এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এএসিসি) বিশেষ সভায় উপস্থিত হতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল কুয়েতে গমন করেন। সভা বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় এবং দুই দিনের সংক্ষিপ্ত সফরের শেষে তিনি দ্রুতই দেশে ফিরে আসবেন। এ সভা এশিয়ার ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সাম্প্রতিক সংকট মোকাবিলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
বুলবুল গত রাতেই ঢাকা ত্যাগ করে কুয়েতে পৌঁছান। তিনি কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হোটেলে গিয়ে সভার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একজন পরিচালক গণমাধ্যমকে সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং উল্লেখ করেন যে, বুলবুলের উপস্থিতি এশিয়ার সব দেশের ক্রিকেট প্রধানদের সঙ্গে আলোচনার মূল অংশ হবে।
এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের এই বিশেষ সভায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট সংস্থার প্রধানরা একত্রিত হন। মূল আলোচনার বিষয়গুলোতে অঞ্চলীয় টুর্নামেন্টের কাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধি হিসেবে বুলবুলের ভূমিকা হল দেশের অবস্থান স্পষ্ট করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো তুলে ধরা।
সাম্প্রতিক সময়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ অংশ নিতে অস্বীকার করার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অস্থিরতা দেখা দেয়। সেই সময়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের হুঁশিয়ারি জানিয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। তবে বন্ধু দেশগুলোর অনুরোধে পিসিবি শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি বুলবুল ব্যক্তিগতভাবে পাকিস্তানকে মাঠে নামার জন্য অনুরোধ করেন। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয় যে, বাংলাদেশসহ ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোর ইতিবাচক বার্তার প্রেক্ষিতে তারা ভারতের বিপক্ষে খেলতে সম্মত হয়েছে। বুলবুলের কূটনৈতিক তৎপরতা এশিয়ার ক্রিকেট সংহতি বজায় রাখতে সহায়ক হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
কুয়েতে অনুষ্ঠিত এই সভা এশিয়ান ক্রিকেটের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশ না নেওয়ার ফলে টুর্নামেন্টের সূচি পরিবর্তিত হয় এবং এশিয়ার ক্রিকেটে একধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়। এ ধরনের পরিস্থিতি সমাধানের জন্য এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সদস্য দেশগুলো একত্রিত হয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।
সভার দ্বিতীয় দিন শেষে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ঘোষণা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে টুর্নামেন্টের পুনর্গঠন, নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং ভবিষ্যৎ ইভেন্টের সময়সূচি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধি হিসেবে বুলবুলের উপস্থিতি দেশের স্বার্থ রক্ষায় এবং এশিয়ার ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
কুয়েতের সভায় বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট করার পাশাপাশি এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও জোর দেবেন। তিনি উল্লেখ করবেন যে, যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট একটি সংকটের মুখে, তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের জন্য ইতিবাচক সংকেত বহন করে। এ ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অঞ্চলীয় ক্রিকেটের ঐক্য ও সমন্বয়কে শক্তিশালী করবে।
বাংলাদেশের ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা বুলবুলের এই সফরকে ঘনিষ্ঠ নজরে দেখছেন। তারা আশা করছেন যে, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের এই বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণে সহায়ক হবে। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে।
বুলবুলের কুয়েত সফর দুই দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে এবং তিনি ঢাকা ফিরে আসবেন। ফিরে এসে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক দিক থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে নেতৃত্ব দেবেন। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের এই বৈঠক দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে, তাই সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের মনোযোগ এই সভার ফলাফলে কেন্দ্রীভূত থাকবে।



