আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল ও দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল ২০২৬ সালের টি২০ আন্তর্জাতিকের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ১২ ওভারে মাত্র এক উইকেট নিয়ে ১২৪ রান করে লক্ষ্য নির্ধারণ করে, আর আফগানিস্তান শেষ ৮ ওভারে ৬৩ রান যোগ করে প্রতিপক্ষকে চাপিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা ১২৪ রানে জয়লাভ করে।
আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের ব্যাটিং শুরুতে ৫ ওভারে ৫১/২ স্কোরে আটকে যায়। দ্রুত রান বাড়াতে না পারায় দলটি সংকটে পড়ে। চতুর্থ ওভারে প্রোটিয়া স্পিনার জর্জ লিন্ডের ওপর ক্রিজ ছেড়ে একটি ছক্কা মেরেছে, তার আগে এক বলেই চার করে রানের সূচনা করেছিল। পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলেই প্রোটিয়া পেসার এনগিডি জাদরানকে (১০ বলে ১২) বোল্ড করে, এবং পরের বলেই গুলবদিন নাইবকে (০) ক্যাচে পরিণত করে।
চতুর্থ ওভারে নতুন ব্যাটসম্যান সেদিকুল্লাহ আতালকে ক্রিজে পাঠানো হয়, তবে গুরবাজ ১৬ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকে। প্রথম তিন ওভারে আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল ৩৩/০ স্কোরে উঠে, গুরবাজ ২৫* এবং জাদরান ২* দিয়ে শুরুর দৃঢ়তা দেখায়। লুঙ্গি এনগিডি প্রথম ওভারে ১৩ রান সংগ্রহ করে, এবং আফগান ওপেনাররা দু’টি চার মারেন, যার মধ্যে একটি উদ্ভাবনী পিক‑আপ শট।
পরবর্তী ওভারে গুরবাজ মার্কো ইয়ানসেনকে র্যাম্প শটে ছক্কা মারেন, আর তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই কাগিসো রাবাদার করা শটে থার্ডম্যান দিয়ে ছক্কা মেরে আবার একবার শিরোপা জয়ী হন। প্রোটিয়া দলের তিন পেসারকে প্রথম তিন ওভারে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে বাধ্য করেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের ব্যাটিং ১২ ওভারে ১ উইকেট নিয়ে ১২৪ রান সম্পন্ন করে। লক্ষ্য ছিল ২০০ রান, তবে শেষের দিকে আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের বোলিং জোরালো হয়ে ওঠে। শেষ ৮ ওভারে তারা মাত্র ৬৩ রানই যোগাতে পারে। ওমরজাই তিনটি উইকেট এবং রশিদ দুটি উইকেট নেন, যা দক্ষিণ আফ্রিকাকে কঠিন অবস্থায় ফেলে।
দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের ফিফটি রিকেলটন ও ডি কক করে। ডি কক টি‑টুয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে সর্বোচ্চ ৭৩৭ রান করার কীর্তি গড়ে, এবি ডি ভিলিয়ার্সকে অতিক্রম করে।
দক্ষিণ আফ্রিকা ১৮ ওভারে ১৫৯/৫ স্কোরে পৌঁছায়, যেখানে ওমরজাই ১৯ বলের শেষে ২৩ রান করে ব্রেভিসকে ফিরিয়ে আনে। একই ওভারের শেষ বলেই স্টাবসও আউট হন, ফলে ব্যাটিং ইনিংসে দু’টি ওভার বাকি থাকে, এবং দলটি মিলারের ওপর নির্ভর করে।
দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা ১৩ ওভারে ১২৭/৩ স্কোরে থাকে। রশিদ ফেরালেন এক ওভারে ডি কক ও রিকেলটনকে ফিফটি করে, যেখানে ডি কক ক্যাচে আউট হন এবং রিকেলটন এলবিডব্লিউ পান। ডি কক ৫৯ রান, রিকেলটন ৬১ রান করে, আর রশিদ ৩ ওভারে ২৪ রান দিয়ে দুইটি উইকেট নেন।
ডি কক ৩৪ বলের মধ্যে ফিফটি করেন, যা তার টি‑টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পঞ্চম ফিফটি। একই ওভারে রিকেলটন ২৩ বলের মধ্যে ফিফটি করেন, এবং দুজনের জুটি থেকে শতরানও আসে।
দক্ষিণ আফ্রিকা ১০ ওভারে ৯৮/১ স্কোরে পৌঁছায়, যেখানে ডি কক ও রায়ান রিকেলটন ধারাবাহিকভাবে ৮৬ রানের জুটি গড়ে, যদিও তা ৪৫ বলের মধ্যে হয়েছে। ইনিংসের দশম ওভারে প্রথমবার বোলিংয়ে আসা স্পিনার নুর আহমেদ এক ওভার দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গতি দেখান।
ম্যাচের শেষ পর্যায়ে আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল শেষ ৮ ওভারে মাত্র ৬৩ রান যোগাতে পারে, যা দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের লক্ষ্য পূরণে যথেষ্ট না হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা ১২৪ রানে জয়ী হয়ে সিরিজের শুরুর দিকে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেয়।



