ধারা ১৩ তম সংসদীয় নির্বাচনের আগের সন্ধ্যায় ঢাকা শহরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সেনাবাহিনী সমন্বিতভাবে গস্তা বাড়িয়ে চেকপয়েন্ট স্থাপন করেছে। মূল চৌরাস্তা ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছে, যাতে ভোটের দিন কোনো অশান্তি না ঘটে।
সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশসহ পুলিশ কর্মীরা গাড়ি থামিয়ে চালকের পরিচয়পত্র ও গন্তব্য যাচাই করছেন। গাড়ি ও যাত্রীদের উপর নিয়মিত গস্তা চালু করা হয়েছে, যা ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে।
সকাল থেকে শহরের ট্রাফিক তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে; অনেক বাসিন্দা গ্রামাঞ্চলে গিয়ে ভোট দিতে রওনা হয়েছে। ফলে রাস্তায় গাড়ির চলাচল কমে গিয়েছে, তবে নিরাপত্তা কর্মীরা এখনও সক্রিয়ভাবে গস্তা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিভিন্ন স্থানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গাড়ি থামিয়ে সন্দেহজনক যাত্রীদের তল্লাশি করছে। গস্তা চলাকালে সন্দেহজনক বস্তু বা অবৈধ সামগ্রী পাওয়া গেলে তা সঙ্গে সঙ্গে নিলাম করা হয়।
পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ একসাথে গাড়ি থামিয়ে যাত্রীদের প্রশ্ন করে যাচাই করছে। গস্তা চলাকালে যাত্রীদের ভোটের উদ্দেশ্য ও গন্তব্য সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা হয়, যাতে কোনো অপ্রয়োজনীয় সংঘর্ষ না হয়।
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বিশেষ গস্তা টিম গাড়ি অনুসন্ধান ও পরিচয়পত্র যাচাই করছে। এখানে গাড়ির ড্রাইভার ও যাত্রীদের পরিচয়পত্র দেখাতে বলা হচ্ছে এবং গাড়ির ভিতরের সামগ্রী পরীক্ষা করা হচ্ছে।
কাওরান বাজার, মিরপুর, উত্তরা, রামপুরা, বানানী ও বাদ্দা সহ অন্যান্য এলাকায়ও একই রকম চেকপয়েন্ট ও গস্তা টিম দেখা গেছে। প্রতিটি এলাকায় গস্তা টিমের সংখ্যা বাড়িয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
মোতিজিল বিভাগীয় ডেপুটি কমিশনার মুহাম্মদ হারুন ও রশিদ জানান, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপয়েন্ট গড়ে তোলা হয়েছে এবং গস্তা টিম নিয়মিত পেট্রোল চালাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ব্যবস্থা ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে অপরিহার্য।
তিনি আরও যোগ করেন, ভোটকেন্দ্র ভিত্তিক দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ কর্মীদের যথাযথ স্থানে পাঠানো হবে। সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশও তাদের দায়িত্ব পালন করবে, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত হয়।
অন্য একটি ডেপুটি কমিশনারের নির্দেশে তার অধীনে থাকা থানা গুলোর কর্মীরা চেকপয়েন্ট স্থাপন ও নিয়মিত গস্তা চালানোর দায়িত্ব পেয়েছে। এই নির্দেশনা আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেওয়া হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, গস্তা ও চেকপয়েন্টের এই ব্যাপক ব্যবস্থা ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা রোধের জন্য নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টা ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
নির্বাচনের দিন পর্যন্ত গস্তা ও গশত ব্যবস্থা বজায় থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ একসাথে কাজ করে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখবে।



