বগুড়া-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মাসুদ রানা (মজিদ) নন্দীগ্রাম থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশুন গ্রামে জামাত সমর্থকদের আক্রমণে গুরুতর আহত হন; এক চোখের দৃষ্টি হারিয়ে ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা চলছে।
মঙ্গলবার দুপুরে পারশুন গ্রামে প্রায় অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলধারী, লাঠি ও শুঁড়া হাতে জামাত সমর্থকরা রানা পরিবারের বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং রানা-কে মারাত্মক আঘাত হানে। আক্রমণকারীরা পূর্বে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা বেলাল হোসেন ও জামাতের কর্মী ফারুক হোসেনকে আটক করে রানা বাড়িতে রেখে, পরে তাদের সঙ্গে পালিয়ে যায়।
আহত রানা প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হন; তার অবস্থা দ্রুত খারাপ হওয়ায় ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ডান চোখের জটিল আঘাতের ফলে দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।
রানা-র এক চোখের দৃষ্টি হারানোর খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে তার ৬৫ বছর বয়সী মা রাবেয়া বেওয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান। রাবেয়া বেওয়া পারশুন গ্রামের প্রাক্তন মোহাম্মদ আলী আকন্দের স্ত্রী ছিলেন; তিনি রানা-র দৃষ্টিশক্তি হারানোর খবর শোনার পর হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন।
রানা-র ছেলে সিয়াম আকন্দ জানান, বাবার দৃষ্টিশক্তি হারানোর সংবাদ শোনার পর দাদীর হৃদয়বেগে হঠাৎ আঘাত পায় এবং কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তিনি নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
রানা-র স্ত্রী সালমা বেগমকে সঙ্গে সঙ্গে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়; সেখানে ডাক্তারেরা জানায়, ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। পরে রানা-কে ঢাকার চক্ষু ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয় উন্নত শল্যচিকিৎসার জন্য।
আক্রমণের পূর্বে, সোমবার রাতে নন্দীগ্রাম পারশুন গ্রামে জামাত প্রার্থী মোস্তফা ফয়সালের পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা বেলাল হোসেন ও জামাতের কর্মী ফারুক হোসেনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের রানা-র বাড়িতে রাখা হলে রাত ১২টার দিকে জামাত সমর্থকরা আক্রমণ চালিয়ে বাড়িতে ভাঙচুর করে রানা-কে গুরুতর জখম করে।
প্রাথমিকভাবে রানা-কে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে ভর্তি করা হয়; অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। চক্ষু বিভাগের প্রধান পল্লব সেন জানান, রানা-র চোখে জটিল অস্ত্রোপচার প্রয়োজন এবং এক চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে হারিয়ে গেছে।
বগুড়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত পৃথক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি ও জামাত নেতারা ঘটনাটির বর্ণনা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেন। বিএনপি দলের প্রার্থী মোশারফ হোসেন উল্লেখ করেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা এবং জামাতের কর্মীরা একসাথে পারশুন গ্রামে ভোটারদের মধ্যে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছিল।
বিএনপি ও জামাতের মধ্যে তীব্র বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে, উভয় পক্ষই নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার দাবি জানিয়ে আগামী নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানায়। স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটির সম্পূর্ণ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের আইনি দায়িত্ব নিশ্চিত করার কথা প্রকাশ করেছে।
এই ঘটনার ফলে বগুড়া-৪ আসনের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে; নির্বাচনের নিকটবর্তী সময়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলোকে কেন্দ্র করে দলগুলোকে কৌশলগতভাবে সমন্বয় করতে হবে। ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছ তদন্ত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য হবে।



