27 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিশফিকুর রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা: জামায়াত-এ-ইসলামির নতুন আমিরের জীবনকথা

শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা: জামায়াত-এ-ইসলামির নতুন আমিরের জীবনকথা

শফিকুর রহমান, ৩১ অক্টোবর ১৯৫৮-এ মৌলভীবাজারের কুলাউড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন, এবং ১৯৭৩ সালে জাসদ ছাত্রলীগে যোগ দিয়ে ছাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিন বছর পর তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরে স্থানান্তরিত হন, যদিও জাসদ ছাত্রলীগে তার সক্রিয় অংশগ্রহণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। ১৯৭৪ সালে তিনি এসএসসি এবং ১৯৭৬ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করে সিলেট মেডিকেল কলেজে (পরবর্তীতে ওসমানী মেডিকেল কলেজ) ভর্তি হন, যেখানে তিনি ডাক্তারের পথে অগ্রসর হন।

শফিকুর রহমানের কলেজ জীবনের শেষ পর্যায়ে, সিলেটের এমসি কলেজ (বর্তমানে মুরারিচাঁদ কলেজ) হোস্টেলে তিনি গোপনভাবে কাজ করা একটি ইসলামিক সংগঠনের সঙ্গে পরিচিত হন, যা তাকে জাসদ ছাত্রলীগ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এই গোপন সংস্থার সঙ্গে সাক্ষাৎ তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে এবং পরবর্তীতে তিনি জামায়াত-এ-ইসলামির সঙ্গে যুক্ত হন।

১৯৮৪ সালে তিনি সিলেটের জামায়াত-এ-ইসলামির রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করেন, যখন দলটি স্বাধীনতার বিরোধী নেতাদের শাস্তি এবং যুদ্ধাপরাধের মামলায় শূন্য নেতৃত্বের মুখোমুখি ছিল। শফিকুর রহমান দ্রুত দলের সেক্রেটারি জেনারেল পদে নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে দলটির আমিরের পদে অধিষ্ঠিত হন।

তার নেতৃত্বে জামায়াত-এ-ইসলামি ঐতিহ্যগত সংগঠন কাঠামো ভেঙে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে। দলটি সংখ্যালঘু ও মুক্তিযোদ্ধা গোষ্ঠীর মধ্যে প্রার্থী মনোনয়ন করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে। এই পরিবর্তনকে বিবিসি বাংলার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর উল্লেখ করেন, যেখানে তিনি দলটির ঐতিহাসিক পরিবর্তনকে ‘একটি ভিন্ন ডাইমেনশন’ বলে বর্ণনা করেছেন।

শফিকুর রহমানের পরিবারে তিনজন ভাই এবং একজন বোন রয়েছে; তিনি তৃতীয় সন্তান। তার শৈশব ও শিক্ষাজীবন সিলেটের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গড়ে উঠেছে, যা তার রাজনৈতিক সংযোগের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।

শফিকুরের ছাত্রকালের সময়, তিনি ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের জিএসের পদে জাসদ ছাত্রলীগের প্রতিনিধিত্ব করেন। পরবর্তীতে ডাঃ মুশতাক হোসেন, যিনি ডাকসুর জিএস নির্বাচিত হন, তার সঙ্গে তার সম্পর্ক রাজনৈতিক মঞ্চে উল্লেখযোগ্য হয়ে ওঠে।

জামায়াত-এ-ইসলামির ওয়েবসাইটে শফিকুরের জীবনীতে উল্লেখ আছে যে তিনি ১৯৭৩ সালে জাসদ ছাত্রলীগে যোগদান করেন এবং তিন বছর পরই ইসলামী ছাত্রশিবিরে স্থানান্তরিত হন। তবে দলটির অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, শফিকুরের জাসদ ছাত্রলীগে সক্রিয় ভূমিকা সম্পর্কে কোনো নথি পাওয়া যায়নি।

শফিকুরের রাজনৈতিক উত্থান তার শিক্ষাগত পটভূমি এবং গোপন সংস্থার সঙ্গে সাক্ষাতের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। তিনি মেডিকেল শিক্ষার পাশাপাশি ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন, যা তাকে নেতৃত্বের পথে দ্রুত অগ্রসর হতে সহায়তা করে।

তার নেতৃত্বে জামায়াত-এ-ইসলামি ঐতিহ্যগতভাবে সীমাবদ্ধ থাকা ভোটার গোষ্ঠী থেকে বেরিয়ে এসে বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। দলটি এখন সংখ্যালঘু ও মুক্তিযোদ্ধা গোষ্ঠীর মধ্যে প্রার্থী মনোনয়ন করে, যা পূর্বের কেবল ধর্মীয় ভিত্তিক কৌশল থেকে ভিন্ন।

শফিকুরের নেতৃত্বের ফলে দলটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আটকে না থেকে সবমহলের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। এই পরিবর্তনকে বিশ্লেষকরা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যের একটি নতুন মাত্রা হিসেবে দেখছেন।

শফিকুরের রাজনৈতিক যাত্রা এবং জামায়াত-এ-ইসলামির বর্তমান কৌশল ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রভাব এবং দলীয় কাঠামোর পুনর্গঠনে কী ভূমিকা রাখবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে তার নেতৃত্বে দলটি নতুন দিকনির্দেশে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments