দ্বিতীয় পর্যায়ের সরকার ভোটের আগের দিন দু’টি নতুন মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে, যা টিকেটিং ও প্রবাসী সেবাকে ডিজিটাল করে তুলবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য নাগরিকদের সেবা সরাসরি, স্বচ্ছ এবং সহজলভ্য করা, বিশেষ করে নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে সেবা ব্যাহত না হওয়া নিশ্চিত করা।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যমুনা রিসোর্টে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সামনে আইসিটি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এই দুই পরিষেবা উপস্থাপন করেন। উপদেষ্টার দপ্তর ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের (আইসিটি) কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরীও ছিলেন।
প্রথমে চালু করা হয়েছে “দ্রুত টিকেট” অ্যাপ, যা বাস, ট্রেন ও বিমানযাত্রার টিকেটিং প্রক্রিয়া ডিজিটাল করে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে টিকেটের অর্ডার, পেমেন্ট এবং ই-টিকিটের জেনারেশন একক অ্যাপ থেকে সম্পন্ন করা যায়, ফলে মধ্যস্থতাকারীর হস্তক্ষেপ কমে এবং অনিয়মের সম্ভাবনা হ্রাস পায়।
অ্যাপটি বিশেষভাবে উৎসব-উদযাপন সময়ে কার্যকর থাকবে, যখন টিকেটের চাহিদা বাড়ে এবং অতিরিক্ত লেনদেনের ঝুঁকি থাকে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রিয়েল-টাইম ডেটা আপডেট, টিকেটের স্ট্যাটাস ট্র্যাকিং এবং ই-সার্টিফিকেশন ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। এভাবে ব্যবহারকারীরা টিকেটের বৈধতা দ্রুত যাচাই করতে পারবেন।
দ্বিতীয়টি “শুভেচ্ছা” অ্যাপ, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একাধিক সরকারি সেবা এক জায়গায় সংযুক্ত করে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একশটিরও বেশি নাগরিক সেবা, যেমন পাসপোর্ট নবায়ন, জাতীয় পরিচয়পত্রের আবেদন, ট্যাক্স রিটার্ন জমা এবং বিভিন্ন লাইসেন্সের নবায়ন, সবই মোবাইল থেকে করা সম্ভব।
প্রবাসী নাগরিকদের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা এই অ্যাপটি, বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের সরকারি সেবা গ্রহণে সময় ও খরচ কমাবে। ব্যবহারকারী প্রোফাইলের মাধ্যমে একবার লগইন করে বিভিন্ন সেবার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড এবং ফি পরিশোধ করতে পারবেন, ফলে দূরবর্তী অফিসে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা দূর হবে।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস উল্লেখ করেন, “সরকারের সব সেবা যেন ভোগান্তি ছাড়াই নাগরিকদের কাছে পৌঁছে যায়—এটাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। আজ এই দুটি প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু হলো। এটি কেবল একটি সূচনা।” তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগগুলোকে আরও বৃহৎ পরিসরে নিয়ে যেতে হবে এবং আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে।
উল্লেখযোগ্য যে, উপদেষ্টা ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকারকে এই দুই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে উৎসাহিত করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এই ডিজিটাল সেবাগুলোকে বিস্তৃত করে দেশের সেবা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।
এই অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তারা অ্যাপের প্রযুক্তিগত দিক, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ব্যবহারকারী সহায়তা কেন্দ্রের প্রস্তুতি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত briefing প্রদান করেন।
ডিজিটাল টিকেটিং এবং প্রবাসী সেবা একত্রে চালু করা, বাংলাদেশ সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। টিকেটিং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়িয়ে দুর্নীতি কমানো এবং প্রবাসী নাগরিকদের সেবা সহজ করে সরকারী সেবার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পাবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
প্রবাসী সম্প্রদায়ের জন্য “শুভেচ্ছা” অ্যাপের প্রভাব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এটি দূরবর্তী দেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি সেবা প্রদান করবে। ফলে নাগরিকদের সময় সাশ্রয় হবে এবং সরকারি প্রক্রিয়ার গতি বাড়বে।
অবশেষে, ভোটের আগে এই দুই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সূচনা, বাংলাদেশ সরকারের নাগরিক সেবা আধুনিকায়নের দৃঢ় সংকল্পকে প্রকাশ করে। নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এই সেবাগুলো কীভাবে সম্প্রসারিত হবে এবং ব্যবহারকারীর গ্রহণযোগ্যতা কী রকম হবে, তা দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের মূল সূচক হয়ে থাকবে।



