ইলেকশন কমিশন আজ দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটের বাক্সসহ নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ শুরু করেছে, যা আগামীকাল নির্ধারিত ১৩তম জাতীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডামের প্রস্তুতির মূল ধাপ। এই বিতরণ কার্যক্রমের লক্ষ্য হল ভোটের দিন সকল কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
কমিশনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ঢাকা ও অন্যান্য প্রধান শহরের ভোটকেন্দ্রে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোটের বাক্স পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সময়সীমা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রগুলোতে আগাম সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজে একটি বিতরণ কেন্দ্রের দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে ভোটকেন্দ্রের কর্মকর্তারা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং আন্সার সদস্যরা তাদের নিজ নিজ কেন্দ্রের জন্য সামগ্রী গ্রহণের অপেক্ষায় ছিলেন। পরিবেশটি শৃঙ্খলাপূর্ণ এবং সকলের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত ছিল।
সামগ্রী গ্রহণের পর, সহকারী প্রেসিডেন্ট অফিসার জানান যে তারা সকালেই কেন্দ্র পৌঁছে দীর্ঘ সারি পার হয়ে সরবরাহ সংগ্রহ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “প্রাপ্ত সামগ্রী আমরা চেকলিস্টের সঙ্গে তুলনা করে যাচাই করছি, যাতে সবকিছু ঠিকমতো আছে তা নিশ্চিত করা যায়।” এই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই সামগ্রীগুলো সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে বুথ স্থাপন করা হবে।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের জন্য সরবরাহিত সামগ্রী চেকলিস্টের ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হবে এবং কোনো ত্রুটি থাকলে তা সঙ্গে সঙ্গে সংশোধন করা হবে। যাচাই শেষ হলে, দলিল ও বাক্সগুলো দ্রুত ট্রাকের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে ভোটের প্রস্তুতি শেষ করা হবে।
ঢাকা ছাড়াও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে একই রকম বিতরণ কার্যক্রম চলমান। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় স্থানীয় কর্মকর্তারা সমানভাবে সামগ্রী গ্রহণের জন্য অপেক্ষা করছেন এবং চেকলিস্টের ভিত্তিতে যাচাই প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভোটের দিন, অর্থাৎ আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল ৭:৩০ থেকে বিকাল ৪:৩০ পর্যন্ত কোনো বিরতি ছাড়াই ৪২,৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। এই সময়সূচি অনুযায়ী দেশব্যাপী ভোটদান প্রক্রিয়া একসাথে চলবে।
ইলেকশন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১২.৭৭ কোটি ভোটার নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্য, যার মধ্যে ৬.৪৮ কোটি পুরুষ এবং ৬.২৮ কোটি নারী ভোটার অন্তর্ভুক্ত। এই বৃহৎ ভোটার সংখ্যা নিশ্চিত করে যে নির্বাচন ব্যাপক অংশগ্রহণের ভিত্তিতে হবে।
বহু নির্বাচনী এলাকা থেকে ভোট গ্রহণ করা হবে, তবে শেরপুর-৩ নির্বাচনী এলাকায় একজন জামায়াতের প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোটদান স্থগিত করা হয়েছে, ফলে মোট ৩০০টি নির্বাচনী এলাকায় ২৯৯টি এলাকায় ভোট হবে।
বিপক্ষের দলগুলো বিতরণ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও সময়মতো সম্পন্ন হওয়ার কথা স্বীকার করে, তবে তারা জোর দিয়ে বলেছে যে ভোটের দিন পর্যন্ত সকল প্রক্রিয়া ন্যায্য ও নির্ভরযোগ্যভাবে চলতে হবে। তারা বিশেষ করে ভোটের বাক্সের নিরাপত্তা ও গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
এই প্রস্তুতি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, ভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নির্বাচনের ফলাফল সরকারী নীতি, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে। তাই ভোটদাতাদের অংশগ্রহণ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে মূল চাবিকাঠি হবে।



