27 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধলাহোর হাইকোর্টে বাংলাদেশ‑গামী ফ্লাইট থেকে অবৈধ অবতরণে ফিয়ার বিরুদ্ধে মামলা

লাহোর হাইকোর্টে বাংলাদেশ‑গামী ফ্লাইট থেকে অবৈধ অবতরণে ফিয়ার বিরুদ্ধে মামলা

লাহোর হাই কোর্টে ৫৮ বছর বয়সী রাজিয়া বিবি, যাকে ৩৫ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে জবরদস্তি করে বিক্রি করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়, ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (FIA) এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। তিনি ঢাকা গম্য ফ্লাইটে চড়তে গিয়ে লাহোরের আল্লামা ইকবাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবৈধভাবে অবতরণ করা হয়েছিলেন। মামলায় তিনি এবং তার আইনজীবী ফিয়ার কর্মীদের কোনো স্পষ্ট কারণ না দিয়ে অবতরণ করার জন্য শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন।

মামলাকারী রাজিয়া বিবি, যিনি নিজেকে বাংলাদেশী বলে দাবি করেন, ১৯০০-এর দশকের শেষের দিকে কিশোরী বয়সে জবরদস্তি করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সূত্র অনুযায়ী, তিনি কেরাচিতে বিক্রি হয়ে পরে পাকিস্তানের করাচি শহরে বিক্রেতার সঙ্গে বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী বিবাহিত হন এবং পরে কাসুরে বসতি স্থাপন করেন। এই সময়ে তিনি পাকিস্তানি নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।

বছরের পর বছর পর, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে রাজিয়া তার বাংলাদেশী পরিবারকে পুনরায় খুঁজে পান। তার মা, যিনি বহু বছর ধরে তার সন্ধানে ছিলেন, শেষবারের মতো দেখা করার আবেদন করেন। এই পুনর্মিলনের ইচ্ছা তাকে ঢাকা গম্য ফ্লাইটে চড়তে উদ্বুদ্ধ করে।

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে রাজিয়া আল্লামা ইকবাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান এবং ঢাকা গম্য ফ্লাইটে চড়ার জন্য প্রস্তুত হন। তবে, বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন বিভাগে কাজ করা FIA কর্মীরা তাকে কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে ফ্লাইট থেকে অবতরণ করেন। রাজারি দাবি করেন যে তার পাসপোর্ট ও ভিসা যথাযথভাবে প্রস্তুত ছিল এবং কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি ছিল না।

অবতরণ ঘটার পর রাজিয়া তার আইনজীবী আলি চেঞ্জি সান্ধু মাধ্যমে লাহোর হাই কোর্টে পিটিশন দায়ের করেন। পিটিশনে তিনি FIA-কে অবৈধ অবতরণ করার জন্য জরিমানা আরোপের পাশাপাশি তার টিকিট ও ভিসা ফি ফেরত দেওয়ার দাবি করেন।

পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে যে রাজারি ৩৫ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে জবরদস্তি করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখানে বিক্রি হয়ে বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী বিবাহিত হয়েছিলেন। এরপর তিনি কাসুরে বসতি স্থাপন করে পাকিস্তানি নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশী পরিবারকে পুনরায় খুঁজে পান এবং তার মা সঙ্গে শেষবারের মতো সাক্ষাৎ করতে চান।

রাজারি দাবি করেন যে তিনি অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়ে FIA-র অবৈধ কাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, তবে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি আরও যুক্তি দেন যে শুধুমাত্র তার নয়, সন্দেহভাজন অবৈধ যাত্রা ও মানব পাচারের অভিযোগে হাজার হাজার পাকিস্তানি যুবক-যুবতীকে FIA অবৈধভাবে অবতরণ করেছে।

আইনজীবী সান্ধু উল্লেখ করেন যে, শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে অবতরণ করা আন্তর্জাতিক নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমান। তিনি আদালতকে নির্দেশ দেন যে, রাজারি যেন তার টিকিটের মূল্য ও ভিসা ফি ফেরত পান এবং FIA-কে প্রয়োজনীয় শাস্তি প্রদান করা হোক।

এই মামলার বর্তমান অবস্থা হল লাহোর হাই কোর্টে শুনানি চলমান। আদালত রাজারির পিটিশন পর্যালোচনা করে FIA-র কাজের বৈধতা ও প্রক্রিয়াগত ত্রুটি নির্ণয় করবে। যদি আদালত রাজারির পক্ষে রায় দেয়, তবে এটি মানব পাচার ও অবৈধ অবতরণ সংক্রান্ত নীতি পুনর্বিবেচনার সূচনা হতে পারে।

মামলাটি মানব পাচার, জবরদস্তি ও আন্তর্জাতিক যাত্রা সংক্রান্ত আইনি কাঠামোর ওপর আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে। রাজারির মামলা যদি সফল হয়, তবে এটি ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা মোকাবেলায় FIA-র কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়াতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, রাজারি এবং তার আইনজীবীর দাবি হল FIA-র অবৈধ অবতরণ বন্ধ করা এবং তার ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা। আদালতের রায়ের অপেক্ষা চলমান, এবং এই বিষয়টি উভয় দেশের মানবাধিকার সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরে রয়েছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments