দিল্লির তিহার জেলে হিন্দি সিনেমার কমেডি অভিনেতা রাজপাল যাদব আত্মসমর্পণ করেন, কারণ তিনি প্রায় ৯ কোটি টাকার চেকবাউন্স মামলায় জড়িত। এই মামলা দশ বছর পুরনো, যেখানে তিনি ২০১০ সালে মুরালি প্রোজেক্টস প্রা. লি. থেকে ৫ কোটি টাকা ধার নিয়েছিলেন তার পরিচালনায় থাকা ‘আটা পাতা লাপাতা’ ছবির জন্য। ছবিটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হওয়ায় ধারককে বড় ক্ষতি হয়, ফলে সুদ, জরিমানা এবং দেরি শাস্তি যোগ হয়ে মোট ঋণ প্রায় ৯ কোটি টাকায় পৌঁছায়।
ঋণ পরিশোধের চেষ্টা হিসেবে যাদব ধারককে একাধিক চেক ইস্যু করেন, কিন্তু সবগুলোই নগদে নগণ্য হয়ে যায়। ফলে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের অধীনে ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়। আদালতে বিষয়টি উত্থাপিত হওয়ার পর দিল্লি হাইকোর্ট ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নির্দেশ দেন যে, যাদবকে ৪ পিএম, ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেল কর্তৃপক্ষের সামনে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
২ ফেব্রুয়ারি আদেশের পর ৫ ফেব্রুয়ারি যাদব আদালতে হাজির হন। তার আইনজীবী আদালতে জানিয়ে দেন যে, তিনি ২৫ লক্ষ টাকার ডিমান্ড ড্রাফট জমা দিতে প্রস্তুত এবং নতুন একটি পরিশোধ পরিকল্পনা অনুসরণ করতে ইচ্ছুক। তবে বিচারক এই প্রস্তাব গ্রহণ না করে আত্মসমর্পণ আদেশ বজায় রাখেন, কারণ তিনি বলেন যে, দয়া ও শৃঙ্খলা সমন্বয় করা দরকার এবং চলচ্চিত্র শিল্পের ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ অব্যাহতি দেওয়া যায় না।
বিচারকের নির্দেশ অনুসারে যাদব তিহার জেলে গিয়ে ছয় মাসের শাস্তি শুরু করেন। জেল কর্তৃপক্ষের মতে, আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়া স্বাভাবিক নিয়ম অনুসারে সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনো বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হয়নি।
যাদবের এই জেলভর্তি সংবাদে চলচ্চিত্র ও রাজনীতির কিছু পরিচিত ব্যক্তিরা আর্থিক সহায়তা প্রকাশ করেন। গেমটিউনস মিউজিকের মালিক ও সঙ্গীত প্রযোজক রাও ইন্দারজীত সিং যাদবকে ১.১ কোটি টাকা সাহায্য করার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, যাদবের কাজ দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে এবং এই কঠিন সময়ে তাকে সমর্থন করা দরকার।
অভিনেতা সোনু সুডও যাদবের পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সহায়তা প্রদান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। যদিও সুনির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি, তবে তিনি যাদবের সমস্যার সমাধানে সবরকম সাহায্য করতে প্রস্তুত বলে জানান।
কমেডি অভিনেতা কামাল আর. খানও যাদবের জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে তার সহায়তার প্রতিশ্রুতি জানিয়ে অনুরোধ করেন যে, সবাই মিলে যাদবের আর্থিক বোঝা কমাতে সাহায্য করুন।
রাজস্থানীয় রাজনীতিবিদ তেজপ্রতাপ যাদবও যাদবের পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক সাহায্য প্রদান করার কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, যাদবের পরিবার ও কর্মজীবন রক্ষা করা সমাজের দায়িত্ব।
এই সকল সহায়তা সত্ত্বেও, আদালত যাদবের আত্মসমর্পণ আদেশ বজায় রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেনি। বিচারিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং শাস্তি সম্পন্ন করা অপরিহার্য, যদিও মানবিক দিক থেকে সহায়তা প্রদান করা সম্ভব।
রাজপাল যাদবের এই মামলায় আর্থিক দায়িত্ব, আইনি শৃঙ্খলা এবং শিল্পজগতের সমর্থন একসঙ্গে দেখা যায়। ভবিষ্যতে তিনি কীভাবে এই আর্থিক বোঝা কমিয়ে নিজের ক্যারিয়ার পুনর্গঠন করবেন, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে তার ভক্ত ও সহকর্মীরা আশা প্রকাশ করছেন যে, এই কঠিন সময়ে সমর্থন ও সহানুভূতি তাকে পুনরুজ্জীবিত করবে।
এই ঘটনার পর, চলচ্চিত্র শিল্পে আর্থিক দায়িত্বের গুরুত্ব এবং আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান বাড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, শিল্পী ও প্রযোজকদের জন্য আর্থিক পরিকল্পনা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।



