদর্শন না করা উচিত। এই নীতি নারী প্রার্থী ও সাধারণ ভোটার উভয়ের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের ভিত্তি।

জাতিসংঘের মতে, নিরাপত্তা, আইনের শাসন ও ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। সরকার যদি এই দায়িত্ব পালন করে, তবে নারীর অংশগ্রহণে কোনো বাধা না থেকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী হবে। জাতিসংঘ সরকারকে সমর্থন জানিয়ে এই লক্ষ্য অর্জনে সহযোগিতা করবে।

এই আহ্বানকে বাস্তবায়নের জন্য জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক দল গঠন, হটলাইন স্থাপন এবং অনলাইন হুমকি শনাক্তকরণের জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করার পরিকল্পনা করেছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণে উৎসাহিত করা হবে। তদুপরি, প্রার্থীদের নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি করাও অগ্রাধিকার।

প্রতিবন্ধী নারী ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছে। লিঙ্গভিন্ন পরিচয়ের ব্যক্তিদের জন্য নিরাপদ ভোটদান কেন্দ্র এবং গোপনীয়তা রক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের এই উদ্যোগের ফলে ১৩তম সংসদ নির্বাচনে নারীর ভোটদান হার ও প্রার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিয়েছেন। তবে বাস্তবিক প্রভাব নির্ভর করবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের গতি উপর। তদুপরি, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ভোটার অংশগ্রহণে হ্রাসের ঝুঁকি রয়ে যাবে।

আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন জাতিসংঘ সরকার ও নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখবে এবং প্রয়োজনীয় সমর্থন প্রদান করবে। সকল অংশগ্রহণকারীর জন্য সমান সুযোগ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা শেষ পর্যন্ত দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments