27 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা: নাইজেরিয়ায় প্রায় ২০০ সৈন্য পাঠিয়ে ইসলামপন্থী জঙ্গির মোকাবেলা

যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা: নাইজেরিয়ায় প্রায় ২০০ সৈন্য পাঠিয়ে ইসলামপন্থী জঙ্গির মোকাবেলা

যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, আফ্রিকার বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে প্রায় ২০০ সৈন্যের একটি দল পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা নীতির ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অফিসারটি উল্লেখ করেছেন যে, এই পরিকল্পনা ইতিমধ্যে গৃহীত হয়েছে এবং শীঘ্রই বাস্তবায়িত হবে। রয়টার্সকে দেওয়া এই তথ্যের ভিত্তিতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপটি নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিদ্রোহের মোকাবেলায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল যে, তারা নাইজেরিয়ায় একটি ছোট সেনা দল পাঠিয়েছে, তবে সেই দলের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘোষণাটি ছিল দেশের আকাশে চালিত বিমান হামলার পর প্রথমবারের মতো স্থল সৈন্যের উপস্থিতি স্বীকার করার ইঙ্গিত।

অফিসার আরও জানান যে, ইতিমধ্যে কিছু আমেরিকান সামরিক কর্মী নাইজেরিয়ায় কাজ করছেন এবং নতুনভাবে পাঠানো ২০০ সৈন্য তাদের সঙ্গে যুক্ত হবে। এই সংযোজনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা শেয়ারিং এবং সরাসরি সহায়তা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা কমান্ড রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তৎক্ষণাৎ কোনো উত্তর দেয়নি। তবে সূত্রগুলো ইঙ্গিত করে যে, এই সিদ্ধান্তটি ওয়াশিংটনের উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষণের ফলাফল।

ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের আদেশের কয়েক সপ্তাহ পরই, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর মাধ্যমে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) লক্ষ্যস্থলগুলোতে একাধিক বিমান হামলা চালানো হয়। এই আকাশীয় অভিযানকে পরিপূরক হিসেবে, ভূমি ভিত্তিক সামরিক সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প পূর্বে উল্লেখ করেন যে, নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর কার্যক্রমের ফলে স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা হুমকির মুখে রয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়িয়ে এই অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা চেয়েছিলেন।

নাইজেরিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সরকার জোর দিয়ে বলছে যে, কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত নিপীড়ন নেই এবং ইসলামপন্থী গোষ্ঠী ও অন্যান্য সশস্ত্র সংগঠন উভয়ই খ্রিস্টান ও মুসলিম উভয়ের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে।

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল প্রায় সতেরো বছর ধরে বোকো হারাম এবং ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (আইএসডব্লিউএপি) এর সক্রিয় উপস্থিতির কেন্দ্রবিন্দু। সাম্প্রতিক সময়ে এই গোষ্ঠীগুলো তাদের আক্রমণ তীব্র করেছে, যা স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে।

দেশের মোট জনসংখ্যা ২৩ কোটি অতিক্রম করেছে এবং ধর্মীয় গঠন প্রায় সমান—খ্রিস্টান ও মুসলিম উভয়েরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যা রয়েছে। দক্ষিণে খ্রিস্টানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং উত্তরে মুসলিমদের আধিপত্য এই ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপটি আফ্রিকায় তার সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পূর্বে লিবিয়ায় এবং সোমালিয়ায় সামরিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, এবং এখন নাইজেরিয়ার মতো বড় জনসংখ্যার দেশে সরাসরি ভূমি সৈন্য পাঠানো একটি নতুন মাত্রা।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের ২০০ সৈন্যের দল কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নাইজেরিয়ার প্রশিক্ষণ শিবিরে পৌঁছাবে এবং স্থানীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশিক্ষণ শুরু করবে। পরবর্তী মাইলস্টোন হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অতিরিক্ত সরঞ্জাম সরবরাহ এবং সম্ভাব্য বেসামরিক সহায়তা পরিকল্পনা করা হতে পারে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments