রাশিয়া সামরিক বাহিনী খারকিভের পশ্চিমে অবস্থিত বোহোদুখিভ শহরে ড্রোন আক্রমণ চালায়, ফলে অন্তত চারজনের প্রাণ ত্যাগ হয়। মৃতদের মধ্যে দুইজন এক বছর বয়সী ছেলে, দুই বছর বয়সী মেয়ে এবং ৩৪ বছর বয়সী একজন পুরুষ অন্তর্ভুক্ত। এই তথ্য প্রকাশ করেছেন খারকিভ আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেগ সাইনেগুবভ।
সাইনেগুবভের মতে, আক্রমণের সময় পরিবারটি একটি বাড়িতে শিবির স্থাপন করেছিল, যেখানে ড্রোনের সুনির্দিষ্ট আঘাতে ঘরটি ধ্বংস হয়ে যায়। মৃতদের পাশাপাশি ৩৫ বছর বয়সী গর্ভবতী নারী ও ৭৬ বছর বয়সী এক মহিলা আহত হন। আহতদের অবস্থা গুরুতর, তবে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
এই আক্রমণটি রাশিয়া এক সপ্তাহের বিরতির পর পুনরায় চালু করা হামলার অংশ হিসেবে ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে রাশিয়া প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে শীতলতা বজায় রাখতে অনুরোধ করেছিলেন, তবে সেই অনুরোধের পরেও রাশিয়া নতুন আক্রমণ চালিয়ে যায়।
একই দিনে রাশিয়া স্লোভিয়ান্স্ক শহরে সাতটি বোমা ফেলে, যার ফলে দুইজন নিহত হয়, যার মধ্যে ১১ বছর বয়সী এক মেয়ে অন্তর্ভুক্ত। স্লোভিয়ান্স্কের গভার্নর ভাদিম ফিলাশকিন টেলিগ্রামে এই ঘটনার তথ্য শেয়ার করেন।
বোহোদুখিভে রাশিয়ার আক্রমণ সপ্তাহের শুরুর দিকে ইতিমধ্যে ঘটেছিল, যেখানে স্থানীয় অবকাঠামো ও নাগরিকদের ওপর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সোমবার রাতের ড্রোন হামলায় দেশের বিভিন্ন অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং দশ হাজারেরও বেশি পরিবার অন্ধকারে বসে থাকে।
সেই ড্রোন আক্রমণে বোহোদুখিভে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে এক মা ও তার দশ বছর বয়সী পুত্র অন্তর্ভুক্ত। এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনকে গভীর উদ্বেগে ফেলেছে, কারণ শহরটি ইতিমধ্যে ফেব্রুয়ারিতে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
খারকিভের পশ্চিমে অবস্থিত বোহোদুখিভ, ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভের কাছাকাছি, যেখানে ফেব্রুয়ারিতে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বড় ক্ষতি ঘটেছিল। রাশিয়া সামরিক বাহিনী এই অঞ্চলে পরিবহন ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে রেকর্ড সংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, যা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি উল্লেখ করেছেন।
এই ধারাবাহিক আক্রমণের ফলে খারকিভ অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে, বিশেষ করে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া সরকারের শক্তি অবকাঠামো লক্ষ্য করে করা আক্রমণগুলো দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।
এক সপ্তাহ আগে শেষ হওয়া “শক্তি সমঝোতা”র সময় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য একটি অস্থায়ী বিরতি ছিল, যা -২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তা করেছিল। তবে এই সমঝোতা শেষ হওয়ার পর থেকে রাশিয়া পুনরায় তীব্র আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।
জেলেনস্কি উল্লেখ করেছেন, মার্কিন সরকার যুদ্ধের সমাপ্তি জুন মাসের মধ্যে দেখতে চায় এবং উভয় পক্ষকে পরবর্তী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই আলোচনার লক্ষ্য হল সংঘাতের তীব্রতা কমিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করা।
ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীও রাশিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে গেছে। বুধবার রাতে রাশিয়ার ভলগোগ্রাদ অঞ্চলের ভলঝস্কি শহরে বৃহৎ মাত্রার ড্রোন আক্রমণ ঘটেছে, যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করেছে। এই আক্রমণটি রাশিয়ার অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ইউক্রেনের প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাশিয়া সরকার এবং রাশিয়া সামরিক বাহিনীর এই ধারাবাহিক আক্রমণগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যেখানে মানবিক সংকট ও অবকাঠামো ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, ইউক্রেনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও আন্তর্জাতিক সমর্থন এই সংঘাতের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।



